November 18, 2018

নারায়ণগঞ্জ বোমা হামলা ট্রাজেডি দিবস<<১৫ বছরেও বিচার না হওয়ার ক্ষোভ

রফিকুল ইসলাম রফিক                     
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আজ ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জ বোমা হামলা ট্রাজেডি দিবস। ২০০১ সালে এই দিনে নগরীর চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে নৃশংস বোমা হামলায় আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলাসহ ২০ জন নিহত হয়। আহত হয় তৎকালিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার ১৫ বছর পেড়িয়ে গেলেও এখনো এ হত্যাকান্ডের বিচার হয়নি। প্রাণে বেঁচে যাওয়া আহতরা পঙ্গুত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো  দিন কাটাচ্ছে অর্থ সংকটে। বোমা হামলার ভয়াল সেই দিনের ঘটনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম রফিকের পাঠানো তথ্য ও ছবি নিয়ে একটি রিপোর্ট :

প্যাকেজ
২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া বিজয় স্তম্ভের পাশে আওয়ামীলীগ অফিসে তৎকালিন এমপি শামীম ওসমানের গণসংযোগ কর্মসুচী চলাকালে  শক্তিশালী বোমা হামলায় ৪ নারীসহ ২০ জন প্রাণ হারায়। আহত হয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ শতাধিক নেতাকর্মী। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে। বোমা হামলার ঘটনার পরদিনই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামী করে দু’টি মামলা দায়ের করেন।

চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চুড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। বোমা হামলায় নিহত ফুটপাতের পিঠা বিক্রেতা হালিমা বেগমের ছেলে কালাম বাদী হয়ে শামীম ওসমান ও তার দুই ভাইসহ অনেককে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নিদের্শে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

পরে এ মামলায় গ্রেফতার হয়েছে চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের কমিশনার আরিফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদল নেতা শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জন। সবশেষ ২০১৪ সলের ২ মে তদন্ত সংস্থা আদালতে ছয়জনকে আসামী করে চার্জশীট দাখিল করে। তার মধ্যে ভারতে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি নেতা আনিসুল মোরসালিন ও মাহবুব মোত্তাকিন এবং জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সি, ওবায়দুল হক, স্থানীয় বিএনপির নেতা শাহদাত উল্লাহ জুয়েল ও শওকত হাসেম শকু। মামলার ৫৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পযর্ন্ত শুধুমাত্র বাদীর সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নানা আশ্বাস দিলেও তা বাস্তসায়ন করা হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছরে বিচার না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত বিচারের দাবী করেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

প্রক্রিয়াগত কারণে মামলার সাক্ষ্য গ্রহনে বিলম্ব হচ্ছে জানিয়ে বোমা হামলায় আহত ও মামলার বাদী এডভোকেট খোকন সাহা দাবি করে বলেন, মামলাটি দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এমন নৃসংশ হত্যাকান্ডের বিচার হবে।

এ মামলার আসমীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ কয়েকটি মামলার আসামী হওয়ায় সাক্ষ্য গ্রহনে বিলম্ব হয় জানিয়ে পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, বোমা হামলার ঘটনার দায়ের করা দু’টি মামলা এখন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ১৩ জুলাই হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা দু’টির সাক্ষীর জন্য দিন ধায্য আছে এবং ওই দিন খেকে নিয়মিত ব্যবস্থা করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে বলে জানান।

বোমা হামলায় হতাহতদের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীরও দাবি এ ঘটনার দ্রুত বিচার।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৫ মে ২০১৬

Related posts