November 19, 2018

নিজের হাতে ভ্রূণ বের করে কমোডে ফ্লাশ টেনেছিল সুরজ

বিনোদন ডেস্কঃঃ আত্মহত্যাই করেছিলেন বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খান। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু অভিনেতা সুরজ পাঞ্চোলির সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তীব্র অবসাদে তিনি আত্মঘাতী হয়েছিলেন। আদালতে পেশ করা চার্জশিটে এমনটাই দাবি করল সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় জিয়াকে কতটা নির্মম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে চার্জশিটে। তাতে দাবি করা হয়েছে, সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসার ভয়ে হাসপাতালে না গিয়ে, জিয়া খানের গর্ভজাত ভ্রূণ নিজে হাতে টেনে বের করে আনেন সুরজ পাঞ্চোলি। যেটা মানসিকভাবে একেবারেই মেনে নিতে পারেননি জিয়া।

২০১৩ সালের ৩ জুন মৃত্যু হয় গজনী ও নিঃশব্দের পার্শ্ব অভিনেত্রী নাফিসা আলি ওরফে জিয়া খানের। সুইসাইড নোটের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বলিউডের আর এক অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজের উপর। তবে, খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় পুলিশ। তাতে সন্তুষ্ট হতে না পেরে CBI-এর তদন্ত চেয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জিয়ার মা রাবেয়া খান। আদালত CBI-এর হাতে তদন্তের ভার তুলে দেয়।

বুধবার সেই মামলায় চার্জশিট পেশ করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর। চার্জশিটে একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা করা হয়েছে, জিয়া যখন চার সপ্তাহের গর্ভবতী তখন তিনি বিষয়টি জানান তাঁর বয়ফ্রেন্ড সুরজ পাঞ্চোলিকে। এরপর তাঁরা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খেয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা করেন। কিন্তু, তাতে গর্ভপাত না হওয়ায়, দুবার সাধারণ ডাক্তার পাল্টে অবশেষে এক গায়নোকোলজিস্টকে দেখান জিয়া।

তাঁর প্রেসক্রাইব করা কড়া ডোজের ওষুধ খেয়ে একদিন জিয়ার ব্লিডিং শুরু হয়। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সুরজকে বলেন হাসপাতালে নিয়ে যেতে। প্রচণ্ড বেদনায় ছটফট করছিলেন জিয়া। তাঁকে অপেক্ষা করতে বলে সেই মহিলা চিকিত্‍‌সককে ফোন করেন সুরজ।

চিকিত্‍‌সক অবিলম্বে জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলেন। তিনি সুরজকে বলেছিলেন, গর্ভপাত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ভ্রূণটি তখনও জিয়ার শরীর থেকে বের হয়নি, সেজন্যই প্রচণ্ড পরিমাণে রক্তপাত হচ্ছে। কিন্তু, ওই অবস্থায় জিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানাজানি হয়ে যাবে, যা তাঁর কেরিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে, এই আশঙ্কায় ডাক্তারের পরামর্শে কান দেননি সুরজ। তিনি নিজে হাতে জিয়ার শরীর থেকে ভ্রূণটি টেনে বের করে এনে, শৌচাগারে ফেলে দেন বলে চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে।

চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, এই গোটা ঘটনা গভীর প্রভাব ফেলে জিয়ার জীবনে। তিনি সুরজের প্রতি অসম্ভব পোসেসিভ ছিলেন। সুরজ সেই ঘটনার পর থেকে জিয়াকে এড়িয়ে চলায় মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েন জিয়া খান। গভীর অবসাদে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

জুহু পুলিশের পেশ করা চার্জশিটে এই ঘটনার উল্লেখ ছিল না। তবে CBI সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলার পর এই ঘটনার সম্পর্কে জানতে পেরেছে। চার্জশিট দেখে তাঁদের আইনজীবী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন সুরজ পাঞ্চোলির মা জারিনা ওয়াহাব।

Related posts