December 12, 2018

নারায়ণগঞ্জ শহরে জমি যেনো সোনার হরিণ

রফিকুল ইসলাম রফিক                         
নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরে জমির দাম আকাশ চুম্বি হয়ে পড়েছে। বেচাকেনা করার মত জমি নেই। এমন অবস্থা হয়েছে কোটি টাকা দিলেও চাহিদা মতো জমি পাওয়া যাচ্ছে না । অপরদিকে নগরীর বাইরে গত পাঁচ বছরে জমির দাম বিশ থেকে পচিশ গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে জমির ব্যবসায় এখন মিশ্র ভাব বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন মধ্যস্থতাকারি।বলেছেন ৭/৮ বছর আগে যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম ও চাহিদা বেড়ে যাচ্ছিল সে অবস্থা  এখন আর নেই। কোথাও কোথাও দালালের খপ্পরে পড়ে ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে। একই জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে একাধিক ক্রেতার কাছে। জমি নিয়ে হামলা মামলার ঘটনা অনেক, প্রতিদিনই ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের আদালতে প্রায় ৫ হাজার মামলা বিচারাধিন রয়েছে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে। কারো কারো মতে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় মামলার সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।

নারায়ণগঞ্জ সদরের আশপাশে শিল্পকলকারখানা এবং বাড়িঘর গড়ে উঠায় জমির দাম প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জমি বিক্রেতাদের অভিমত। অন্যদিকে মূল্য ও চাহিদা বৃদ্ধিও কারণে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনা বেড়েই চলছে । জানা গেছে , নারায়ণগঞ্জের একটি আদালতেই প্রায় ৫ হাজার মামলা বিচারাধিন। এছাড়াও প্রতিদিন জমি দখল কেন্দ্র করে হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাইরে ফতুল্লায়, সিদ্ধিরগঞ্জ, আড়াইহাজার, সোনারগাঁও ও রূপগঞ্জে গত ১০ বছরে শ’শ’ শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে প্রায় এক হাজার নীট ও গার্মেন্টস গড়ে উঠায় এখানে জমি দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এলাকায় যে জমি অবস্থান ভিত্তিক দুই থেকে তিন লাখ টাকা শতক বিক্রি হয়েছে তা এখন বিক্রি হচ্ছে বার থেকে বিশ লাখ টাকা পর্যন্ত। ফতুল্লা শিল্পা লে প্রতি শতক জমির দাম নূন্যতম ২৫ লাখ টাকা। বিসিক প বটি এলাকায় এক শতক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। মূল শহরের প্রধান সড়কের পাশে কোটি টাকা দিলেও চাহিদার জমি পাওয়া যাচ্ছেনা বলে একটি নিমার্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান ।

রূপগঞ্জে হাউজিং কোম্পানি গুলোর কারণে জমির দাম সব চেয়ে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।তবে জমির মালিকরা এই উচ্চ মূল্য পাচ্ছেন না। মধ্যসত্বভোগিরা মাঝখান থেকে ফয়দা নিচ্ছে।  রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপ শহর এলাকায় তিন কাঠা জমির প্লট বিক্রি হচ্ছে এক কোটি টাকা। আশেপাশের জমির দাম পাঁচ বছর আগে ছিল প্রতি কাঠা চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা। সেখানে এখন প্রতি কাঠা জমির দাম ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। এ জমি গুলো বর্তমানে ধানের জমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে জমি গুলো ৬ থেকে ৭ ফুট ভরাট করতে হবে। রূপগঞ্জে জমি ক্রয় করতে গিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত হতে হচ্ছে সব চেয়ে বেশী। এখানে জমির সংঘবদ্ধ দালাল চক্র জমি ক্রেতাদের প্রতারণার ফাদে ফেলে লুটে নিচ্ছে অর্থ। এখানে একই জমি প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে কয়েক জনের কাছে। প্রভাবশালিদের ছত্রছায়ায় জমির দালাল চক্র রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। রূপগঞ্জে সামরিক বাহিনীর নামে আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে। রূপগঞ্জে ৫০-৬০ টি হাউজিং কোম্পানি জমির কেনাবেচার কাজে জড়িত। অপর দিকে রূপগঞ্জ এলাকায় ছোট বড় সহস্রাধিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠায় জমির দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে এলাকাবাসি জানায়। সেখানে কৃষকের জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয়া হয় হাউজিং কোম্পানির নামে। অথবা এক কাঠা কিনে পুরো জমি যেনো হাউজিং সেটা বুঝানোর চেস্টা করা হয়্ এরপর ধিরে ধিরে আশপাশের জমি গ্রাস করার পায়তারা চলে। এজন্য সেখানে অনেক হামলা মামলার ঘটনা ঘটছে।

রূপগঞ্জের পাশ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলা এখানে পাওয়ার লোম ও স্পিনিং মিল গড়ে উঠায় আবাদি জমি গুলোতে এখন শিল্প কল কারখানা গড়ে উঠছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে আড়াইহাজারের গোপালদি এলাকায় প্রতি কাঠা ভরাট জমি বিক্রি হচ্ছে নূন্যতম ৪০ লাখ টাকা। যে কোন আবাদি জমির দাম প্রতি কাঠা ৮-১০ লাখ টাকা। একই অবস্থা সোনারগাঁও উপজেলায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আশ পাশে  প্রতি কাঠা জমি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ লাখ টাকা। তবে রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশ ঘেষা কোন জমি এখন কেনার জন্য পাওয়া যায় না। এই উপজেলাতেও জমি নিয়ে হামলা মামলা অনেক। একটি মামলার মামলার অভিযোগে জানাগেছে, কেশব চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তির কাছে কৃষন দাসের জমি বিক্রি করতে অসম্মতি জানালে তার বাড়িতে হামলা করা হয় এতে ৩ জন আহত এবং ভাংচুর করা হয়।

ওয়ারিশ খুজে বের করা এখন একটি লাভজনক পেশাঃ

জমি নিয়ে আত্নীয়দের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে, আবার দালাল শ্রেণী ওয়ারিশ খুজে খুজে বের করে মামলা করাচ্ছে । যে সকল জমির দাবি করার ইচ্ছে ছিলনা বা পূর্বপুরুষদের সময় মিমাংশা হয়েছিল এখন কাগজ পত্র না থাকাতে মামলা হচ্ছে। একইভাবে হচ্ছে হামলা দখল । এই শ্রেনী ওয়ারিশদের কাছ থেকে পাওয়ার নিয়ে নেয়। মামলার খরচ দখল করার সব কিছু নিজেরা করে। জমির সত্ব পেলে এরা নিসয়ে যাচ্ছে ৩/২ অংশ। ওয়ারিশদের দিচ্ছে ৩/১ অংশ। ওয়ারিশ ব্যবসা এখন একটি লাভজনক পেশা।

অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন গঠিত হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের জমির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। রাস্তা ঘাটসহ জন অবকাঠামো নিমার্ণ কাজ শুরু হবার পর দিন দিন আকর্ষনীয় এলাকায় পরিনত হয়েছে । সম্প্রতি নগরীর দেওভোগ পাক্কারোড সংষ্কার এবং লেক নিমার্ণের কাজ শুরু হতে না হতে কয়েকটা বাড়ি বিল্ডার্সরা চেয়েছে উন্নয়ণের জন্য একই ভাবে বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে হুহু করে বেড়ে গেছে মূল্য। তবে গত কয়েক বছর অর্থনৈতিক মন্দার কারণে শহরে জমি বেচা কেনা কম হচ্ছে । একাধিক জমির ব্রোকারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিভিন্ন কারনে বেচা কেনা কমেগেছে তবে চুম্বুক জমির জন্য কোন সমস্যা হয় না। কিন্তু আকষনীয় জমিতো আর সবাই ছেড়ে যায় না।  শহরের প্রাণ কেন্দ্র বঙ্গবন্ধু সড়কের দুই পাশে এক কোটি টাকার নিচে এক শতাংশ জমি পাওয়া যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর মিশন পাড়া এলাকায় প্রতি শতক জমি ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু জমির ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতার অভাব রয়েছে শহরে । ডেভেলেপাররা বেশ কিছু জমিতে বহুতল ভবন নিমার্ণ করার কারণে এখন জমির মালিকরা সেদিকেই ঝুকে পড়েছে। #  ইমামুল হাসান স্বপন

নারায়ণগঞ্জের আরও খবর……।।

আড়াইহাজার জমে উঠেছে ঈদ বাজার

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় স্বল্প পরিসরের ফুটপাতেও জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। নিম্নবিত্ত গরীব মানুষ স্বাচ্ছন্দে কেনাকাটা করছেন। তবে  দাম একটু বেশি। ফুটপাতে কি নেই! ছেলেদের পাঞ্জাবি, শার্ট প্যান্ট, বেল্ট, লুঙ্গি, টুপি ও সুগন্ধি থেকে শুরু করে মেয়েদের সিঙ্গেল কামিজ, টপস, টাইস, বাচ্চাদের থ্রি পিস, ফ্রক, স্কার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি এমনকি জুতা ও চশমা পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলা সদরের ইদ্রিস সুপার মার্কেট, পিংকি সুপার মার্কেট এর সামনে অংশ সহ পুরো বাজার জুড়ে ফুটপাতে চলতে ফিরতে ‘বাইচ্ছা লন, আর পাইবেননা, ফুরাইয়া গেল’- দিনভর এমন হাকডাক শোনাযায়। তাছাড়া হাজী লতিফ মার্কেট এর সামনে হকারদের জামা কাপড়ের দোকান গুলো জমজমাট। এক সময়ের ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী হকার মজনু মিয়া সহ অর্ধ শতাধিক দোকান নিয়ে বিভিন্ন  ধরনের নাম দিয়ে গরীবের জন্য তৈরী জামা কাপড়ের দোকান দিয়েছেন।
দূর্মূল্যের এই বাজারে  আড়াইহাজারের উন্নত মার্কেটগুলো যখন উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের ভিড়ে সরগরম, তখন ফুটপাতের দোকানগুলোই নিম্নবিত্তদের প্রধান অবলম্বন।
ফুটপাতের বিক্রেতারা জানান, ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে ছেলেদের পাঞ্জাবি, ২০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে শার্ট, ১৫০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে টি শার্ট এবং ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে ফতুয়া। ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকার মধ্যে বাচ্চাদের সব ধরনের জামা কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।
এখানের মার্কেটে ফুটপাতের দামেই জামাকাপড় বিক্রি হয়। ফুটপাতের পরিচিত কয়েকটি মুখই এখানে সেলসম্যান। ফলে আসতে যেতে ক্রেতাদের ডেকে ওরা ধুম বেচাকেনা করছে। নজরুলের দোকানে ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বাচ্চাদের নতুন জামা কেনা যায়।
আড়াইহাজার বাজারে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা দিঘিরপাড় এলাকার আসাদ মিয়া  জানান, ‘ বড় মার্কেটে কেনাকাটার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই ফুটপাত থেকে ঈদের কেনাকাটা করেছি। এখানে কমদামে পাওয়া যায় পছন্দের জিনিস। জামা কাপড়ের মান ও ভাল। একই জামা বড় মার্কেটে তিনচার গুন বেশি দামে বিক্রি হয়।
ফুটপাতে স্বল্প আয়ের মানুষের ভিড় লেগেই আছে। অভিজাত বিপনী বিতান গুলো থেকে উচ্চ মূল্যের কারনে পছন্দের জিনিস কিনতে না পেরে গরীব মানুষগুলো হুমড়ি খেয়ে পড়ে ফুটপাতে। ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে যার যার পছন্দ অনুযায়ী জিনিস পত্র কিনছেন। ধনী দরিদ্র সবার চাই নতুন জামা জুতো। ধনী ও মধ্যবিত্তদের পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটায় পিছিয়ে নেই অল্প আয়ের মানুষ ও।
এ দিকে ঈদের আগে পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। কৃ পুরা এলাকার ড্রাইভার দিদার হোসেন জানান, ‘কিছুদিন আগেও ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে গেঞ্জি কিনছি, এখন তার দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকা। ’ তবে শেষ সময়ে এসে কেনা কাটার ধুম পড়েছে মার্কেট গুলোতে।

শাহআলমকে তৈমূরের বৃদ্ধাঙ্গুলী
 
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহআলম যিনি একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি সহ কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদে রয়েছেন সেই শিল্পপতিকে রাজনৈতিকভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। ফতুল্লায় শনিবার ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক ইফতার দোয়া মাহফিল নিয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে বিভাজন সহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও নতুন মেরুকরন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, শনিবার ফতুল্লা থানা ছাত্রদলের ব্যানারে বিসিক এলাকায় ইফতার দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন ছাত্রদল নেতা রাসেল মাহামুদ। উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান রোজেল, যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনু, জুয়েল রানা, ফতুল্লা যুবদলের সভাপতি শহিদুল ইসলাম টিটু, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব রহমান, জেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক নাসির উদ্দীন, মহানগর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব আলী আজগর, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক গিয়াসউদ্দীন প্রধান, সোনারগাঁও থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি কাজী নজরুল ইসলাম টিটু প্রমুখ। এ অনুষ্ঠানের পিছনে ছিলেন ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি তৈমূর আলম খন্দকার নিজেই। ফতুল্লায় অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হয়নি থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজাদ বিশ্বাস সহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। ছাত্রদলের ব্যানারে ওই অনুষ্ঠান হলেও সেখানে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কিংবা যুগ্ম আহ্বায়কদের দাওয়াত না করা হলেও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব রহমানকে করা হয়েছে প্রধান বক্তা ও মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনুকে করা হয়েছে বিশেষ বক্তা। যাতে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের চরম চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করা হয়েছে।
তবে এ আয়োজনের পিছনের কারণ হিসেবে জানা গেছে বর্তমানে তৈমূর আলমকে আগের মত মুহাম্মদ শাহআলম তোয়াজ করেন না। তৈমূরের হাতে হাতও মিলান না শাহআলম। মুহাম্মদ শাহআলম কেন্দ্রীয় বিএনপির একজন ডোনার হিসেবে এ জেলায় পরিচিত। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৈমূর আলম খন্দকার শাহআলমকে শোকজ করলেও কোন জবান দেননি শাহআলম। তৈমূরকে আমলেই নিচ্ছেন না শাহআলম। যে কারণে তৈমূর আলম অনেকটা ক্ষুব্দই শাহআলমের প্রতি। যে কারষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দিয়েই শাহআলমকে সাইজ করলেন তৈমূর। এক সময় মুহাম্মদ শাহআলম তৈমুরকে খুবই তোয়াজ করতেন। কিন্তু তৈমুরকে পাস কাটানোর কারণে এবার তৈমূরও শাহআলমকে পাস কাটিয়েই ওই অনুষ্ঠানে গিযে হাজির হয়েছেন। সাথে যাদেরকে দাওয়াত করা হয়েছে তাদেরকেও নিয়ে গেছেন সেখানে তৈমূর। তবে শাহআলমের ভীত নাড়াতে গিয়ে ছাত্রদলের মধ্যেও শুরু হয়েছে নানা কানাঘুষা। ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে চেইন অব কমান্ড ভঙ্গ করেছেন তৈমূর আলম খন্দকার। একই সঙ্গে ছাত্রদলের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টিতে উস্কানি দিয়েছেন তিনি। আর ওই অনুষ্ঠানে হোচট খেয়েছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ ফতেহ মোহাম্মদ রেজা রিপন ও মশিউর রহমান রনি। একজন আনাড়ি ধাচের ছাত্রদলের কর্মীর কাছে এ দুজন যুগ্ম আহ্বায়ক অনেকটাই মানসিক লাি ত হয়েছেন। এখানে উল্লেখ্যযে, ওই অনুষ্ঠানের আগের দিন শুক্রবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান রনির সমর্থক অর্ধশত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই অনুষ্ঠানে তৈমুুর আলমকে উপস্থিত না হতে অনুরোধ করেন। ওই সময় তৈমূর আলম খন্দকার ছাত্রদলের ওই সব নেতাকর্মীদের ধমক দেন।

শিক্ষিকার অশ্লীল ভিডিও ধারণ<< শিক্ষককে গণধোলাই

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জোরপূর্বক কিন্ডারগার্টেনের এক শিক্ষিকার নগ্ন ভিডিও ধারন করে একই স্কুলের এক শিক্ষক ধর্ষনের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনা জানা জানি হলে এলাকাবাসী ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কলিঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষিকার বরাত দিয়ে কা ন পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানান, দাউদপুর ইউনিয়নের খৈশার এলাকার এক অটো রিক্সা চালকের মেয়ে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা(১৯) এবং পার্শ¦বর্তী কালীগঞ্জ থানাধীন সোমবাজার এলাকার আজাহানের ছেলে আরিফ হোসেন(২৩) একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করতো। পাশাপাশি ঐ শিক্ষিকা টঙ্গী সরকারী কলেজে পড়াশোনাও করতো। দেড় মাস আগে শিক্ষিকা টঙ্গী কলেজে ক্লাশ শেষে বাড়ী ফেরার পথে শিক্ষক আরিফ তাকে কিন্ডারগার্টেনের কিছু সরঞ্জামাদী কেনার জন্য তার সাথে ঢাকায় যেতে বলে। সে তার কথা মতে  রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় গেলে শিক্ষক আরিফের এক বন্ধু তাদের তার বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি ঘরের ভিতর পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আরিফ শিক্ষিকাকে নিয়ে গেলে তার বন্ধু বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে চলে যায়। এ সুযোগে শিক্ষিকাকে জোরপূর্বক তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মোবাইলে অশীল ভিডিও চিত্র ধারন করে তাকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। এমনকি এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি প্রদান করে। এই ঘটনার পর শিক্ষিকা কিন্ডারগার্টেন থেকে চাকুরি ছেড়ে দেয়। এদিকে, কয়েকদিন ধরে শিক্ষিকার এক বান্ধবীর মাধ্যমে তাকে কু-প্রস্তাব পাঠায় শিক্ষক আরিফ। অন্যথায় ধারন করা ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ও ফেইসবুকে প্রচার করবে বলে হুমকি প্রদান করে। অবশেষে বাধ্য হয়ে শনিবার বিকালে শিক্ষিতা এ ঘটনা তার পরিবারকে জানায়। পরিবারের লোকজন এলাকবাসীর সহায়তায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলিঙ্গা এলাকা থেকে শিক্ষক আরিফকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ইসমাইল হোসেন জানান, ঘটনাটি খুবই ন্যাক্কারজনক। অভিযুক্ত শিক্ষকে আটক করা হয়েছে।

ভোটার নয় হত দরিদ্রদের ঈদ সামগ্রী পৌছে দেয়ার অনুরোধ সেলিম ওসমানের

সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে প্রদান করা ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট প্রকৃত অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের বিতরনের অনুরোধ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। কোন অবস্থাতেই যাতে করে কেউ ভোটার হিসেব করে অথবা বাড়ির ভাড়াটিয়া, কাজের মহিলাদের হাতে যেন এ ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট তুলে না দেন এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেছেন।
রোববার ২৬ জুন বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের তৃতীয় তলায় সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ-৫ নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের সাথে মত বিনিময় সভায় তিনি এ অনুরোধ করেন।
পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সিনিয়র সহ সভাপতি মঞ্জুরুল হক সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতাদের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জের হতদরিদ্র মানুষের মুখে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমাদের সাধ্যমত ক্ষুদ্র পরিসরে ঈদ সামগ্রী দিয়ে সহযোগীতা করেছি। আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে ঈদ সামগ্রী গুলো প্রকৃত হতদরিদ্র মানুষের কাছে পৌছে দিবেন।
সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২৫ হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রী এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগীতা আর ১৪ হাজার প্যাকেট সহ মোট ৩৯ হাজার ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট বিতরন করা হবে। পরবর্তীতে দলীয়ভাবে আরো ৬ হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রী বিতরন করা হবে মত বিনিময় সভায় জানান সেলিম ওসমান।
সভায় সেলিম ওসমান জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে ২৫ হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রীর ব্যবস্থা করে ছিলাম। বাংলাদেশ ইয়ার্ন মাচেন্টের ইফতার মাহফিলে আমি ব্যবসায়ী সংগঠন গুলোর উদ্দেশ্যে ইফতার মাহফিলের আয়োজন না করে সেই অর্থ দিয়ে হত দরিদ্র মানুষের ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানাই। আমার আহবানে সাড়া দিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন গুলো আমাকে যথেষ্ট পরিমান সহযোগীতা করেছে। যার ফলে ঈদ সামগ্রীর প্যাকেটর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৩৯ হাজারে। এ সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। কোন ভোটার উদ্দেশ্য করে এই ঈদ সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে না। হত দরিদ্র মানুষ গুলো যাতে অত্যন্ত ঈদের দিনের সকালে হাসতে পারে তাদের সন্তানদের মুখে সেমাই তুলে দিতে পারে তার জন্যই আমাদের এই প্রচেষ্টা। প্যাকেট গুলো বিতরনের সময় হতদরিদ্র শব্দটি ভুলে গেলে চলবে না। ঈদের দিন সকালে একজন মানুষও যাতে তাদের সন্তানের মুখে সেমাই তুলে দিতে না পেরে চোখের পানি না ফেলে।
জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়ে চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাদেরকে ভুলে গেলে চলবে না আপনারা শতভাগ ভোট পেয়ে পাশ করেননি। আপনাদের সাথে যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরকেও জনগন ভালোবাসে। তাই ঈদ সামগ্রী গুলো বিতরনের সময় তাদেরকেও সাথে রাখতে হবে। তাদের মূল্যায়ন করতে হবে, চেয়ারম্যান মেম্বার পদে যারা বিজয়ী হতে পারেননি তাদের সবাইকে সাথে রাখতে হবে, সাবেক চেয়ারম্যান যারা আছেন তাদেরকেও সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।
মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর নব নির্বাচিত সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ সহ সভাপতি(অর্থ) জিএম ফারুক, সাবেক সহ সভাপতি এম এ হাতেম, বাংলাদেশ ইয়ার্ন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিটন সাহা, বাংলাদেশ হোসিয়ারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নব নির্বাচিত পরিচালক, ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, পরিতোষ কান্তি সাহা, শংকর সাহা, বিকেএমইএ এর পরিচালক হুমায়ন কবির খান শিল্পী, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র শারমিন হাবিব বিন্নী, কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু, শওকত হাসেম শকু, কামরুল হাসান মুন্না, আনোয়ার হোসেন আনু, হান্নান আহম্মেদ, ফয়সাল সাগর, নূর হোসেন মিয়া, নারী কাউন্সিলর খোদেজা খানম নাসরিন, ইসরাত জাহান খান স্মৃতি, রেজওয়ানা হক সুমি, ইফতা জাহান মায়া, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকছুদ হোসেন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।
উল্লেখ্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৪ সালে ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার অসহায় পরিবারের ঈদের মাঝে ২০ হাজার প্যাকেট ঈদ সামগ্রী বিতরন করেন। একই ভাবে ২০১৫ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ হাজার পরিবারের মধ্যে ঈদ সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করা হয়। যার মধ্যে ছিল একটি শাড়ী, ১ কেজি ফ্রেস চিনি, ২৫০ গ্রাম ফ্রেস গুড়া দুধ, ১ লিটার ফ্রেস সয়াবিন তেল, ১ কেজি ফ্রেস আটা, ১ কেজি প্রাণ চিনিগুড়া চাল, ৪০০ গ্রাম চিকন সেমাই ছিল।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২৬ জুন ২০১৬

Related posts