November 13, 2018

‘নিজামী রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার, তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পারেনা’ (ভিডিও)

Nizami_Lond

মুহাম্মদ নূরে আলম বরষণ, লন্ডন থেকে: লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক নাগরিক শোক সমাবেশ ও গায়েবে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, মাওলানা নিজামী রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার, তাঁর রক্ত বৃথা যেতে পারেনা। আজ থেকে ৬ বছর আগে ২৯ জুন ২০১০ সালে ধর্ম অবমানার মামলায় মাওলানা নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারপর তাকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয় এটা বিশ্বের ইতিহাসে নজির বিহীন । মাওলানা নিজামীকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে । মাওলানা নিজামীকে প্রথমে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি প্রসিকিউশন থেকে, পরে জিয়া উদ্দিন নামক একজনের পরামর্শে জজ মাওলানা নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।  মাওলানা নিজামীকে প্রশ্নবিদ্ধ বিচারের মাধ্যমে হত্যা করেছে বর্তমান অবৈধ সরকার। অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘ করতেই মাওলালা নিজামীকে হত্যা করা হলো। তবে বিশ্বের কোনো সরকারই শেষ সরকার নয়।

ভিডিওঃ গায়েবে জানাযার অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য 

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার হীন অপপ্রয়াস বাস্তবায়নের জন্য এই রায়।  যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালকে আর্ন্তজাতিক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ন্যায়ভ্রষ্ট  ট্রাইবুনাল উল্লেখ করে  তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিব কর্তৃক ৭১ সালের একটি মীমাংসা ইস্যুকে সামনে নিয়ে এসে শেখ হাসিনা দেশে ইসলামী আন্দোলনকে  ধ্বংস  করার ষড়যন্ত্র করছে।

গতকাল বুধবার  দুপুরে  পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে আয়োজিত এক প্রতিবাদে লন্ডনে নাগরিক শোক সমাবেশ ও গায়েবে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠানে তিনি এইসব কথা বলেন ।

মানবাধিকার কর্মী সেভ বাংলাদেশ চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর  ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা , শিক্ষাবীদ মামুনুর মোর্শেদ, শায়খ হাসিমুল আদ্দাদ হাইতাম আল হাদ্দাদ, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর, জাকের আহমদ চৌধুরী,  মীর আব্দুল আউওয়া তারেক, সাংবাদিক আমিমুল আহসান তানিম, মানবাধিকার সংগঠক ফরিদুল ইসলাম ,  মুহম্মদ এবি সেলিম, মানবাধিকার কর্মী  মনিরুল হক,  মুহম্মদ আলাউদ্দিন, তরিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যাক্তিবর্গ আব্দুল বাসিত , জুবাইর আহমেদ, সাইফুল ইসলাম প্রমূখ।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে মাওলানা নিজামীর জানাযায়।

ভিডিওঃ  ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের বক্তব্য

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে অনেক যুদ্ধাপরাধের বিচার হয়েছে নুরেমবাগ থেকে সেরালিয়ন  কিন্তু মাওলানা নিজামী ৪০ বছর দেশে থাকার পরও কেউ কোনো দিন যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেননি। সরকার আইন ভঙ্গ করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে ।

ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, দোষ করলো কে আর ফাঁসি হয় কার? দোষী ভুট্টো কে দেয়া হলো গালে চুমু ও লাল গালিচা সংবর্ধনা আর নিজামী সাহেবের হয় ফাঁসি, পাকিস্তানি দোষী আর্মিদের চুক্তি করে ক্ষমার ঘোষণা করলো আর জামায়াত  নেতাদের ধরে ধরে ফাঁসি দেয়া হলো! মহা অবাক করা কান্ড ! যার বিরুদ্ধে ৪২/৪৩ বছরে কেউ যুদ্ধূপরাধের অভিযোগ করলনা, প্রধানবিচারপতি  ওপেন কোর্ট এ বললেন নিজামী সাহেব আলবদর নেতা ছিলেন না ও অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমান নেই তারপর ও ফাঁসি দিলেন! যার সাথে হাসিনা একসাথে মিলে কেয়ারটেকার আন্দোলন করলো। সেই হাসিনা আজ রাজার আসনে বসে নিজামীর ফাঁসির হুকুম করছে আর নিজামী সাহেব ফাঁসির কাষ্ঠে!

সেইভ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম বলেন, যে জমিনে মাওলানা নিজামীর রক্ত ঝরেছে সেই জমিনে আমরা একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করে রক্তের বদলা নিব।

স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী  গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো , এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতা লোভী হাসিনা। বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ করছে আওয়ামী লীগ এবং মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে।

Speech of Jaamat Spokeman of Europe before Gayabana Janaja of Nizami by TheGlobal.TV

মুফতি শাহ সদর উদ্দিন বলেন, সকল রাজবন্ধির মুক্তির দাবী জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের মুক্তি দেয়া না হলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সকল দায়দায়িত্ব আওয়ামীলীগকেই বহন করতে হবে। বিচার বিচার খেলা চলছে। কি রায় হবে তা আগে থেকেই ঠিক করা আছে। সময় হলেই তারা তা পড়ে শুনানো হয় । তারা বলেন, বর্তমান ট্রাইবুন্যাল একটি বিতর্কিত ট্রাইবুন্যাল তাই একে বাতিল করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা চাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়ঁ করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই। মূলত: শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদদ করেছেন। এমনকি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে শেখ মুজব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদের ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে।

মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায় বিচার সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম চলছে চলবে। আমাদের নেতাদের হত্যা করে অবৈধ আওয়ামী সরকারের পতন বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে আওয়ামী বাকশালীদের পতনের মধ্যদিয়ে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনতার সংগ্রাম চলছে জনতার সংগ্রাম চলবে ।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্বের সকল আর্ন্তজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ, অগ্রহনযোগ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলা সত্বেও সরকার দেশের সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের সেই প্রতিবাদী  কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।

বক্তরা বলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের গেইট থেকে সরকারী বাহিনী প্রকাশ্যে স্বাক্ষী অপহরন করে নিয়ে গেলেও ট্রাইবুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নেন না। অথচ আসামি পক্ষ্যের আইনজীবিকে আদালত থেকে বহিস্কার করে দেন।  বক্তারা বিদ্যমান ট্রাইবুন্যালকে দলীয় আখ্যা দিয়ে  নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধীদলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইবুন্যালকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার। বক্তারা সরকারকে হুশিয়ার করে বলে আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাহলে এ আগুনে সরকারকে পুড়ে মরতে হবে।

আর এ থেকে প্রমানিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামীলীগের মুল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক সকল মহল এই ট্রাইবুন্যালকে প্রত্যাখান করেছে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন আন্তর্জাতিক মানে নেই। তারা বলেন, সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, কিভাবে চোর, বাটপার, জালিয়াতদের দিয়ে দেশের সম্মানিত মানুষদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ানো হচ্ছে।

বক্তারা বলেন, একদিন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যাদের দরজায় এসে ধর্না দিতেন আওয়ামী লীগ এখন সেই জামায়াত ইসলামীকে স্বাধীনতা বিরোধী আখ্যায়িত করে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারীক আদালত নামক নাটকের মাধ্যমে হত্যা ষড়যন্ত্রের লিপ্ত রয়েছে এই জালেম সরকার । এরা বন্দুকের নলের জোরে এখন ক্ষমতায় টিকে থাকার শেষ চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের গণ মানুষের দল নয়,  এরা দেশের শত্রু ইসলামের শত্রু উন্নয়নের শত্রু। দেশপ্রেমিক সৎ ইসলামী রাজনৈতিকনেতাদের হত্যা করে ক্ষমতায় থাকার স্বাদ আওয়ামী লীগের পূরণ হবে না।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের গণ মানুষের দল হলো ২০ দলীয় জোট । এতে অবৈধ বাকশালীরা আতঙ্কিত হয়ে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের হত্যা করছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে বন্দী করে রাখছে । আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক ভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছে । এদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র । দেশে জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী কবর রচিত হবে বাংলাদেশে । তখন এদের ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রভুরা রক্ষা করতে পারবে না ।

ট্রাইবুনালে জামাতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হতে সরকারের তরফ থেকে বাধ্য করা হয়েছিলো বলে নান্নু মিয়া জানান। একটি অফিসে গোপনে ধারণ করা এই ভিডিওতে দেখা যায় জনাব নান্নু খোলামেলাভাবে ট্রাইবুনাল নিয়ে বলেছেন, সরাসরি শেখ হাসিনার হুকুমে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য হয় মুক্তিযোদ্ধা নান্নু। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল এর জন্য মিথ্যা সাক্ষ্য নিয়ে আসার অন্যতম নায়ক হচ্ছে লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইমরুল কায়েস। তিনি সেনাবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড! শেখ হাসিনা তাকে পদোন্নতি দেন! তিনি মুক্তিযোদ্ধা নান্নুকে ক্যন্টনম্যান্ট এ নিয়ে যেয়ে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে বাধ্য করেন। সাথে জড়িত স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রি শামসুল হক টুকু। ব্যক্তিগত দূর্দশার বর্ণণা দিয়ে টাকা-পয়সার লেনদেন সহ এবং পুরো ঘটনার বিবরণ দেন। এ থেকে পরিস্কার বুঝা যায় এটি একটি জঘন্ন মিথ্যাচার এবং এটি একটি বিচারিক হত্যাকান্ড ।

Related posts