September 21, 2018

নামাজ পড়তে ডাকায়, মায়ের পায়ে শিকল দিল ছেলে

Captureখুলনা;:

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে ৭০ বছর বৃদ্ধ মায়ের পায়ে শিকল দিল ছেলে।

জানা যায়, বৃদ্ধ মা জানু পারভীন প্রতিদিন মেজো ছেলে শফিকুল ইসলামকে ভোরবেলা নামাজ পড়তে ডাকেন তিনি। এতেই ছেলের ঘুম ভেঙে যায়। ভোরবেলায় নামাজ পড়তে ডাকায় বিরক্তি হয় ছেল। তাই ঘুম থেকে উঠেই মাকে শুরু করেন গালিগালাজ।

অবশেষে একদিন বাজার থেকে শিকল তৈরি করে নিয়ে আসেন ওই ছেলে। এরপর প্রতিদিন ভোরবেলা তার স্ত্রীকে দিয়ে মায়ের পায়ে শিকল দিয়ে বাড়ির পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। এভাবেই চলছে গত তিন মাস ধরে। কান্নাকাটি করলেও মায়ের সেই শিকল খুলে দেন না ছেলে ও তার স্ত্রী!

বৃদ্ধার ছেলে শফিকুল ইসলামের দাবি, তার মায়ের বয়স হয়েছে। মাঝে মাঝে পাগলামি করেন। এটা-ওটা নষ্ট করেন। তাই শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের বাল্লক ওরফে পুটে গাজীর স্ত্রী জানু পারভীন। স্বামী মারা গেছেন ৩০ বছর আগে। জানু পারভীনের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। চার ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মেজো ছেলে শফিকুল ও তার স্ত্রীর কাছে থাকছেন পারভীন। সেই ছেলে ও ছেলের স্ত্রী তিন মাস ধরে তার পায়ে শিকল বেঁধে রাখছেন।

কিছুদিন আগে পারভীনকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়। পরে আবার নিয়ে আসেন তার ছেলে। এখন বাড়ির ভেতর নোংরা একটি জায়গায় গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধাকে সবাই ‘দাদি’ বলেই ডাকেন। তিনি ভোরে গিয়ে পাড়ার বিভিন্ন ঘরে নামাজের জন্য সবাইকে ডাকতেন। দরজায় ধাক্কা দিতেন। সেই দাদির ডাকে তাদের ঘুম ভাঙত।

বৃদ্ধার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাকে বেঁধে না রাখলে আমার দরজায় এসে যখন তখন আঘাত করে। এতে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়।’

শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান বলেন, ‘আমরা এমন দৃশ্য আর দেখতে চাই না। বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আবদুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, ‘আমি আগে থেকে বিষয়টি জানতাম না। তবে যেহেতু আমাদের পাশের আগরদাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যানের বাবা মস্তিষ্ক বিকৃত অবস্থায় তার ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সে রকম একটা আশঙ্কা থেকে হয়ত শফিকুল ইসলাম তার মাকে এভাবে বেঁধে রেখেছেন। তবে আমি মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে দেব না, দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূর হোসেন সজল বলেন, ‘আমার কাছে এ খবর এসেছে। এমন অমানবিক আচরণ কোনো সন্তান তার মায়ের প্রতি করতে পারেন না। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

Related posts