September 26, 2018

নারীর উপর নারীর নির্যাতন!

‘বাংলার বধূ বুক ভরা মধু’-এই প্রবাদটি আর যেন মেনে নেয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি ভারতে শাশুড়ি নির্যাতনের নির্মম খবরটি শোনার পর। একজন নারী কি অতটা নিষ্টুর হতে পারেন-৭০ বছরের এক বৃদ্ধার ওপর তিনি অতটাই পাশবিক নির্যাতন চালাতে পারেন?

কিন্তু সন্দেহ করার কোনোই অবকাশ নেই কেননা ওই নির্যাতনের ভিডিও ইতিমধ্যে ভারতের সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। ভিডিওটি দেখার পরই সোমবার ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বিজনর এলাকা থেকে সঙ্গীতা জৈন নামের ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৭০ বছরের অসুস্থ শাশুড়ি রাজরানী জৈনকে প্রথমে খালি হাতে পেটান সঙ্গীতা। পরে ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। তার মাথা ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। এতেও ক্ষান্ত হয়নি ওই পিশাচিনী নারী। এক পর্যায়ে সে বৃদ্ধার গলায় কাপড় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করারও চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাবা-মায়ের ওপর স্ত্রীর অব্যাহত নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সঙ্গীতার স্বামী সন্দীপ কুমার জৈন বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়েছিলেন। সন্দীপ জানান, তার স্ত্রী সঙ্গীতা প্রায়ই তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতন করতেন। তিনি এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনের কাছে অভিযোগও করেছিলেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এভাবে দু বছর দেখার পর তিনি স্ত্রীকে হাতে নাতে পাকড়াও করার জন্যই সিসিটিভি লাগান। ভেবেছিলেন এবার হয়ত সঙ্গীতা শুধরাবে। কিন্তু কিসের কি, তার পাশবিকতা চলতেই থাকে।

তাই তিনি সিসিটিভি’তে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজটি স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মীকে দেন এবং তার সহায়তা কামনা করেন। ওই কর্মী নিজের ফেসবুকে ভিডিওটি পোস্ট করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ভিডিওটি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আখিলেশ যাদবের চোখে পড়লে তিনি ব্যথিত হন। তারই নির্দেশ পেয়ে সোমবার শাশুড়ি নির্যাতনের ঘটনায় সঙ্গীতা জৈনকে আটক করেছে পুলিশ।

সঙ্গীতা-সন্দীপের বিয়ে হয়েছে সাত বছর আগে। কিন্তু এখন আর স্ত্রীর সঙ্গে থাকতে চাচ্ছেন না সন্দীপ। তিনি ইতিমধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন সন্দীপ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts