November 16, 2018

নিজামীর ফাঁসির প্রতিবাদে লন্ডনে সমাবেশ

মুহাম্মদ নূরে আলম বরষণ লন্ডন থেকেঃ লন্ডন ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সেইভ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত লন্ডনে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, সমাজে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ফাঁসি দিয়ে বন্ধ করা যাবে না। আল্লাহ দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে এবং চলবে।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে সিকিম বানানোর লক্ষে দেশপ্রেমিক ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের হত্যা করছে । হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের হাতে বিকিয়ে দিয়েছে ইতিমধ্যে । হাসিনা হিটলারের চেয়েও জঘন্য খারাপ এবং ইতিহাসের কুখ্যাত স্বৈরাচার খুনি  হিসেবে নিজে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবশে বক্তারা এইসব কথা বলেন ।

বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী  ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর  ইউরোপের মূখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক, জমিয়তে ওলামা ইউকের সভাপতি মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, খেলাফত মজলিশ ইউকের সভাপতি আব্দুল কাদের সালেহ, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী মনোয়ার বদরুদ্দোজা, ইরাকী সাংবাদিক গবেষক আল আলী যুবায়েদী, মাওলানা নিজামীর বন্ধু মুহম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, মাওলানা আবুল হাসনাত, শিল্পী নওশাদ মাহফুজ, খেলাফত মজলিশ ইউকের সহসভাপতি মাওলানা শওকত আলী, শিক্ষাবীদ সৈয়দ মামুনুর মোর্শেদ, বিশিষ্ট মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার,  খেলাফত মজলিশ ইউকের সাধারণ সম্পাদক সদরুজ্জামান খান, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা শাহ মিজানুল হক, সৈয়দ জামান, সাংবাদিক মাহবুব আলী খানশূর,  জাকের আহমদ চৌধুরী,  মীর আব্দুল আউওয়া তারেক, সাংবাদিক আমিমুল আহসান তানিম, মানবাধিকার সংগঠক ফরিদুল ইসলাম, মনিরুল হক, তরিকুল ইসলাম , মুহম্মদ এবি সেলিম, প্রমূখ।

ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা বলেন, সারা বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থা একমত যে, মাওলানা নিজামীকে মিথ্যা ভুল স্বাক্ষীর মাধ্যমে রাজনৈতিক ভাবে হত্যা করা হয়েছে । এটি একটি পরিষ্কার রাজনৈতিক হত্যাকান্ড।
জাতিসংঘ থেকে শুরু করে সবাই বলছে হাসিনা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে জামায়াত নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে ।
মাওলানা নিজামী সরাসরি কোনো অপরাধে সংশ্লিষ্ট ছিলনা ও আলবদর বাহিনীর প্রধানও ছিলনা, এই কথা ওপেন কোর্টে  একথা প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বলার পরও বেআইনি মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়েছে। আমরা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের জঘন্য ষড়যন্ত্র অভিহিত করে ন্যায় বিচার দাবি করছি। বর্তমান ব্যর্থ সরকারের নানাবিধ চুরি ডাকাতি আর গুম খুন দামাচাপা দিতে হঠাৎ করে মাওলানা নিজামীকে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আজ ইতিহাস স্বাক্ষী জামায়াত নেতারা অবৈধ অনির্বাচিত সরকারের কাছে আপোষ করেনি। জামায়াত নেতারা জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে তারাই সত্যের পক্ষে দেশ প্রেমিক নাগরিক। ইতিহাস আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করেবে তাদেরকে একদিন ইতিহাসের কাঠগরাই দাঁড়াতে হবে। মাওলানা নিজামীর  বিরুদ্ধে ৪২/৪৩ বছরে কেউ যুদ্ধূপরাধের অভিযোগ করলনা প্রধানবিচারপতি  ওপেন কোর্ট এ বললেন নিজামী সাহেব আলবদর নেতা ছিলেন না ও অপরাধের সাথে জড়িত থাকার প্রমান নেই । তারপর ও ফাঁসি দিলেন! যার সাথে হাসিনা একসাথে মিলে কেয়ারটেকার আন্দোলন করলো। সেই হাসিনা আজ রাজার আসনে বসে নিজামীর ফাঁসির হুকুম করছে আর নিজামী সাহেব ফাঁসির কাষ্ঠে!।

ইউকে বিএনপি’র সভাপতি এম এ মালেক বলেন, অনির্বাচিত হাসিনা দেশে খুনের রাজ্যত্ব কায়েম করেছে। হাসিনাকে লন্ডনে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগ হলো মুনাফেক নাস্তিক আর খুনীদের দল। আওয়ামী লীগ দেশে স্বাধীনতার শত্রু গণতন্ত্রের শত্রু ।

 মুফতি শাহ সদর উদ্দিন বলেন, হাসিনা ইতিহাসের কুখ্যাত জঘন্য হিটলারের চেয়েও খারাপ। ব্রিটিশ সরকারের লজ্জা হওয়া উচিত যে তারা খুনী হাসিনাকে লন্ডনে আসতে দিচ্ছে । নির্লজ্জ হাসিনা ভারতের সাথে মিলে দেশে গুম খুন আর হত্যার রাজ্যত্ব কায়েম করেছে। আর দেশের সম্পত্তি ভারতে পাচার করছে। চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচারের কাঠ গড়ায় দাড়ঁ করানো হোক। কিন্তু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের সে সৎ সাহস নেই। মূলত: শেখ মুজিবর রহমান ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্ষমা করে দিয়ে নিজেই যুদ্ধাপরাধীদের মদদ করেছেন। এমনকি ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে দিল্লি চুক্তির মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানের কাছে হস্তান্তর করেছে। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে শেখ মুজব সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন। প্রকৃত দোষীদেও ছেড়ে দিয়ে আজ বাংলাদেশের নাগরিকদের বিচার করা হচ্ছে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগে।

ইরাকী সাংবাদিক গবেষক আল আলী যুবায়েদী বলেন, মিথ্যা অভিযোগে মুসলিম বিশ্বের নেতা মাওলানা নিজামীকে হত্যা করা হয়েছে । এটা বিশ্ববাসীর কাছে পরিষ্কার । আমি এই হত্যা প্রতিবাদ করছি।

খেলাফত মজলিশ ইউকের সভাপতি আব্দুল কাদের সালেহ বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ যেভাবে হাজার হাজার প্রতিবাদী  গণতন্ত্রকামী মানুষকে হত্যা করেছিলো , এখন বাংলাদেশকে সেইরকম পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতা লোভী হাসিনা। বিশ্বের মতামতকে উপেক্ষা করে প্রহসনের বিচার মঞ্চস্থ করছে আওয়ামী লীগ এবং মুখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথিত শ্লোগান নিয়ে বাংলাদেশে বাকশাল কায়েমের সুগভীর ষড়যন্ত্র করছে। অবিলম্বে আমরা এই সমাবেশ থেকে জামায়াত আমীর মাওলানা নিজামীর হত্যার বিচার দাবি করছি।

মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার বদরে আলম দিদার বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক ন্যায় বিচার সুশাসন প্রতিষ্ঠা সংগ্রাম চলছে চলবে। আমাদের নেতাদের হত্যা করে অবৈধ আওয়ামী সরকারের পতন বন্ধ করা যাবে না। বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে আওয়ামী বাকশালীদের পতনের মধ্যদিয়ে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনতার সংগ্রাম চলছে জনতার সংগ্রাম চলবে ।

গবেষক ও বুদ্ধিজীবী মনোয়ার বদরুদ্দোজা বলেন, বিএনপির উচিত ছিল এই বর্বর হত্যার বিচার দাবি করে বিবৃতি দেয়া। না দেওয়াতে আমরা হতবাক হয়েছি । বিশ্বের সকল আর্ন্তজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে অস্বচ্ছ, আগ্রহনযোগ্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বলা সত্বেও সরকার দেশের সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যারা কাজ করছেন তাদের সেই প্রতিবাদী  কন্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।

বক্তরা বলেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের গেইট থেকে সরকারী বাহিনী প্রকাশ্যে স্বাক্ষী অপহরন করে নিয়ে গেলেও ট্রাইবুনালের বিচারকরা সেটাকে আমলে নেন না। অথচ আসামি পক্ষ্যের আইনজীবিকে আদালত থেকে বহিস্কার করে দেন।  বক্তারা বিদ্যমান ট্রাইবুন্যালকে দলীয় আখ্যা দিয়ে  নেতৃবৃন্দ বলেন, বিরোধীদলকে দমনের হাতিয়ার হিসেবে এই ট্রাইবুন্যালকে ব্যবহার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সরকার।  সরকারকে হুশিয়ার করে বলে আগুন নিয়ে খেলবেন না। তাহলে এ আগুনে সরকারকে পুড়ে মরতে হবে।

আর এ থেকে প্রমানিত হয় যুদ্ধাপরাধের বিচার নয়, আওয়ামীলীগের মুল টার্গেট জনপ্রিয় ইসলামিক ব্যক্তিবর্গ। নেতৃবৃন্দ বলেন, আন্তর্জাতিক সকল মহল এই ট্রাইবুন্যালকে প্রত্যাখান করেছে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধাপরাধ আইন আন্তর্জাতিক মানে নেই। তারা বলেন, সরকার তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূলের অভিযানে নেমেছেন। দেশের মানুষ দেখেছে, কিভাবে চোর, বাটপার, জালিয়াতদের দিয়ে দেশের সম্মানিত মানুষদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেওয়ানো হচ্ছে।

সভায় বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের গণ মানুষের দল হলো ২০ দলীয় জোট । এতে অবৈধ বাকশালীরা আতঙ্কিত হয়ে বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের হত্যা করছে। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে বন্দী করে রাখছে । আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক ভাবে দেওলিয়া হয়ে গেছে । এদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র । দেশে জনগণের সংগ্রামের মাধ্যমে আওয়ামী কবর রচিত হবে বাংলাদেশে । তখন এদের ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রভুরা রক্ষা করতে পারবে না ।

Related posts