September 24, 2018

নারায়ণগঞ্জে ৫ খুনঃ পুলিশ ও র‌্যাবের আশা খুনীরা দ্রুত ধরা পড়বে?

120

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

রোববার সকাল পৌনে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, ‘দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, শিশুরা কখনো টার্গেট হতে পারেনা। চিনে ফেলবে বা সাক্ষ্য দিবে এজন্যই ওই দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ওই ফ্ল্যাট থেকে খাবার, হালুয়া রুটিসহ অন্যান্য সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার পিছনে যেসকল কারণ ছিল সবগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মামলার ক্ষতি হবে এমন কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’

এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি একটি নৃশংস হত্যাকা-। জেলা পুলিশ ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি র‌্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। সবগুলো কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে রহস্য উদঘাটন করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

২ জনকে আটকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের আটক নয় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেয়া হয়েছে।’ খুনিরা পেশাদার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুনিরা পেশাদার নাকি অপেশাদার সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা। পারিবারিক বিরোধ সম্ভাব্য একটি কারণ হতে পারে।’

এদিকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে নিহতদের লাশ রাখা হয়েছে। হাসপাতালের আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান জানান, পুলিশ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসলে ময়নাতদন্তের কাজ শুরু হবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকার একটি ফ্লাট বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত(১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)। এ ঘটনায় ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

ময়না তদন্ত
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে একই পরিবারের ৫ জনের কারোই গলাকাটা হয়নি বরং মাথায় আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই ঘটনার তিন সদস্য বিশিষ্ট ময়নাতদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান।

রোববার দুপুর আড়াইটায় ৫ জনের ময়নাতদন্ত শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এর আগে নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা.আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে তিনি সদস্য বিশিষ্ট ময়নাতদন্ত কমিটি ঘটনা করা হয়। ওই কমিটির অন্য দুইজন হলেন, ওই হাসপাতালের ডা. তোফাজ্জল হোসেন ও ডা. মফিজউদ্দিন।

নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান জানান, নিহতদের কারো গলাকাটা হয়নি। তবে তাদের গলায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। এছাড়াও তাদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে মাথায় আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষণের তাদের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরের হাতের ছাপ পাওয়া গেছে।

তিনি জানান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে আজ থেকে একদিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন ধরনের চেতনা নাশক কোন মিশ্রন ছিল কিনা সেটা ভিসেরা রিপোর্টের আগে বলা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকার একটি ফ্লাট বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন- তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত(১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), তাসলিমার ছোট ভাই মোরশেদুল (২২) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)। এ ঘটনায় ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

আলোচনায় মাহফুজ
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে ফ্ল্যাট বাসায় ২ শিশু সহ একই পরিবারের ৫জনকে হত্যার পেছনে নারী ঘটিত বিষয় সম্পৃক্ত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে লামিয়া আক্তার নামের গৃহবধূকে যৌন আবেদনে ব্যর্থ হয়েই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তবে মামলায় এ ছাড়াও ১২ লাখ টাকা ঋণের জের ধরেও হত্যাকা-ের ঘটনার প্রথম একটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বিতীয় কারণ তথা মাহফুজের যৌন আবেদনের বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই এগুচ্ছে।

রোববার সকালে নিহত তাসলিমা বেগমের স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই মামলাটি দায়ের করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবদুল মালেক মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে ৭জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এস আই হামিদুল ইসলাম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩জনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলো দেলোয়ার, শাহাদাত ও মাহফুজ।

৫ জনের লাশ হস্তান্তর
নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলের একটি ফ্ল্যাট বাসায় একই পরিবারের ৫ জনের ময়না তদন্ত শেষে লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোববার বিকেলে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। ওই সময়ে নিহত ৫ জনের মধ্যে তাসলিমা বেগম (২৮), ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫) ও ভাই মোরশেদুল (২৫) এর লাশ গ্রহণ করেন শফিকুল ইসলাম যিনি তাসলিমা বেগমের স্বামী। এ চারজনকে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এছাড়া হত্যাকান্ডে নিহত তাসলিমার জা লামিয়া বেগমের (২৫) লাশ তার স্বামী শরীফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লামিয়ার লাশ দাফন করা হবে তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল এলাকাতে।

এর আগে দুপুরে ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিহত ৫ জনের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। তখন তিন সদস্য বিশিষ্ট ময়নাতদন্ত কমিটির প্রধান নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসাদুজ্জামান জানান, একই পরিবারের ৫ জনের কারোই গলাকাটা হয়নি বরং মাথায় আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন ধরনের চেতনা নাশক কোন মিশ্রন ছিল কিনা সেটা ভিসেরা রিপোর্টের আগে বলা যাচ্ছে না।

তিন সদস্য কমিটির অন্য দুইজন হলেন ওই হাসপাতালের ডা. তোফাজ্জাল হোসেন ও ডা. মফিজউদ্দিন।

প্রসঙ্গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ২নং বাবুরাইল খানকা মোড় এলাকার একটি ফ্লাট বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

না’গঞ্জবাসী আতংক উদ্বেগ
২নং বাবুরাইলের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রউফ সড়কের কয়েকটি গলি পেরিয়ে পাঁচতলার ভবনটি। নিচতলার ডানপাশের দু’টি ঘরের দরজার একটি নারায়ণগঞ্জের পাঁচ খুনের নৃশংসতার সাক্ষী। আর কোনো সাক্ষী নেই! না ওই ভবনের কোনো বাসিন্দা, না বাড়িওয়ালা, না অন্য কেউ।

পাঁচতলা ভবনের যে ঘরটিতে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ড তার ওপরের তলাগুলোতে অন্তত ১০টি পরিবারের বসবাস। নিচতলায় নিহতদের পরিবার ছাড়া আর কেউ থাকেন না। ভবনের প্রতিটি তলায় কথা হয়েছে পরিবারগুলোর সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, ‘কোনো কিছুই আঁচ করতে পারিনি’।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) সকালে বাসাটির সামনে গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ তদন্তের স্বার্থে বাসা সিলগালা করে রেখেছে। দরজার সামনে অবস্থান করে দেখা গেছে, বাসাটির দরজার ওপরে ও নিচে কয়েক ইি  ফাঁকা। ভেতর থেকে বাইরে শব্দ আসার মতো অবস্থা থাকলেও ঘটনার সময় পাশের বাসার বাসিন্দাদের কেউ কিছুই বুঝতে পারেননি।

যে ভবনে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে ওই ভবনে ভাড়া থাকা কয়েকটি পরিবার ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।
দ্বিতীয় তলায় পরিবারসহ ভাড়ায় থাকা পরিবারের কর্তা মো. শামীম বলেন, ‘কখন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। তালা ভাঙার পর জানতে পারি, ওই পরিবারের ৫ জন খুন হয়েছে’।
খুন হওয়া পরিবারটির সঙ্গে যোগাযোগ নেই জানিয়ে বলেন, ‘মাস দুয়েক আগে তারা নিচতলায় উঠেছেন। তাই পরিচিতও হয়ে উঠিনি। বাসা থেকেও তারা তেমন একটা বের হতেন না’।

প্রায় একই কথা বললেন দ্বিতীয় তলায় থাকা আরেকটি পরিবারের সদস্য সোনালী আক্তার। তিনি বলেন, ‘নিচতলায় এতো বড় ঘটনা ঘটলো, অথচ কোনো শব্দ আমরা পাইনি। নিচতলা থেকে ওপরে উঠার সময়ও কিছু বোঝা যায়নি। এ বিল্ডিংয়ের অনেকেইতো ওপরে উঠেছেন, নিচে নেমেছেন। কিন্তু কখন এতো বড় হত্যাকাণ্ড ঘটে গেলো কেউ বুঝতে পারেননি’।

তৃতীয় তলায় গিয়ে কথা হয় রাশিদা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তালা ভাঙার আগে পর্যন্ত আমরা জানতে পারিনি এখানে কি ঘটেছিলো’।

চারতলায় উঠে কথা হয় বাড়িওয়ালা মো. ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি জেনেছি, তারা কয়েকটা বাসা পাল্টিয়ে আমার এখানে উঠেছেন।

তিনি বলেন, ‘যারা টাকা পান, তারা নাকি ওই পরিবারকে (নিহতদের) তাড়া করতেন। আমাদের বাসায় ওঠার আগে তারা আরও দুই-তিন বাসা মুভ করছেন। এর আগে তারা ঢাকায় কলাবাগান নাকি কোথায় থাকতেন। ওখান থেকে নারায়ণগঞ্জের কোথায় জানি ছিলেন, এরপর এখানে ওঠেন’।

নিহতের পরিবার আর্থিক সংকটে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শফিকুলের পরিবার আমার বিল্ডিংয়ে উঠেছেন গত অক্টোবরে। বাসায় ওঠার সময় কন্ডিশন দিছিলাম যে, ৫ তারিখে ভাড়া দিতে হইবে। এরপর তারা একমাসও ঠিক সময়ে বাসা ভাড়া দিতে পারেননি। মাসের ১৩ বা ১৪ তারিখে দিতেন। দেরিতে ভাড়া দেওয়ায় আমি তাদের বলেছি, বাসা ভাড়া দিতে দেরি হলে আপনারা অন্য জায়গায় বাসা দেখেন। তারাও চলে যাবেন বলছিলেন..’

শনিবার (১৬ জানুয়ারি) শহরের ২ নম্বর বাবুরাইল এলাকার ওই বাসায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা করা হয়।
নিহতরা হলেন তাসলিমা বেগম (৪০), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (৫), ভাই মোরশেদুল (২৫) ও তাসলিমার জা লামিয়া (২৫)।

ইসমাইল হোসেনের পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার পূর্বদিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন তাসলিমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলামের পরিবার। ঘটনার সময় শফিকুল বাসায় ছিলেন না।

রোবাবার ঘটনাস্থলে গিয়ে আরও দেখা যায়, সিলগালা করা ফ্ল্যাটটিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া আর কাউকে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না। নিহতদের স্বজনদেরও ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। সূত্র : বাংলানিউজ।

চাঞ্চল্যকর তথ্য

নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুরাইলে ফ্ল্যাট বাসায় দুই শিশুসহ একই পরিবারের ৫ জন খুনের ঘটনায় বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চা ল্যকর তথ্য। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাসলিমা ও তার স্বামী শফিকুল ইসলাম বেশ কিছু টাকা ঋণী ছিলেন। ঢাকার কয়েকজনের কাছ থেকে ওই টাকা ঋণ নেওয়ার পর থেকে পরিশোধের জন্য চাপ ছিল। সেই চাপের কারণে ময়মনসিংহের একটি জমি বিক্রিও করা হয়। কিন্তু অব্যাহত হুমকির কারণে ভীত ছিল পরিবারের লোকজন।

শনিবার রাতে ওই হত্যাকান্ডের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নিহত তাসলিমা ও মোরশেদুল ইসলামের মা মোর্শেদা বেগম ও তাসলিমার খালাতো বোন নয়নতারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোর্শেদা বেগম জানান, তার মেয়ে তাসলিমার সঙ্গে ১৩ বছর আগে শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকার ধানমন্ডিতে বসবাস করতেন। ওই সময়ে বিভিন্ন কারণে বাহাদুর, বাদশা, বাদলসহ প্রায় ৮/১০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা সুদে ঋণ নেয় শফিকুল। এদের বাড়ি ধানমন্ডি এলাকাতেই। ঢাকায় যে বাড়িতে শফিকুল ভাড়া থাকতেন ওই বাড়ির একজনের কাছ থেকেও টাকা সুদে নেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লিখিতরা শফিকুলকে টাকার জন্য চাপ দিতো, কখনও হুমকিও দিতো। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তিন মাস আগে শফিকুল পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে আসে। পরে প্রতি সপ্তাহে বিশেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বাসায় আসতো। আবার শনিবার সকালে চলে যেতো। শফিকুল ঢাকায় একটি কোম্পানির গাড়ি চালক। নারায়ণগঞ্জ আসার পরেও ফোন করে টাকার জন্য চাপ দিতো পাওনাদাররা।

মোর্শেদা বেগম বলেন, কত টাকা ঋণ তার পরিমাণ জানতাম না। তবে গত কয়েকদিন আগে আমরা ময়মনসিংহের একটি জায়গা বিক্রি করেছিলাম। আরও টাকা চেয়েছিল তাসলিমা। এছাড়া মোরশেদুল ইসলামও ফোন করে এক লাখ টাকা চেয়েছিল। টাকাটা জরুরি ছিল বলেও জানায় মোরশেদুল।

মোর্শেদার ধারণা, ঋণের কারণে যারা হুমকি দিতেন তারা হয়তো এ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তার ছেলে মোরশেদুলের সঙ্গে তার সর্বশেষ কথা হয়। এরপর শনিবার সারাদিন মেয়ে তাসলিমা ও ছেলে মোরশেদুলের নম্বর বন্ধ ছিল। শনিবার রাত ৭ টার দিকে নিহত তাসলিমার দেবর শরীফ মিয়া কিশোরগঞ্জের পাহাটি এলাকা  থেকে এসে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে মোরশেদুলের খালাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যদের ডেকে আনেন। তারা বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়াদের উপস্থিতিতে দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ৫টি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

তাসলিমার খালাতো বোন নয়ন তারা জানান, সুদের টাকা নিয়ে ঢাকার একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ ছিল। সে বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকান্ড ঘটতে পারে।

পুলিশ সুপার মহিদ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পারিবারিক বিরোধের কারণেই হত্যাকা- ঘটতে পারে। কারণ বাইরে থেকে ঘরের দরজার তালা মারা ছিল এবং হত্যাকা-ের সময় প্রতিবেশি বা অন্য কেউ কোনও শব্দ পায়নি।  এই অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা পূর্বপরিচিত।  নিহতদের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার করার আলামত পাওয়া গেছে।

থানায় মামলা
নারায়ণগঞ্জের দুই নম্বর বাবুরাইলে একই পরিবারের ৫ জনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার সকালে ওই ঘটনায় নিহত তাসলিমার স্ত্রী শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। তবে হত্যাকা-ের কারণ নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts