November 13, 2018

না’গঞ্জের ৭ খুনঃ সাক্ষীকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ ( ভিডিও)

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলার আসামীদের উপস্থিতিতে ৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহন ও ২ জনের জেরা সম্পন্ন হয়েছে। জেরা শেষে আদালত আগামী ২৫ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য্য করে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনসহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম হয়। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম রফিকের পাঠানো তথ্য, ছবি ও সাক্ষাৎকারসহ ভিডিও নিয়ে রিপোর্ট: (নীচে ভিডিও) 

সোমবার সকাল সাড়ে নয়টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরিচ্যুত তিন কর্মকতা লেফটেনেন্ট কর্ণেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৩ আসামীকে জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। সকাল দশটায় আসামীদের উপস্থিতিতে জেরা ও স্বাক্ষ্য গ্রহণের কার্য্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষির জন্য সাত জনকে ডাকা হলেও আদালত ৫ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন। প্রথমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে একটি মামলার বাদি নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও মো: এসআই মিজানুর রহমান। পরে এস আই আবু হানিফ, নিহত আইনজীবি চন্দন সরকারের সহকর্মী এডভোকেট প্রীতম কুমার, কনস্টেবল আব্দুল কুদ্দুস, নিহত তাজুলের চাচা আবু তাহের, নজরুল ইসলামের শ্যালক সাইদুল ইসলাম সাক্ষী দিয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হলো।

মামলালার বাদী পক্ষের আইনজীবীর আসামী পক্ষের লোকজন প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ করে বলেন, খুব গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী গ্রহণ করা হয়েছে। এতে হত্যা ও লাশ উদ্ধারসহ নানা তথ্য উঠে এসেছে।

তিনি অভিযোগ করেন নিহত নজরুলের ভাই আব্দুস সালামকে নানা রকম হুমকি ধামকি দেয়ায় তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। বাদি পক্ষের আইনজিবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী বলেন, সকল স্বাক্ষীদের আদালতে নির্ভিঘ্নে স্বাক্ষ্য দেয়া নিশ্চিত করবেন। আর সুষ্ঠভাবে জেরা সম্পন্ন করেছেন জানান আসামী তারেক সাঈদের আইনজিবী ।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম সিনিয়র আইনজীবি চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণের তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। সাত খুনের ঘটনায় নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও তার ৪ সহযোগী হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ির চালক ইব্রাহিম হত্যার ঘটনায় তার জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপর একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ এক বছর পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেরা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ মন্ডল ৩৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল। করেন। এই মামলায় ৩৫ জন আসামীর মধ্যে ২৩ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। ১২ জন আসামী এখনো পলাতক রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম রফিক, 
সিনিয়র রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

ভিডিওঃঃ সাক্ষীকে হুমকি প্রদানের অভিযোগ (বাদি পক্ষের আইনজীবিসহ রাষ্ট্র পক্ষ ও আসামী পক্ষের আইনজীবির বক্তব্য ) 

Related posts