September 20, 2018

নারায়ণগঞ্জ হাসাপাতাল দালাল চক্রের কাছে জিম্মি!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  দালাল চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পরেছে সেলিম ওসমানের দানকৃত দু’টি এ্যাম্বুলেন্স। নারায়ণগঞ্জ ৩’শ শয্যা হাসপাতালে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স ও বিকেএমইএ’র সহায়তায় দুটি এ্যাম্বুলেন্স দান করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। সে সময় তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, এই এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যদি কেউ ব্যবসা করার চেষ্টা করে তবে তার কলিজা টেনে বের করা হবে। তার জন্য প্রশাসনের দরকার নেই। এক সেলিম ওসমানই যথেষ্ট। তখন তিনি তার হাত দেখিয়ে বলেছিলেন, এটা মুক্তিযোদ্ধার হাত। এই হাত দিয়ে একসময় পাকিস্তানী দালালদের মেরেছিলাম। প্রয়োজনে এই হাত দিয়ে আবারো হাসপাতালের দালালদের মারা হবে।

কিন্তু ঘটনা সে পর্যন্তই শেষ। এ্যাম্বুলেন্স দান করার পর তিনি আর তার কোন খবর নিয়েছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে সেদিনকার সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, কোথায় গেলো সাংসদ সেলিম ওসমানের সেদিনের হুঙ্কার? কোথায় গেলো দালালদের বিরুদ্ধে তার জিহাদের ঘোষনা? গতানুগতিক নিয়মেই দালালদের মাধ্যমেই চলছে এই এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবসা-এমনটাই জানালেন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা।

সরকারি এ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এক শ্রেণীর অসাধু চক্র। রোগীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার কারনে চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবা নিতে আসা রোগীরা। রোগীদের অভিযোগের প্রক্ষিতে সোমবার দিনে ও রোববার রাতে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল সামনে রাখা সরকারি এ্যাম্বুলেন্স এর পাশে রয়েছে বেসরকারি এ্যাম্বুলেন্স। এমনকি সাংসদ সেলিম ওসমানের দেওয়া দুটি এ্যাম্বুলেন্সও সেখানে রয়েছে।

তখন এ প্রতিবেদক রোগী সেজে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গেলে এক ব্যাক্তি এসে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলেন, এই নাম্বারে যোগাযোগ করুন। কার্ডটিতে লেখা রয়েছে জনসেবা এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং জনসেবা ড্রাইভিং ট্রেনিং সেন্টার। কার্ডে থাকা নাম্বারে (০১৭১৫৭৬১৬৭৭) ফোন করে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যাক্তি বলেন, আপনার কোনটা দরকার সরকারি না বেসরকারি। প্রতিবেদক বলেন, আমার সরকারি এ্যাম্বুলেন্স দরকার, আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবো।

পরবর্তীতে আপনি কে এবং আপনি কি সরকারি ড্রাইভার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন হ্যা, আমি সরকারি ড্রাইভার। আমার নাম সিদ্দিক। তাহলে আপনার ভিজিটিং কার্ডে বেসরকারি কোম্পানীর নাম কেন। তিনি বলেন, সেই এ্যাম্বুলেন্সগুলোও আমার। সরকারী-বেসরকারী সব এ্যাম্বুলেন্সই আমার নিয়ন্ত্রনে। ঢাকা মেডিকেল যেতে কত টাকা ভাড়া লাগবে জানতে চাইলে ড্রাইভার সিদ্দিক বলেন, সরকারী এ্যাম্বুলেন্সে গেলে ভাড়া ১৫৫০ টাকা ভাড়া আর বেসরকারী এ্যাম্বুলেন্সে গেলে ভাড়া ১৪০০ টাকা। সরকারী এ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া এতো বেশী কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেলিম ওসমান গাড়ি দিয়েছেন কিন্তু এটা এখনও পুরোপুরিভাবে সরকারী হয়নি। গাড়ির টাকা দিয়েই গাড়ির খরচ চালানো হয়।

এ সময় নারায়ণগঞ্জের বন্দর থেকে আসা ষ্ট্রোকের রোগী জয়নালকে ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তখন রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে রাখা এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে চাইলে ১৫৫০ টাকা ভাড়া শুনে হতাশ হয়ে রোগীকে কোলে করে রাস্তায় নিয়ে যায় এবং একটা সিএনজি ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে যায়। এ সময় রোগীর স্বজনরা আফসোস করে বলেন, সরকারী হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে যদি ১৫৫০ টাকা লাগে তবে আমাদের মতো গরীব অসহায় রোগীদের কি অবস্থা হবে?

এভাবে প্রতিনিয়তই সেই পুরানো দালাল চক্রের হাতেই প্রতারিত হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। সেলিম ওসমানের সেদিনের হুঙ্কারে যারা আশার আলো দেখেছিলেন, তাদেরকে নিমজ্জিত থাকতে হলো সেই অতীতের তিমিরেই। দালালমুক্ত হাসপাতাল উপহার দেওয়ার সেদিনের সেই চ্যালেঞ্জ কতটুকু বাস্তবায়ীত হলো জানতে সেলিম ওসমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ নিতীশ কান্তি দেবনাথ জানান, এ্যাম্বুলেন্সের সরকারী ভাড়া কতো আমার জানা নাই। তবে হাসপাতালে দালাল রয়েছে এ কথা সত্য। তাই রোগীদের সচেতন থাকতে হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts