September 23, 2018

নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আ’লীগ নেতা আকবর মোল্লার সাংবাদিক সম্মেলন লেবাননে

vvvv

বাবু সাহা, লেবাননঃ নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লেবানন শাখার একাংশের সভাপতি আলী আকবর মোল্লা সাংবাদিক সম্মেলন করেছে লেবাননের মোকাল্লেস এ ২২শে আগষ্ট মঙ্গলবার রাত ৯:০০ ঘটিকায়।

আলী আকবর মোল্লা গত ২১শে আগষ্ট সোমবার বাংলাদেশ দূতাবাসের পাশে একটি কফিশপ থেকে  লেবাননের  অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং পরে তিনি তার মালিকের সহায়তায়  মুক্তি পেয়েই সাংবাদিক সম্মেলনে আলী আকবর মোল্লা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ দূতাবাস ও দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারের চক্রান্তের শিকার তিনি।  রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকারের নির্দেশে দূতাবাসের কর্মকর্তা খালেদ সরদার তাকে স্থানীয় পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আলী আকবর মোল্লা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, আমি কয়েকজন নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিদিনের ন্যায় কফিশপে আড্ডা দিচ্ছিলাম।হঠাৎ দুপুর ৩:০০ ঘটিকায় কয়েকজন পুলিশ এসে শুধু আমাকে গ্রফতার করে নিয়ে যায়। গ্রেফতারের সময় আমাকে কোন কথা বলার সুযোগ দেয়নি। আমার মালিকের সাথে কথা বলতে চাইলেও তা করতে দেয়নি। আমার দুইহাত পেছনে নিয়ে  হাতকরা লাগিয়ে, চোখে কালো কাপড় বেঁধে নিয়ে যায়।  গাড়িতে আমাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ আমাকে ধমক দেয়। তিনি আরো বলেন, তাকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে ৩ ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।  প্রথম প্রশ্নই ছিল রাষ্ট্রদূতের সাথে তার কি সমস্যা এবং কেন? তিনি কেন দূতাবাসের নিচে কফিশপে বসে সাধারন প্রবাসীদের কাছ থেকে ফরম পূরন বাবদ   টাকা নেন?  কেন তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন? এছাড়াও তিন ঘন্টায় আরো অনেক প্রশ্ন করা হয় বলে তিনি জানান।

আলী আকবর মোল্লা পুলিশকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস বিল্ডিংয়ের চার তলায় আর আমার মালিকের অফিস তিন তলায়।তাই আমি প্রতিদিন আমার কাজের ফাঁকে কফিশপে আড্ডা দেই।আমি দূতাবাসে একজন বাংলাদেশী হিসেবেই নয়,  বর্তমানে বাংলাদেশে  যে দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে,, সেই দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে দলের সমর্থন বাড়াতে  অবসর সময়ে প্রবাসীদের সেবা দিয়ে থাকি।দূতাবাসে আসা সাধারন প্রবাসীদের সাহায্য স্বরুপ আমার হাতে লেখা প্রায় তিন হাজার ফরম রয়েছে দূতাবাসে। সে সকল ফরমে সকল প্রবাসীদের মোবাইল নাম্বার রয়েছে। আমি পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে বলি, আপনারা দূতাবাস থেকে আমার হাতে লেখা যে কোন একটি ফরম এনে ফরমে থাকা মোবাইল নাম্বারে ফোন করে জানুন, আমি তাদের থেকে কোন টাকা নিয়েছি কিনা? যদি কেউ একটি টাকার কথাও বলে, তাহলে লেবানন সরকার যে শাস্তি দেবে, সে  শাস্তি আমি মাথা পেতে নিবে।

মোল্লা বলেন, পুলিশ তিন ঘন্টা ধরে যখন আমাকে ঘুরে ঘুরে একই বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করে, তখন আমি   বুঝতে পারি, আমাকে শুধুমাত্র দূতাবাসের অভিযোগে  গ্রফতার করেছে পুলিশ।  তিনি এই গ্রফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার ও খালেদ সরদারের প্রত্যাহার দাবি করেন।

আমি পুলিশকে আরো বলি, রাষ্ট্রদূতের সাথে আমার ব্যক্তিগত কোন বিরোধ নেই। আমি একজন সচেতন প্রবাসী হিসেবে সাধারন প্রবাসীদের ভালমন্দ দেখার  দায়িত্ব আমার কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।  রাষ্ট্রদূত আকামা বিহীন প্রবাসীদের জন্য দেশে যাবার যে সুযোগ দিয়েছেন, সেই সুযোগে প্রত্যেক প্রবাসীদের কাছ থেকে বিমান ভাড়া বাবদ ৩৫০ আমেরিকান ডলার নেন, অথচ বিমান ভাড়া কখনো, ২৫০ডলার ,কখনো ২৩০ ডলার আবার কখনো ২৮০ ডলার।  বাকি টাকা কাউকে ফেরত দেয়া হয়না। এ বিষয়ে আমি একবার রাষ্ট্রদূতকে  প্রশ্ন করেছিলাম। রাষ্ট্রদূত উত্তরে বলেছিলেন, বাকি টাকা নাকি লেবানন জেনারেল সিকিউরিটিতে উৎকোচ হিসেবে দেন।আমার এমন কথা শুনে পুলিশও রাষ্ট্রদূতের প্রতি বিব্রত বোধ করেছেন।  পুলিশ বলে, লেবানন সরকার এমন নিকৃষ্ট কাজ কখনো করতে পারে না।মোল্লা আরো বলেন, গত বছর ঈদের আগে লেবানন বিমানবন্দর থেকে কিছু কর্মী দেশে যাবার পথে গ্রফতার হন। তারা সবাই তাদের জরিমানা ও টিকেটের টাকা দূতাবাসে পরিশোধ করেছিল।কিন্তু পরবর্তীতে তারা কেন  বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হলো? আমি পুলিশের কাছে জানতে চাই, লেবানন সরকারের ছাড়পত্র পাবার পর সরকার কি আবার তাদের গ্রফতার করতে পারে।উত্তরে পুলিশ বলে, লেবানন সরকার একজনের সব কিছু খতিয়ে দেখেই ছাড়পত্র দেয়, সুতরাং পুনরায় গ্রেফতারের প্রশ্নই আসে না।

মোল্লা বলেন, পুলিশ আরো জানালেন সরকারের কোন দপ্তরে যদি একটি টাকাও কেউ জমা দেয়, তাহলে সেই দপ্তর থেকে  সেই টাকার রশিদ দিতে বাধ্য। তাহলে  যারা পেনাল্টি দিয়ে দেশে গিয়েছে, তাদের জরিমানার  রশিদ কোথায়?  তাহলে কি বুঝা যায় না, দূতাবাস সেই টাকা আত্মসাত করেছে।

খালেদ সরদারের প্রত্যাহার কেন চাচ্ছেন, তিনি কি অপরাধ করেছেন বলে আপনার মনে হয়? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোল্লা বলেন, রাষ্ট্রদূতের নির্দেশে খালেদ আমাকে গ্রফতার করিয়েছে। তার প্রমান, আমাকে যত প্রশ্ন করা হয়েছে, সবই দূতাবাস সম্পর্কীত এবং পুলিশরা যখন ফোনে কথা বলছিল, তখন পুলিশ বার বার ‘‘খালেদ’’ নামটি উচ্চারন করছিল। পুলিশ ফোনে বলছিল, হে খালেদ, আলী আকবর মোল্লা অপরাধী নয়।  মোল্লার কথায় বুঝা যায় সে নির্দোষ। একজন নির্দোষকে কিভাবে দোষী বানাব আর তার মালিক রয়েছে,, ইচ্ছা করলেই তাকে দেশে পাঠনো যাবেনা।

মোল্লা বলেন, পুলিশের এই কথায় স্পষ্ট বুঝা যায়, আমাকে দোষী বানিয়ে দেশে পাঠাতে পুলিশকে খালেদ চাপ দিচ্ছে।  আজ আমার যেখানে নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারন প্রবাসীদের নিরাপত্তা কোথায়।  তাই খালেদের প্রত্যাহার দাবি করছি এবং দূর্নীতির অপরাধে রাষ্ট্রদূতের প্রত্যাহার দাবি করছি।

অন্যদিকে দি গ্লোবাল নিউজ২৪ ডট কম ও সময় বাংলার প্রতিনিধি স্বশরীরে দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাত করে এবং আকবর মোল্লার সাংবাদিক সম্মেলন সম্বন্ধে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করে।আকবর মোল্লা সাংবাদিক সম্মেলনে দূতাবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, আলী আকবর মোল্লা একজন অবৈধ প্রবাসী।তার কোন বৈধ কাগজ নাই।সে গ্রেফতার হতেই পারে।আর আকবর মোল্লা গ্রেফতারের পরে আমি সন্ধ্যায় লেবানন পৌঁছেছি।তাই আকবর মোল্লার অভিযোগ ভিত্তিহীন।আকবর মোল্লার সাংবাদিক সম্মেলনে দূতাবাসের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রসংগে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি এবং আমার দূতাবাস কোন ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়।আওয়ামীলীগের একাংশ পুলিশ প্রহরায় যে সংবাদ সম্মেলন করেছে, সেই সময় আমি দেশে ছুটিতে ছিলাম।কাজেই এই ঘটনার সাথে আমার কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।আমি গত দুই বছরে প্রবাসীদের স্বার্থে অনেক কাজ করেছি।লেবাননে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে প্রাণপন চেষ্টা করছি। খালেদ সরদারের  বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তদন্ত করে দেখব সে কোন অপরাধ করেছে কিনা।  তবে দূতাবাস সকল অন্যয়ের বিরুদ্ধে এবং সাধারন প্রবাসীদের জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।লেবাননে রাজনীতির নামে হিঃসা বিদ্ধেষ পরিহার করে সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে রাষ্ট্রদূত সকল প্রবাসীদের প্রতি অনুরোধ জানান।

Related posts