December 15, 2018

নিজেদের অবস্থানকে জানান দিয়ে বাংলাদেশকে আইএসের নতুন চ্যালেঞ্জ

ঢাকাঃ  ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিশ্বব্যাপি ত্রাসের সৃষ্টি করে চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ঘন্ডি পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলোতে নিজেদের অবস্থানকে জানান দিতে শুরু করেছে আইএস।

তারই অংশ হিসেবে ফ্রান্স,আমেরিকা,তুরুস্ক,বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের অবস্থানকে জানান দিয়ে একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় ইসলামিক স্টেট আইএস।

বাংলাদেশে চলমান হামলা, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামী, বিদেশিদের হত্যা, মন্দিরের সেবায়েতকে হত্যা, এছাড়া ব্লগার থেকে শুরু করে কবি সাহিত্যিকদের হত্যা সহ বিভিন্নভাবে নিজেদের অবস্থানকে তুলে ধরলেও বাংলাদেশের পক্ষথেকে আইএসের অবস্থানকে সবসময়ই অস্বীকার করে আসছিলো।

সম্প্রতি গুলশানের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে অধিকাংশ বিদেশিদের জিম্মিকরে হত্যার ঘটনায় আইএসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো দোলাচলের মধ্যেই আছে।

তথাপি রাতেই আইএসের দায় স্বীকার, হামলাকারিদের ছবি প্রকাশ, বিভীষিকাময় নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ছবি প্রকাশ ও ২০ জন বিদেশি হত্যার তথ্য প্রকাশ করেছিল আইএস।

আইএসের প্রকাশিত তথ্যসমূহ হত্যাযজ্ঞের ঘটনার বাস্তবতার সাথে অনেকটাই মিলে যাওয়ায় আইএসের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করা যায় না।

আইএস জঙ্গিরা গুলশান কুটনীতি পাড়ায় আর্টিজান বেকারি নামের ক্যাফেতে আঘাত হেনে ১৭ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২২ জনকে হত্যা করে সম্প্রিতির এই বাংলাদেশকে যেনো নতুন চেলেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা যাতে দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং ১৭ জন বিদেশি নিহত হন।

ইসলামিক স্টেট এই হামলার দায় স্বীকার করে এবং ক্যাফেতে জিম্মি সংকটের শুরুতেই জানায় যে তাদের ‘কমান্ডোরা’ ২০ জনকে হত্যা করেছে। পরে এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়।

বাংলাদেশে আইএসের এই হামলা এবং এর আগে তুরস্কের ইস্তাম্বুল ও যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডোতে হামলার ধরণে দেখে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় ক্রমশ ভূখণ্ড হারিয়ে আইএস বিশ্বের অন্যত্র অভিযান জোরদার করেছে।

বাংলাদেশে এই হামলা দেখে আশঙ্কা জাগছে যে এক সময়ের উদারপন্থী দেশটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতার বৃত্তে জড়িয়ে পড়ছে কিনা।

তবে বাংলাদেশ সরকার বারবারই দাবি করছে, হামলায় বিদেশি শক্তি জড়িত নয়, হোম গ্রোন বা দেশীয় জঙ্গিরা ঘটাচ্ছে এসব হামলা।

সম্প্রতি বাংলাদেশে জঙ্গি দমনের জন্য একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ১৯৪ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে আটক হন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ।

সমালোচকরা বলছেন, শুক্রবার গুলশানের ওই হামলার ধরণ এবং ভয়াবহতার পর সরকার হয়তো ‘সব জঙ্গি দেশীয়’ বলার অবস্থান থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।

‘দেশীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা ধারাবাহিকভাবে নাকচ করে দেয়াটা কোন কাজে আসেনি’ বলছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয়েস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

‘আমরা যা দেখছি তা ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে হতে পারে না। এটা স্পষ্টতই একটা সমন্বিত হামলা। তারা (সরকার) যদি এখন অস্বীকার করার প্রবণতা থেকে সরে না আসে, আমি জানি না কী হবে।’

পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে ইসলামিক স্টেটের ভয়াবহ রূপান্তর তাদেরকেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।

তারা যে ধর্মরাষ্ট্রের প্রচার করছে তা দিনদিনই আয়তনে বাড়ছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রহীন আল-কায়েদার চেয়ে তারা আধুনিক।

ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলায় কোণঠাসা হলেও তারা এখন বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুর দিকে ঝুঁকছে এবং এসব ঠেকানো আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জন্য অগ্রাধিকার তালিকায় উঠে এসেছে।

২০১৩ সাল থেকে বাংলদেশে ইসলামি জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছে। প্রথমে নাস্তিক ব্লগারদের ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা শুরু হলেও এরপর ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সমকামী এবং বিদেশিরাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

এসব হামলার বেশিরভাগের দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদার স্থানীয় শাখা এবং ইসলামিক স্টেট।

আইএস দায় স্বীকার করেছে অন্তত ১৮টি হামলার- বিশেষ করে হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টানদের ওপর হামলার ঘটনায়। আর এসব যেনো চ্যালেঞ্জেরই একটি অংশ মাত্র।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৩ জুন ২০১৬

Related posts