November 16, 2018

নিজেদের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ রাষ্ট্রপতির

image-15977

অনলাইন: গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন‌্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে সংলাপ করার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। আলোচনা বা সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে পারে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে।

মঙ্গলবার ইসি গঠন নিয়ে বঙ্গভবনে খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামা-ই ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এই পরামর্শ দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।

রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে তার প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, গণতন্ত্রের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিকল্প নেই। আর এ জন্য সরকারের পাশাপাশি দেশের সব রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানান এবং নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে গঠনমূলক প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় আজ প্রথম আসেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল। নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে সাত দফা প্রস্তাব পেশ করেন। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেন এবং আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। বাছাই কমিটিতে আলেম সমাজের একজন প্রতিনিধি রাখারও প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া তারা নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতাসহ নিজস্ব সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ও জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।

এরপর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার জন্য বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন। নির্বাচন কমিশন গঠনসংক্রান্ত আলোচনায় বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে দুই দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

তারা বলেন, দেশ ও জাতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির আলোচনার উদ্যোগ জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। নির্বাচন কমিশন যত নিরপেক্ষ হবে, ততই জাতির নিকট আস্থাভাজন হবে। তাঁরা একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে একটি সুস্পষ্ট আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেন। তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত একজন প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগের প্রস্তাব করেন। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগেও তারা বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসির সময় শেষ হচ্ছে। তাই নতুন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছেন আবদুল হামিদ। দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবরই রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। তাদের সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি চর্চার উপরও জোর দিয়ে আসছেন তিনি।

Related posts