September 25, 2018

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনঃ এ পর্যন্ত ৮৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ

রফিকুল ইসলাম রফিক        
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় আরো ৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা করা হয়েছে। এদের মধ্যে তৎকালীন সময়ে গ্রামীন মোবাইল সীম নেটওয়ার্ক অপারেটর কোম্পানির, র‌্যাব ও পুরিশের কর্মকর্তাও রয়েছে। শনিবার সকাল পৌনে দশটায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে গ্রামীন মোবাইল সীম নেটওয়ার্ক অপারেটর কোম্পানির কর্মকর্তা ইসতিয়াক আহদেদ, ফতুল্লা থানার তৎকালিন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকতার হোসেন, বন বিভাগের কর্মকর্তা ফজলুল হক, র‌্যাব-১১’র ডিএডি (বর্তমানে সদর দপ্তরে কর্মরত) জামাল উদ্দিন তালুকদার, এস আই মাহমুদ আলম খান, সাধারণ নাগরিক রমজান হোসেন, মুকবুল হোসেন, আব্দুর রউফ।

পরে আসামীপক্ষের আইনজীবিদের জেরা শেষে আদালত আগামী ২৫ জুলাই পরবর্তী স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য করেন। এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা, লে.কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, কমান্ডার এম এম রানা ও মেজর আরিফ হোসেনসহ ২৩ আসামীকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আসামীদের উপস্থিতিইে স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

পাবলিক প্রসিকিউটর এস এম ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুনের মামলা প্রমাণের ক্ষেত্রে আজকের স্বাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই নিয়ে ৭ খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত দুইটি মামলায় মোট ১২৭ জন স্বাক্ষীর মধ্যে পৃথক দুই মামলার বাদি, একজন যুগ্ন জেলা জজ, পাঁচজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, র‌্যাব কর্মকর্তা-সদস্য, বেশ কয়েকজন আইনজীবি ও মোবাইল সীম অপারেটর নেটওয়ার্ক কোম্পানির কর্মকর্তাসহ মোট ৮৮ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হলো।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। এর তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে একই থানায় অপর একটি  মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ১৬/০৭/২০১৬

Related posts