September 26, 2018

নিউইয়র্ক বইমেলায় কবি গুণকে সাহিত্য পুরস্কার

হাকিকুল ইসলাম খোকন
বিশেষ সংবাদদাতাঃ
নিউইয়র্কে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলা ২০১৬ শেষ হয়েছে।
মেলায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি নির্মলেন্দু গুণকে ‘চ্যানেল আই মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কারে’ ভূষিত করা হয়েছে।

রোববার নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের পাবলিক স্কুল-৬৯ মিলনায়তনে বইমেলা ও উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য দুই লাখ টাকা।
এর আগে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা ও কানাডা থেকে যাওয়া শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

বিভিন্ন পর্বে আলোচনা করেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, নিউজার্সির প্লেইন্সবরো টাউনশিপের কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবী, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, জেনোসাইড একাত্তরের প্রদীপ রঞ্জন কর, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, অধ্যাপক আব্দুস সেলিম, ড. পার্থ ব্যানার্জি, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিদিব বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরিদ আহমেদ।

এর আগে ‘লেখকের সামাজিক দায়িত্ব’ শীর্ষক এক আলোচনায় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন ‘বাংলাদেশের ভষিষ্যৎ বিনির্মাণে’ কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের আরও ‘জনসম্পৃক্ত’ হওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার শেষদিনের আলোচনায় বক্তব্য রাখছেন অভিনেতা জামালউদ্দিন হোসেন।

“ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতেও গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলনে কবি-লেখক-সাহিত্যিকদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। জীবন বাজি রেখে এখনও তারা তাদের লেখনী অব্যাহত রেখেছেন। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ভূমিকা আরও বাড়াতে হবে।”
‘নারী যখন লেখক: অসমান খেলার মাঠ’ শীর্ষক অন্য এক মুক্ত আলোচনায় লেখক আনিসুল হক বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিরোধী

দল এবং ডামি বিরোধী দলীয় নেতাও নারী। তবু নারীর প্রতি বৈষম্য অব্যাহত রয়েছে।”
কবি গুলতেকিন খান বলেন, নারী লেখকরা সমাজের অনেক বাধা-বিপত্তি টপকে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেন।

“আমি লেখক হয়েছি নিজের চেষ্টায়। কেউ আমাকে উৎসাহ দেননি, কারও কাছ থেকে অনুপ্রেরণাও পাইনি। দাদা প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ বেঁচে থাকতে তার কিছুটা অনুপ্রেরণা পেয়েছি বলেই ৭ম শ্রেণিতে পড়াব সময় কবিতা লিখতে পেরেছি। তিনি মারা যাওয়ার পর আর কারও কাছ থেকে উৎসাহ পাইনি।”

দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ‘বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে’ প্রবাসীদেরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

“বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন করতে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের আন্তরিকতাকে ফলপ্রসূ করতে প্রবাসীদেরও সোচ্চার থাকা দরকার,” বলেন তিনি।

‘টেলিভিশন কি বাংলা সংস্কৃতি বিকাশে প্রতিবন্ধক?’ শীর্ষক আলোচনায় অভিনেতা রামেন্দু মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারি গণমাধ্যমগুলোই বর্তমানে কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা রাখছে।

“বিটিভির অনির্ভরযোগ্য সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে সকলেই বেসরকারি চ্যানেলের উপর ভরসা রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। বাঙালি সংস্কৃতির লালন ও বিকাশেও সেসব গণমাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখছে।”

একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী’র মালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেলের ব্যাপারে দর্শকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।

“গণশত্রুরা যদি টিভির নিয়ন্ত্রক হয়, তাহলে বাঙালি সংস্কৃতির বিপক্ষে প্রচারণা চলবেই। দর্শকদেরকেও তাই ধর্মের নামে বর্বরতা চালাতে অভ্যস্ত গোষ্ঠির নিয়ন্ত্রণাধীন টিভি পরিহারের ব্যাপারে সজাগ হতে হবে।”

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৪ মে ২০১৬

Related posts