September 23, 2018

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনঃ পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহন ২ মে


রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার আসামীদের উপস্থিতিতে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহন ও ১ জনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। জেরা শেষে আদালত আগামী ২ মে পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য্য করেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনসহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম হয়।

সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরিচ্যুত তিন কর্মকতা লেফটেনেন্ট কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৩ আসামীকে  জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। সকাল দশটায় আসামীদের উপস্থিতিতে জেরা ও স্বাক্ষ্য গ্রহণের কার্য্যক্রম শুরু হয়। আদালত ৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

নিহত প্যানেল মেয়র নজরুলের ভাই আবদুস সালাম ,নিহত আইনজীবি চন্দন সরকারের ভাগিনা এডভোকেট অরুনাভ সরকার, এস আই আবু তালেব, নিহত জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর হোসেন সহ শীতলক্ষ্যা নদীর তীর শান্তির নগর এলাকার লাশ উত্তোলনের সময় প্রত্যক্ষদর্শী ফকির চান, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম, হাসেম ও ইবনে হাসান স্বাক্ষ্য গ্রহন সম্পন্ন হয়।

আদালতে আভ্যন্তরে র‌্যাব এর সাবেক কর্মকর্তা আসামী মেজর আরিফ এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাক্ষীদের হুমকি প্রদানের অভিযোগ করেছেন বাদি পক্ষের আইনজিবী।

বাদি পক্ষের আইনজিবীর করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসামী পক্ষের আইনজিবী।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজিবী জানান আগামী ২মে পরবর্তী স্বাক্ষ্য ও জেরার দিন ধার্য্য করা হয়েছে। তিনি বাদি পক্ষের আইনজিবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন  সকল স্বাক্ষীদের আদালতে নির্ভিঘ্নে স্বাক্ষ্য দেয়ার বেপারটি নিশ্চিত করবেন।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপর একটি  মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মামুনুর রশীদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল। করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৫ এপ্রিল ২০১৬

Related posts