September 19, 2018

নিজস্ব ধারার গানের শিল্পি শৈলী

বিনোদন প্রতিবেদকঃ  পরিবার থেকেই গানের হাতেখড়ি। পরিবারের সবাই গান করেন। চাচা ফুপু সবাই সংগীতের বিভিন্ন মাধ্যমে জড়িত। তাই গান করাটা তার কাছে খুব সহজ একটি বিষয় ছিল। গানের সুরটা ক্লাসিকাল দিয়ে শুরু। কিন্তু রক গানের প্রতি ঝোকটা ছিল বরাবরই বেশি। বিলবোর্ড টপ চার্ট চেক করা তার চাইই চাই। অভ্যাসটা পেয়েছিল বড় ভাইয়ের কাছে। ছোট মামারা আনতেন বাড়ী থেকে অরজিনাল সব রেকর্ড। অনেক আবদার করেই বাবার কাছ থেকে নিয়েছিলেন নচিকেতার সিগনেচার গিটার। সেই থেকে শুরু। সব কম্পিটিশনে প্রথম হতেন রবীন্দ্র সংগীত আর ক্লাসিক্যাল গানে। সেই সাথে বাসায় চলত রক গান ।

পড়াশুনার কারনে এই গানের পিছনে সময় দেওয়া হয়নি ঠিক মতো। কেরিয়ারের শুরুটা শিক্ষকতা দিয়ে শুরু করলেও সংগীতের উপর ভালোবাসার টানে ফিরেছে সংগীত ভুবনে আবারো। শুধু গান ই গান না তিনি, সেই সাথে করেন সুর, লিখেন নিজের গানগুলো।  সংগীতাঙ্গনেও যে কোন সুরকার, গীতিকার এবং একজন কম্পোজার এর দ্বায়িত্বগুলো থাকে আলাদা আলাদা। এই ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রমী তিনি। সেখানে সব কিছু নিয়ে কাজ করেন। বলছি এই প্রজন্মের ভিন্ন ধরনের গানের শিল্পি শৈলীর কথা। সম্প্রতি তার এ্যালবাম এর আর একটি গানের মিউজিক ভিডিও শূণ্য রিলিজ হয়েছে। তার গান গুলো ভিন্ন ধর্মী বলার কারন একটাই। তা হচ্ছে অলটারনেটিভ গানের রক এবং পপ ধারার গান। আমাদের দেশে সাধারনত মেয়েরা এই ধারার গান খুব কম করেন। কারন এই ধারার গানের সুরটার সংখ্যাটা খুব কম। কিন্তু এরপরও এই গানেই তিনি সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন এবং এতটুকুও কম্প্রোমাইস করেন না। তার ভাষ্যমতে এই ধারার গান হয়তো এখন তেমন জনপ্রিয় হবেনা কিংবা একদমই না শোনার চান্স খুব বেশি। কিন্তু শুরুটা তো করতে হবে। হয়তো হিট নম্বারের খেতাব তা খুব দেরীতে মিলবে। উদ্দেশ্য একটি যেন সবাই এই ধরনের গান শুনে বলতে পারে .. এটোতো শৈলী টাইপ গান। প্রাপ্তিটা আসলে সেখানেই।

২০১৫ টা তার প্রথম সলো এ্যালবাম থেকেই শৈলী পেয়েছে অনেক প্রশংসা। যেখানে তার সব গান ছিল নিজের করা সুর এবং কথা। কিছু গান এর কম্পোজিশন নিজেই করেছে। সেই এ্যালবামের ভিডিও গুলো আধার এবং নি:স্বার্থ সুরটা দর্শক মহলে তার গ্রহন যোগ্যতা এনে দিয়েছে। সেই থেকে যাত্রা পাকাপাকি ভাবে শুরু। শৈলী জানালেন, এখন গান করছি, লিখছি, বাধছি নতুন সুর।  নিজেকে পুরোপুরিভাবে মিউজিশিয়ান হিসাবে গড়ে তোলার স্বপ্নটাই ছায়া হয়ে পাশে দাড়িয়েছে। কাজ শুরু করে দিয়েছি দ্বিতীয় এ্যালবামের।  সব শেষে শ্রোতাদের বিনোদন দেয়াটাই একজন শিল্পীর ইচ্ছে। কিন্তু শ্রোতাদেরও কিছু দ্বায়িত্ব আছে বলে মনে করেন তিনি। এতো কষ্ট করে এক একটা এ্যালবাম তৈরী করা হয়। তা যেন শ্রোতারা পাইরাসী না করেন। বরং অরজিনাল সিডিটা কিনে শোনেন কিংবা ডাউনলোড করে নেন সীমিত একটি অংকের বিনিময়ে। তাতে করে মিউজিক, আটিষ্ট, পুরো মিউজিক ইন্ডাষ্ট্রিটাই সুন্দর ভাবে চলবে। আটির্ষ্টরা তখনই উৎসাহ পায় যখন তার মেধার সঠিক মূল্যায়ন হয়।

শুধু গানই নয়, পাশাপাশি লিখালিখিতেও তুখোড় এই মেধাবী শিল্পী। ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেছেন.. একদমই কিছু না লিখলে কেমন হয়। কিছুদিন আগেই প্রকাশ পেয়েছে ” gender representation in rock music”  বইটি। যেখানে তিনি লিখেছেন গানে যেন ছেলে মেয়ের বিভেদটা না থাকে। রক গানসহ যেসব গান সাধারণ মানুষ ছেলেরাই শুধু গায় ভাবে, সেইসব গান করার যুক্তি তুলে ধরেছেন।  যারা মিউজিকে আছে অথবা যারা মিডিয়া আর্টস নিয়ে পড়াশুনা করছে তাদের জন্য খুব ভাল একটি রেফারেন্স বই এটি। সাধারনের জন্যও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে এমন একটি লিখনী। সামনে আরো মিউজিক নিয়ে লিখবেন জানালেন শৈলী। শুধুমাত্র একজন গায়িকা হিসেবে নয়, অনেকে তাকে চেনেন একজন এ্যাংকর হিসেবে। বিভিন্ন চ্যানেলে অনেক মিউজিক্যাল শো হোষ্ট করেছেন তিনি। ইচ্ছে আছে সময় পেলে আবারো করার। তার চাওয়া মেয়েরা আরো গান করুক। সেটা যেই গানেরই হোকনা কেন। গানটা যেন স্বাধীন থাকে.. তাতে যেন ছেলে মেয়ের ভেদাভেদটা কখনও না আসে।

প্রচার বিমুখ শৈলী বাকীটা জীবন আনেক ব্যাস্ত তার পরিবার নিয়ে। সময়টা তার কাছে খুব ছোট। এরই মধ্যে সব সামলে গানটা চালিয়ে যেতে চায় তিনি। সেই সাথে বিশ্বাস করে সুস্থ্য থাকতে হবে।  শৈলী মনে করে শারীরিক ভাবে সুস্থ্য থাকাটা সবচেয়ে জরুরী ভালো কোন কাজের ক্ষেত্রে। তাতে মন প্রফুল্ল থাকে। সেই সাথে মেধাটা কাজে লাগানো যায়। নিজের লাইফ ষ্টাইলটাও সেভাবেই গুছিয়ে নিয়েছেন তিনি। এভাবেই এগিয়ে যাক তার গানের ভুবনে পথচলা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৩ মে ২০১৬

Related posts