September 26, 2018

নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের দিন বদলের নতুন গল্প, সেলিম ওসমানের বিরল দৃষ্টান্ত!

রফিকুল ইসলাম রফিক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও জবাবদিহীতা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের প্রায় সকল স্থানকেই আনা হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা আওতায়। রোগীদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য যোগ হয়েছে নতুন ২টি এ্যাম্বুলেন্স। তৈরি করা হয়েছে আর্ন্তজাতিক মানের একটি কনফারেন্স রুম। সৌন্দর্য্য বর্ধনে বর্হি বিভাগের সমানে তৈরি করা হয়েছে ফুলের বাগান। এছাড়াও নতুন করে দেয়াল গুলোকে করা হয়েছে চকচকে।

দৃশ্যমান এমন পরিবর্তন শুধু বাইরে’ই সীমাবদ্ধ নয়। জরুরি বিভাগ তো বটেই, হাসপাতাল ভবনের দেয়ালের এখানে-সেখানে সাঁটানো নোটিশে বলা হয়েছে- ‘হাসপাতালে সরবরাহকৃত সরকারি ওষুধ শতভাগ প্রদান করা হয়’।

সিটিজেন চার্টারের বেশিরভাগ জুড়েও বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের কথাই। অর্থাৎ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়েই জানান দিচ্ছে- এ হাসপাতালে ওষুধের কোনো সমস্যা নেই। এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে জানাতে বলা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

এমন সব পরিবর্তনই বলে দিচ্ছে- আগের অবস্থায় নেই খাঁনপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতাল। আমূল পরিবর্তনের দৃশ্যপট হাসপাতালের ভেতরেও। প্রতিটি ওর্য়াডে বর্তমানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এই হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা এখন আর বিপন্ন কোনো গল্প নয়।

সরকারি হাসপাতাল গুলোতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সেবার প্রশ্নবোধক মানই যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন উল্টো মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত এ হাসপাতাল।

আর এতো সব পরিবর্তনের নেপথ্যের কারিগর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ী সমাজ। তাদের নেতৃত্বেই এ হাসপাতালের বহু দিনের সমস্যা আর অনিয়ম দূর হচ্ছে। এ যেন একের পর এক দিন বদলের নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ।

হাসপাতালকে আধুনিক, সুচিকিৎসা নিশ্চিতসহ ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কার্যকরী উদ্যোগ নিয়েছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি। যার নেতৃত্বে রয়েছেন আধুনিক নারায়ণগঞ্জ গড়ার কারিগর হিসেবে আবির্ভাব হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ ও বিকেএমইএ’র ব্যবসায়ী নেতা সেলিম ওসমান।

শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় ৩১লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল এ হাসপাতাল। পাশাপাশি চার পাশের জেলার মানুষজনও প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিভিন্ন সময় দেখা যায় ৩শ’ শয্যার বিপরীতে এখানে রোগী ভর্তি থাকে অনেক বেশি। তাই প্রয়োজনীয় মনিটরিং এর অভাবে যাতে সেবার মান নষ্ট না হয় সে বিষয়ে সাংসদের আরো সুদৃষ্টি আশা করছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের অবাধ বিচরণেও আনা হয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ। এ হাসপাতালের দেয়ালে দেয়ালে সাঁটানো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভয়বাণী রোগী ও তাদের স্বজনদের মাঝে আনছে শক্তি ও সাহস।

সরকারি ওষুধ সরবরাহের এ অবস্থা হাসপাতালের অন্য বিভাগগুলোতেও। হাসপাতালের ওষুধ পাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার পর থেকে বিনামূল্যেই ওষুধ মিলছে এ হাসপাতালে।

ফতুল্লার এক শিশু রোগীর বাবা আব্দুল মান্নান। একমাত্র মেয়ের চিকিৎসা নিতে সপ্তাহখানেক ছিলেন এ হাসপাতালে। বদলে যাওয়া হাসপাতালে অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রোগী শয্যা এখনো চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। তবে এখন হাসপাতালেই বিনা খরচে সব ওষুধ মিলছে। হাসপাতালের ওষুধ বাইরে পাচার করে ফার্মেসিতে বিক্রি বন্ধ হয়েছে, কমেছে দালালদের উৎপাত। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ও ওষুধ কিনে আনতে বাইরে পাঠানোর মাত্রাও কমেছে’।

এই হাসপাতালের ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটি’র অন্যতম সদস্য ও বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) জিএম ফারুক বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা স্বস্তি ও সেবাদায়ক করতে সততা, দক্ষতা ও আন্তরিকতার মধ্যে দিয়ে সব ধরনের সিন্ডিকেট ভেঙে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান এ হাসপাতালে গড়ে তুলেছেন একটি টিম ওয়ার্ক। চিকিৎসা সেবার মান বাড়ানোসহ সার্বিক পরিবেশ পাল্টে দিতেই কাজ করছেন তিনি’।

জিএম ফারুক আরো বলেন, সেলিম ওসমান ব্যবসায়ী সমাজের দক্ষ ও সফল নেতা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সদ্য বিদায়ী সভাপতি, বর্তমানে বিকেএমইএ’র সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের দায়িত্ব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তারপরেও রাতের আধারে রোগীদের খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার বিষয়টি সত্যিই মহৎ কাজ। তার সকল কর্মকান্ড বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে চির দিন। নারায়ণগঞ্জবাসী আজীবন কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ রাখবে বলে আমার দৃয় বিশ্বাস।

নারায়ণগঞ্জের আরও কিছু খবর……।।

বন্দরে সেলিম ওসমানের অর্থায়নে বৃহৎ বৃক্ষ মেলাকে ঘিরে উৎসব আমেজ

‘ নিজে বাঁচুন অন্য বাঁচতে দিন, গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান’ স্লোগানকে সামনে রেখে বন্দর উপজেলাকে সবুজ শহর ও ভবিষ্যত সম্পদ সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে বন্দরের সমরক্ষেত্র মাঠে ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার বৃহৎ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। মেলা উপলক্ষ্যে সমরক্ষেত্র মাঠে ইতোমধ্যেই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। বৃহৎ এই বৃক্ষ মেলাকে ঘিরে বন্দর এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ১২দিন মেলা চলবে।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অর্থায়নে, উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস ইন্ডাস্ট্রি এর তত্ত্ববধানে এই মেলাটির আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থান থেকে ২০টি স্টল বসানো হয়েছে। যেখানে, ওষুধি গাছ থেকে শুরু করে সকল ধরনের গাছের প্রদর্শনী থাকবে। আর মেলায় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের অর্থায়নে ক্রয় কৃত গাছ বন্দর থানা এলাকার সব গুলো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরন করা হবে। এছাড়াও মেলায় আগতরা তাদের পছন্দমত গাছ স্টল গুলো থেকে কিনে নিতে পারবেন।

এছাড়াও লাঙ্গলবন্দ ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, সহ বন্দরে যে সকল স্থানে বৃক্ষ রোপন করার সুযোগ রয়েছে সেই সকল স্থানে বৃক্ষ রোপন করা হবে।

সোমবার ২৩ আগস্ট সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞার সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার উপ পরিচালক আব্বাস উদ্দিন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল
শুভেচ্ছান্তে থাকবেন বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মৌসুমি হাবিব, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা এমরান হোসোনে।

রূপগঞ্জে পু‌লিশের সাথে অপরাধিদের সখ্যতা!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপ‌জেলার চনপাড়া পু‌লিশ ফাঁ‌ড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাবু‌বের সহ‌যোগীতা ও শেল্টা‌রে পুলিশ ফাঁ‌ড়ির সাম‌নের নির্মাণাধীন বা‌ড়ি‌তে মাদক ব্যবসায়ীদের ইয়াবার ব্যবসা বন্ধ হয়নি। শুধু তাই নয়, এসআই মাহাবু‌বের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বানিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের শেল্টার, বাদী-বিবাদীদের জিম্মি করে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য, চাদাঁবাজি, বিএনপি-জামাত-শিবির নেতাকর্মীদের আশ্রয়, স্বেচ্ছাচারিতা, মাদক স¤্রাটদের কথায় নিরীহদের ধরে অর্থের জন্য নির্যাতন, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া, মাদক উদ্ধার করে সেই মাদক আবার অন্য মাদক ব্যবসায়ীকে দিয়ে বিক্রি করা, অফিস রুমে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সাথে খোশগল্প ও ভুড়িভোজ করা এবং ৪০ হাজার টাকা উৎকোচের বিনিময়ে চনপাড়া পু‌লিশ ক্যাম্পের সামনে ইয়াবা সোহেলের নির্মানাধীন বাড়িতে ইয়াবার আসরে হারুন নামে এক নির্মান শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেয়াসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভূক্তভোগী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুব গত এক মাস পূর্বে রূপগঞ্জ থানাধীন চনপাড়া পু‌লিশ ফাঁ‌ড়ির ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেই শুরু করেন নানান অপকর্ম। ফাঁড়িতে অভিযোগ নিয়ে আসা সাধারাণ মানুষদের জিম্মি করে অর্থ আদায়, এলাকার সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত বখরা আদায় ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা ওই এসআই সংঘটিত করেনি। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, এসআই মাহাবু‌বের সহ‌যোগীতা ও শেল্টা‌রে পুলিশ ফাঁ‌ড়ির সাম‌নের নির্মানাধীন বাড়িতে চনপাড়া গ্রামের মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে গাঞ্জা হাবু ও ইয়াবা সোহেল জমজমাটভা‌বে ইয়াবার ব্যবসা চালাচ্ছে। নির্মানাধীন বা‌ড়িটির মালিক আতরবানুর অজ্ঞাতসারে মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে গাঞ্জা হাবু ও ইয়াবা সোহেল জমজমাটভা‌বে এ ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। চনপাড়া পু‌লিশ ফাঁ‌ড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাবু‌বের অফিস রুমে মাঝেমধ্যেই এই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের খোশগল্প ও ভুড়িভোজ করতে দেখা যায়। খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে গাঞ্জা হাবু ও ইয়াবা সোহেল অবাধে ইয়াবা ব্যবসা করলেও ফাঁ‌ড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাবুব দেখেও না দেখার ভান করছে। মাদক সম্রাট হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে গাঞ্জা হাবুর কাছ থেকে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পাইকারী দরে ইয়াবা কিনে চনপাড়া গ্রাম, পশ্চিমগাঁও ও চনপাড়া বস্তি এলাকায় ইয়াবা ব্যবসা করছে। যদি কোন ইয়াবা ব্যবসায়ী মাদক স¤্রাট হাবিবুর রহমান হাবু ওরফে গাঞ্জা হাবুর কাছ থেকে ইয়াবা না কিনে তাহলে এসআই মাহাবুবকে দিয়ে হয়রানী অথবা ধরিয়ে নিজেই তাদের মারধর করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, এসআই মাহাবু‌ব ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে চনপাড়া গ্রাম ও চনপাড়া বস্তির অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গড়ে তোলে গোপন সখ্যতা। অর্থের জন্য সাধারন মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন, এত অপকর্ম করার পরও এসআই মাহাবুবের কোন বিচার হচ্ছে না, এ এসআইয়ের খুঁটির জোর কোথায়? স্থানীয় জনগণ এসআই মাহাবুবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাকে দ্রুত চনপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে অপসারনের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চনপাড়া পু‌লিশ ফাঁ‌ড়ির ইনচার্জ এসআই মাহাবু‌বের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সমূহ সত্য না।

সিদ্ধিরগঞ্জে ট্যাংকলরি মালিকদের আল্টিমেটাম

সওজের ইজারা মাশুল অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, ট্যাংকলরি চলাচলে পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও তেল পরিবহনে কমিশন ও গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করাসহ ১২ দফা দাবি বাস্তবায়নে আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দাবি না মানলে আগামী ২৮ আগষ্ট ভোর ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত একযোগে সারাদেশে টানা ৯ ঘন্টা পেট্রোল পাম্প বন্ধ রাখা ও ট্যাংকলরিতে জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধ রাখবে তারা।

এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল পদ্মা শাখা কার্যালয়ে ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১১টয় সংগঠনের গোদনাইল পদ্মা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা মো. মজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল হক মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহামেদ রুশদী ও সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, বাংলাদেশ পদ্মা ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল পদ্মা শাখার সভাপতি জাহিদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন, আব্দুল জাব্বার, সিরাজ মিয়া, ফোরকান মিয়া, মহিউদ্দিন আহামেদ, মনির হোসেন, জালাল আহামেদ ও আলী হোসেন প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, সওজের ইজারা মাশুল ২৪ হাজার টাকা থেকে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ৩৭ হাজার টাকা করা হয়েছে। তেল পরিবহনে কমিশন ও গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করা। পুলিশ কাগজ পত্র চেক করার নামে রাস্তায় তেল বহনকারী ট্যাংকলরি দাঁড় করিয়ে চালক, হেলপারদের সাথে অশোভন আচরণ করে। জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। এ সময় তারা বলেন, সরকারকে আমাদের ১২ দফা দাবি জানানো হয়েছে। আশা করছি সরকার বিষয়টির যৌক্তিকতা ও গুরুত্ব অনুধাবন করে তা বাস্তবায়ন করবে।
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী নেই, বিকল হচ্ছে ডেমু ট্রেন

পরিবহন বিভাগের মতামত না নিয়ে কেনা ডেমু ট্রেন নিয়ে শুরু থেকেই বিড়ম্বনায় পড়েছিল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। একাধীকবার সংস্কারের কারণে আয়ের বদলে উল্টো লোকসান গুণতে হয়েছে। এরপরও দেশের বিভিন্ন রুটে ২০১৩ সাল থেকে ডেমু ট্রেন চালু করা হয়।

নানা বিড়ম্বনার মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করতে পারায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ডেমু ট্রেনে যাত্রীদের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই সময়ে আবারও নতুন বিড়ম্বনায় পড়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। কারণ চালুর দুই বছর না যেতেই একাধীকবার ডেমু ট্রেন বিকল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি দুই সেট মেরামত করে চালু করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডেমু ট্রেনের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করার মতো অভিজ্ঞ কোন প্রকৌশলী না থাকায় ট্রেন চালু করা যাচ্ছে না। ফলে ট্রেনটির ত্রুটি দেখা দিলে বিকল হয়ে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকবে। এছাড়া, আগামী এক বছরের মধ্যে ট্রেনটি বিকল হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকা-নারায়নগঞ্জ-ঢাকা রুটে নারায়নগঞ্জ কমিটার এক সেট (৭ নম্বার) ডেমু ট্রেনের উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু সেটি ১৫ মে থেকে বিকল হয়ে পড়ে। এর পর একাধীক বার ট্রেনটি যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করা হয়। কিন্তু অভিজ্ঞ কোন প্রকৌশলী না থাকায় ট্রেনটি বাব বার বিকল হয়ে পড়ছে। আর লোকসান গুণতে হয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে।

শুধু ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ নয়, একই অবস্থা কুমিল্লা কমিউটার, জয়দেবপুর কমিউটার, টঙ্গি কমিউটার ও চাঁদপুর কমিউটার ট্রেনে। এসব রুটে এক সেট ট্রেন কম চলাচল করছে। এছাড়া লাকসাম-নোয়াখালী-কুমিল্লা-লাকসাম রুটের নোয়াখালী কমিউটার প্রায় ২৪ দিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে।

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ডেমু ট্রেনের প্রবর্তনের সময় ও হালনাগাদ তথ্য বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০ সেট ডেমু ট্রেনের ১৪ নম্বর সেট রেলওয়ে পশ্চিমা লের পার্বতীপুরে মেরামতাধীন রয়েছে। রেলওয়ে পূর্বা লের পাহাড়তলী লোকেশেডে চার সেট মেরামতাধীন আছে। এছাড়া ঢাকায় স্পেশাল সিডিউলের জন্য তিনি সেট ও এক সেট অতিরিক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৮ সেট ডেমু বিকল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে রেলওয়ে কর্মকর্তা আবদুল হাই বলেন, ডেমু ট্রেন মেন্টেইন্যান্স করার মতো অভিজ্ঞ লোক না থাকায় দ্রুত মেরামত করা যাচ্ছে না। তবে ধীরে ধীরে আমাদের লোকজন অভিজ্ঞ হয়ে উঠছে। শিগগির এসব ডেমু ট্রেন ঠিক হয়ে যাবে।

তবে রেলওয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো: হারুনুর দাবি করেছেন বর্তমানে তিন সেট ডেমু মেরামতের জন্য ওয়ার্কশপে রয়েছে। বাকিগুলো চলাচল করছে। ডেমু ট্রেনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইঞ্জিন ও কাপলিং সমস্যাসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। মেরামত করে আবার চালানো হচ্ছে।

অনার্স পরীক্ষার সময় কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি না’গঞ্জে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স পরীক্ষার সময় ৪ ঘন্টার পরিবর্তে সাড়ে ৩ ঘন্টা করার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মান (অনার্স) ছাত্র ছাত্রীদের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ে মানব বন্ধনে তুরাগ হোসেন বলেন, সরকার হঠাৎ করে সম্মান(অনার্স) পরীক্ষার সময় ৪ ঘন্টার পরিবর্তে সাড়ে ৩ ঘন্টা সময় সীমা নির্ধারণ করেন। আমার সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যে পরীক্ষায় আমরা ৪ ঘন্টায় লিখে শেষ করতে পারি না তা কিভাবে সাড়ে ৩ ঘন্টায় লিখবো। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক মিনিট সময়ের জন্য পরীক্ষার প্রশ্ন না লিখতে পাড়ায় ফেল করে। আজ সারাদেশে একযুগে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার সময় কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করছে। আগামী ২৪ ই আগস্ট তারিখে সকল বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্র ছাত্রীরা পরীক্ষার সময় কমানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি করবে। আর যতদিন পর্যন্ত পরীক্ষার সময় বাতিল না করবে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বাতিলের দাবীতে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

উক্ত বিক্ষাভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- অনিক সাহা, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৩য় বর্ষ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ। তুরাগ হোসাইন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ। মোহাম্মদ আসিফ হাসান, অর্থনীতি বিভাগ, ৩য় বর্ষ, সরকারী তোলারাম কলেজ। লামিয়া, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ। শায়েলা, বাংলা বিভাগ, ৩য় বর্ষ, সরকারী মহিলা কলেজ। মোহাম্মদ তুহিন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ৩য় বর্ষ, নারায়ণগঞ্জ কলেজ। ফয়সাল হাসান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৩য় বর্ষ, কদম রসূল ডিগ্রী কলেজ। শারমিন, ৪র্থ বর্ষ, সোনারগাঁও ডিগ্রী কলেজ। সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সজিব শরীফ, সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদ এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ৪র্থ বর্ষ, সরকারী তোলারাম কলেজ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে চাষাড়া শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

না’গঞ্জে দীর্ঘ ৭ বছর পর বিএনপির কমিটি গঠনে শুরু!

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ১১ জন নেতা নিযুক্ত হওয়ার পর এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতে নতুন সভাপতি কে হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে জল্পনা-কল্পনা।

আর এবার ‘এক নেতার এক পদ’ হিসেবে যদি সদ্য নিযুক্ত খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড. তৈমূর আলম খন্দকারকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতির পদ ছাড়তে হয়, তাহলে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা পুনরায় নির্বাচিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ জেলা সভাপতি এবং মহানগর সভাপতি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বেশ গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

যদিও এর আগে মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে নগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক এটিএম কামালের নাম আর সভাপতি হতে লবিং করতে মহানগর বিএনপি নেতা নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেনের নাম শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এখন এপদে আবুল কালামের নামই বেশ জোরেসোরে শোনা যাচ্ছে। তবে কমিটি চূড়ান্তকরনের প্রধান বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক্ষেত্রে কি করেন তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তৃণমূল নেতৃবৃন্দরা।

দলীয় সূত্রে জানাগেছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির পুনরায় সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের প্রতি চিঠি পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া নারায়ণগঞ্জ জেলার ১১ জন নেতাকে নিয়ে এক টেবিলে বসে দলীয় কোন্দল নিরসনের লক্ষে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে জেলা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এখন গিয়াস উদ্দিনের বলয়ে ভীড়তে শুরু করেছেন। প্রতিদিনই নেতাকর্মীরা তার বাস ভবনে যেয়ে তাকে ফুলের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

আলহাজ্ব গিয়াউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, এতদিন মাঠের বাহিরে ছিলাম এখন মাঠের ভেতর। খেলা হবে মাঠে রাজপথে, কোন ঘরে বা বাড়িতে বসে না। দেখি জিয়ার সৈনিকেরা নারায়ণগঞ্জে আসে কিনা। তিনি বলেন, ঘরে বসে ব্যাইমান, বিশ্বাস ঘাতক আর ক্ষমতাসীনদের সাথে যোগাযোগ কারীদের নিয়ে কমিটি করে ঘর সাজানো ছাড়া আন্দোলন বা রাজনীতি করা যায়না। এখন কমিটি হবে রাজপথের সৈনিকদের দিয়ে। তরুন মেধাবী সাংগঠনিক নেতাদের নিয়ে কমিটি করা হবে।

গিয়াস উদ্দিন আরো বলেন, একটি দল হিসাবে বিএনপিকে নারায়ণগঞ্জে প্রতিষ্ঠত করতে হলে দলে সাংগঠনিক লোক দরকার। দলে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, কবি, সাহিত্যক, ইঞ্জিনিয়ার আসবে। কিন্ত তাদের দিয়ে কমিটি করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। দল চালাতে হলে সাংগঠনিক লোক দরকার । তাই সাংগঠনিক লোক দিয়ে এখন প্রতিটা কমিটি করা হবে।

অপরদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির অপর সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালামও দলকে ঐকবদ্ধ করতে নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনিও বলেন, বিগত সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়েই মহানগরের নতুন কমিটি হবে।

তাই তৃণমূল নেতাকর্মীরাও মনে করছে নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হিসেবে যদি গিয়াসউদ্দিনকে অধিষ্ঠিত করা হয় তাহলে বিএনপি আবোরো ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারবে।

এরআগে সম্মেলনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন এড. তৈমূর আলম খন্দকার। আর মহানগর কমিটি না থাকলেও আছে নগর কমিটি। যার সভাপতি হচ্ছেন জাহাঙ্গীর আলম আর সেক্রেটারী এটিএম কামাল।

যুগ ধরে বুড়োদের দখলে ফতুল্লা ছাত্রলীগ

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে হচ্ছে না ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের কমিটি। তাই অছাত্র আর বুড়োদের দিয়েই চলছে ফতুল্লা ছাত্রলীগের কমিটি। নতুন করে ছাত্রলীগের কমিটি না হওয়ায় তরুন নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা আর ক্ষোভ। তরুণদের নানামুখী চাপে রয়েছে ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলরা। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় একাধিক গ্রুপ বিভক্ত হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের তরুন নেতাকর্মীরা। ভেঙে পড়েছে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের চেইন্ড অব কমান্ড। এর ফলে সাংগঠনিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংগঠনটি এমনটি মনে করছেন ছাত্রলীগের মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তবে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ার ঘটনাকে দলের জন্য আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা। নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন যত দ্রুত কমিটি হবে দলের জন্য তত মঙ্গল হবে। তবে খুব শীঘ্রই কমিটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জেলা ছাত্রলীগের সূত্রে জানা গেছে ।
সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের কমিটি কবে গঠিত হয়েছে তাও বলতে পারছে না দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। গত প্রায় যুগ আগে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগে আবু মোঃ শরীফুল হককে সভাপতি এবং আঃ মান্নানকে সাধারন সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হয়। তখন এই কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে জনৈক শ্রমিক লীগ নেতা পন্থিদের দিয়ে আরো একটি কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক জি এম আরফাত। তবে বর্তমানে জিএম আরাফাতের বিদ্রোহী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীকেই মাঠ পর্যায়ে দেখা যায় না। এদিকে নতুন প্রকৃত ছাত্রদের অবমূল্যায়ন এবং ছাত্রলীগের নতুন কমিটি না হওয়ায় ছাত্রলীগ ত্যাগ করে মূল সংগঠনে যোগ দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বারো বছর পর নতুন কমিটিতে আসতে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সভাপতি আবু মোঃ শরীফুল হক এবং আঃ মান্নান অছাত্র হলেও তারা এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন। তাদের নেতৃত্বে এখনও ছাত্রলীগের রাজনীতি সক্রিয়। দলের সভা সমাবেশ কর্মসূচী চলছে তাদের নেতৃত্বেই। তবে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ তাদের অভিমত, জেলা ছাত্রলীগ যে পর্যন্ত ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগকে নতুন করে গোছানোর জন্য উদ্যোগ না নিবে সে পর্যন্ত তারাই বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটিতে বহাল থাকবে। কেননা, জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বেই ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ পরিচালিত হয়ে আসছে। আর কি কারনে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে না তা জেলা ছাত্রলীগই ভাল করে বলতে পারবেন। এদিকে পুরনো নেতাদের দিয়ে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের কমিটি পরিচালিত হওয়ার ফলে ছাত্রলীগের তরুন নেতৃত্ব গড়ে উঠছে না। ফলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ জানান, বর্তমানে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগের মধ্যে হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। যারা বর্তমানে নেতৃত্বে রয়েছে তাদের দিয়ে ছাত্রলীগ পরিচালিত হওয়ার ফলে দলের আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহনে ব্যর্থ হচ্ছে। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে দ্রুত ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে সক্রিয় নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবি জানান তারা।
এ প্রসঙ্গে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মো: শরীফুল হক জানান, নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাফায়েত আলম সানি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কমিটি নেই এমনটি শুনতে লজ্জা লাগে। নিজেকে দায়ী মনে হয়। কোন জবাব দিতে পারিনা নতুন নেতাকর্মীদের কাছে। তবে এটি দলের জন্য আত্মঘাতী। দল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গতিশীলতা আসছে না। নেতাকর্মীরা মারাত্মকভাবে হতাশ। তবে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট নগরবাসী

লোডশেডিংয়ের যাতাকলে পড়ে নারায়ণগঞ্জবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে, স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীরা।
দিনে ও রাতে অব্যাহত লোডশেডিংয়ে কল-কারখানায় উৎপাদনেও ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। প্রচ- খড়তাপে মানুষ যখন অফিস-আদালত, কল-কারখানায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরে তখন তারা চায় একটু স্বস্তি ও আরামে জীবন কাটাতে। কিন্তু বিদ্যুতের ভেলকি-বাজির কারণে তাদের জীবনে নেমে আসে অস্থিরতা। বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের যাতাকলে পড়ে কাজ-কর্ম শেষে বাড়ি গিয়ে রাতে কেউ আর আরামে ঘুমাতে পারে না। আর বাচ্চা শিশুরা গরমে ছটফট করতে থাকে। পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ঠিকমত পড়াশোনা করতে পারে না। সন্ধ্যার পরপরই বেশি বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়, এসময় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীরা মোমবাতি বা কুপি জ¦ালিয়ে সে নিভু নিভু আলোয় পড়াশোনা করে। ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ভাল করে হয়ে উঠে না। যাদের সামর্থ আছে তারা আই.পি.এস. কেনার মাধ্যমে লোডশেডিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে গ্রীষ্মে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদা থাকে। কিন্তু এর বিপরীতে বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় প্রতিদিন গড়ে ৫/৬ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। সামনে আরও বড় ধরনের লোডশেডিং আশংকা করছে নারায়ণগঞ্জবাসী। আর অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে বাজারগুলোতে মোমবাতির মূল্যও আরেক দফা বেড়েছে বলে জানা গেছে।

ইজারা শর্ত ভঙ্গ করে স্থাপনা নির্মাণ, ইজারাদার কে?

শহরের টানবাজার থানা পুকুরপাড় ট্রাকস্ট্যান্ডের আসল ইজারাদার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খাতা-কলমে একজনের নাম থাকলেও বাস্তবে রাস্তা ক্ষতিপূরণ অর্থ (টোল) তুলছে আরেকটি প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, ইজারার শর্তের তোয়াক্কা না করেই যেখানে সেখানে ইচ্ছেমত টাকা তুলছেন তার লোকজন। এমনকি স্টান্ডে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে অবৈধ ব্যবসাও চালিয়ে আসছে দাবিদার ইজারাদার।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, টানবাজার থানা পুকুরপাড় ও আশপাশ এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনের কাছ থেকে ইচ্ছেমত টাকা তোলা হচ্ছে। জোর করে এসব টাকা তুলতে কয়েকজন সংগ্রহকারী নিয়োগ দিয়েছে ইজারাদার। ফলে ট্রাক চালক ও অন্যান্যরা ইচ্ছের বিরুদ্ধে রশিদে উল্লেখিত টাকার অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ইজারার মেয়াদ শেষ হবার পরে নতুন করে ইজারা না দিয়ে তিন মাসের জন্য ‘থোক বরাদ্দ’ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেয়েছেন লবন মিল মালিক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ। অভিযোগ রয়েছে, মামুনুর রশিদ ইজারাটি এককালীন অর্থ নিয়ে ইকবাল আহমেদ সবুজ নামের এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করেছেন।
এদিকে স্ট্যান্ডটি ইজারা নিয়েছেন দাবি করে ফাতেমা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এর মালিক সবুজ স্টান্ড মাঠে একটি পাকা স্থাপনাও নির্মাণ করেছেন। সেখানে নিজের অফিস বানিয়ে ব্যবসায়িক কাজ-কর্ম করছেন। তবে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের বাজার কর্মকর্তা মো: জহিরুল আলম জানান, ইজারাপ্রাপ্ত স্টান্ডটি হাতবদলের কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া পাকা ঘর নির্মাণ ইজারা শর্তের খেলাপ। এতে চুক্তির শর্তই ভঙ্গ হয়নি, আইনত দ-নীয়ও। শিগগির ইজারাদারকে চিঠি দিয়ে এর জবাব জানতে চাওয়াসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
অন্যদিকে ইজারাদার মামুনুর রশিদ বলেন, তিনি কারো কাছে ইজারা হস্তান্তর করেননি। কে ওখানে ঘর তুলেছে তিনি তা জানেন না।

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

Related posts