September 20, 2018

নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় ৫ জনের ফাঁসি!

506

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ    প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার ডেমরার মাতুয়াইলের স্কুল ছাত্রী সোনিয়া আক্তার সাজেদাকে নারায়ণগঞ্জের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে আসামী দেলোয়ার হোসেনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম রাশেদুজ্জামান রাজা এ আদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন রাকিব।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাকিব উদ্দিন রাকিব জানান, ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট স্কুলে যাওয়ার পথে মাতুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী সোনিয়া আক্তার সাজেদাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসামী দেলোয়ার হোসেন নারায়ণগঞ্জ শহরের সিরাজদৌল্লাহ সড়কে অবস্থিত দাদা আবাসিক হোটেলে নিয়ে আসে। আসামী দেলোয়ার হোসেন নিহত সোনিয়াকে হোটেলের চতুর্থ তলার কক্ষে ১৫ নং কক্ষে ধর্ষণ করে গলায় ওড়না প্যাচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় নিহতের মা সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ২৮ জন সাক্ষী সাক্ষ্য অভিযোগপত্র দাখিল করে। সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক  এই রায় প্রদান করেন।

মামলার বাদী নিহত সোনিয়ার মা সাবিনা ইয়াসমিন ময়না জানান, রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকরে সরকারের প্রতি দাবি জানান।

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ   নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর স্কুল ছাত্র রাকিবুল হাসান ইমন হত্যা মামলা রায়ে ৪ আসামীকে ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মিয়াজী শহীদুল ইসলামের আদালত দুই আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দন্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামী পলাতক ছিলেন। এর আগে সম্প্রতি একই আদালত এই মামলায় অপর আসামী কিশোর হওয়ায় কিশোর অপরাধ আইনে আল আমিন নামের এক আসামীকে ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন।

দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন- বন্দর উপজেলার কামতাল মালিভিটা এলাকার আব্দুস সোবহানের ছেলে সাইফু রহমান ওরফে সাইফুর ও মহব্বত আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, নরুল ইসলামের ছেলে শাহজাহান জীবন ও আলী আহম্মদের ছেলে জামান। এর মধ্যে  শাহজাহান জীবন ও জামান পলাতক রয়েছে।

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহিম জানান, নিহত ইমনের বাবা নুরু মিয়া মরিশাস প্রবাসী। নুরু মিয়ার ছেলে স্কুল ছাত্র রাকিবুল হাসান ইমনকে অপহরণ করা হলে পরিবারের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ পাওয়া যাবে। সেই টাকা দিয়ে আসামীরা বিদেশে পাড়ি জমাবে-এমন পরিকল্পনা থেকেই আসামীরা(সাইদুর রহমান, শারজাহান আলী জীবন, জামান, তোফাজ্জল ও আল আমিন) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারী নবম শ্রেণীর ছাত্র স্কুল ছাত্র রাকিবুল হাসান ইমন সন্ধ্যায় মসজিদের ইমামের রাতের খাবার নিয়ে যায়। হুজুরের খাবার দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আসামীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী নিহত ইমনের চাচাতো ভাই কিশোর আসামী আল আমিনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে।

কিন্তু স্কুল ছাত্র ইমন আসামীদের চিনে ফেলায় ওই দিন রাতেই আসামীরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে উপজেলার মালিভিটার এলাকার ইপিবিএল কারখানার পাশের একটি ডোবায় লাশ পুঁতে রাখে। পরে নিহতের মা ফেরদৌসি বেগমের কাছে মুঠোফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালে তদন্ত করে প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ৩৫ দিন পর আসামীদের গ্রেপ্তার করে। পরে আসামীদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত ৬ মার্র্চ নিহতের বাড়ির পেছনের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন প্রবাসী নূরু মিয়া এবং ফেরদৌসি বেগমের ছেলে। সে মোগড়াপাড়া স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। এ হত্যাকান্ডের পর ফেরদৌসি বেগম বাদি হয়ে ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে।

পরে পুলিশ ৫জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সোমবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ শহীদুল ইসলাম মিয়াজীর আদালত দুই আসামী সাইদুর রহমান ও তোফাজ্জলের উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করেন। পলাতক রয়েছে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামী শারজাহান জীবন ও জামান পলাতক রয়েছে। সম্প্রতি এই মামলায় একই আদালত অপর আসামী আলামীন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তাকে কিশোর অপরাধ আইনে ১০ বছরের কারাদন্ড দেন আদালত।

এদিকে নিহত রাকিবুল হাসান ইমনের মা ফেরদৌসি বেগম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts