November 18, 2018

না’গঞ্জ বিএনপির দুর্বল নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ


রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও এর সহযোগি সংগঠনের দুর্বল ও নাজুক নেতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেই চলেছে। সবশেষ ১১টি ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সঙ্গে আতাত করে নির্বাচনের ভোট গ্রহনের আগেই ৬টি পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ায়। যে সুযোগে ৪টি পরিষদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে। আর বাকী ৫টি পরিষদের প্রার্থী থাকলেও সে সব প্রার্থীদের পক্ষে ছিলনা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। এমনকি নির্র্বাচনের দিনেও তাদের দেখা যায়নি। এর আগে সরকারি দলের সাথে আতাত করে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করিয়েছে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে শোকজ করা হয়েছিল। যদিও পরে তাদের সেই কি জবাব তা জানা যায়নি। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হলেও ৬জন চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ফতুল্লা থানা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুল আলম সেন্টুকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

২৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৬টি পরিষদ ও রূপগঞ্জ উপজেলার ৫টি পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। যার মধ্যে শুধুমাত্র রূপগঞ্জ ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদে আলমগীর হোসেন টিটু বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ৪টি বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সহ ৮টিতে আওয়ামীলীগ ও দুটিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এসব নির্বাচন নিয়ে প্রথমে কোন ধরনের প্রস্তুতি নেননি জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামান মনির। ফতুল্লার পুরো দায়িত্ব ছেড়ে দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের উপর। ফতুল্লার ৪টি পরিষদের বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গিয়ে দফায় দফায় প্রার্থী পরিবতন করতে হয়েছিল মুহাম্মদ শাহআালম ও আজাদ বিশ্বাসকে। শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাস প্রথমে বক্তাবলীতে আলাউদ্দীন বারী, কাশিপুরে ওমর আলী, এনায়েতনগরে হাবিবুর রহমান লিটন ও কুতুবপুরে মনিরুল আলম সেন্টুকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছিলেন। পরবর্তীতে হাবিবুর রহমান লিটন ও মনিরুল আলম সেন্টু বিএনপির মনোনয়নে নিতে অস্বীকার করলে বক্তাবলীতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুমন আকবর, এনায়েতনগরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুুদুল হক আলমগীর ও কুতুবপুরে আলী আকবরকে প্রার্থী করা হয়। এর আগে টানা কয়েকদিন একাধিক বৈঠক করেছিলেন বিএনপির নেতারা।

অন্যদিকে সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সর্দার ও আলীরটেক ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আওলাদ হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেন আজাদ বিশ্বাস যেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলমের সমর্থন ছিল। এর মধ্যে মনোনয়ন পত্র জমা দেয়ার শেষ দিনেও জমা দেননি আওলাদ হোসেন, আলী আকবর ও সুমন আকবর। তবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও গোগনগরে বাছাই মনোনয়ন বাতিল করা হয় নজরুল ইসলাম সরদারের। তবে তিনি পরবর্তীতে আপিল করেননি। অন্যদিকে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও পরবর্তীতে প্রত্যাহার করে নেন কাশিপুরের ওমর আকবর। নির্বাচনে টিকে থাকে শুধু মাত্র এনায়েতনগরে আলমগীর। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আটসাট বেধে নামেন তৈমুর আলম খন্দকার। তার বাসায় একাধিকবার বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। প্রথম দিকেই নজরুল ইসলাম সরদারকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরবর্তীতে আওলাদ হোসেন, আলী আকবর, সুমন আকবর, ওমর আলীকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিএনপির পদ নিয়েও দলের মনোনয়ন না নেয়ার কারনে মনিরুল আলম সেন্টুকেও অব্যাহতি দেয়া হয়। এর আগে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে শোকজ করেন তৈমুর আলম। তৈমুর আলম দাবি করেছেন তার কাছে আজাদ বিশ্বাস লিখিত জবাব দিয়েছেন। এর আগে একাধিক বৈঠকে মনোনিত প্রার্থী সহ আজাদ বিশ্বাসকে আওয়ামীলীগের দালাল আখ্যায়িত করে তাদের বহিস্কার দাবি করেছিলেন তৃনমুল নেতাকর্মীরা।

পাশাপাশি মুহাম্মদ শাহআলমেরও বহিস্কার দাবি করা হয়েছিল। তবে এনায়েতনগরে নির্বাচনে বিএনপি থাকলেও সেখানে কদিন তৈমুর আলমকে দেখা গেলেও মুহাম্মদ শাহআলম ও আজাদ বিশ্বাস সহ থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের দেখা যায়নি নির্বাচনী মাঠে। এমনকি নির্বাচনের দিনেও বিএনপির মুল দল কিংবা অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের দেখা যায়নি। তবে এনায়েতনগরে নির্বাচনে ভোট গ্রহনের দিনেও মাঠে দেখা গেছে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, মহানগর বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রশিদুর রহমান রশুকে। তবে এছাড়াও আর কোন সংগঠনের নেতা কিংবা মূল দলের কোন নেতাকে নির্বাচনের দিন দেখা যায়নি।

অন্যদিকে জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস উদ্দিন ভুঁইয়া, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রসুল, ভোলাব ইউনিয়নে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আলমগীর হোসেন টিটু, মুড়াপাড়া ইউনিয়নে বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নান পারভেজ। তবে কায়েতপাড়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট গোলজার হোসেন মনোনিত করা হলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। যে কারনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় নির্বাচিত হয়েছেন নৌকা প্রতীকে রফিকুল ইসলাম মিয়া। গোলজার হোসেনকেও বিএনপি থেকে অবাহতি দেন তৈমুর আলম খন্দকার। আর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে বেশকদিনই রূপগঞ্জে প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগে ছিলেন। আর সদর উপজেলায় প্রার্থীদের নিয়ে তার কোন ভুমিকাই ছিল না। অন্যদিকে রূপগঞ্জেও তৈমূর আলম খন্দকার প্রার্থীদের নিয়ে কাজ করেননি। যদিও তিনি নির্বাচন চলাকালীন সময়ে রূপগঞ্জে পহেলা বৈশাখে ভুড়িভোজের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের জোরালোভাবে মাঠে দেখা যায়নি। যদিও নিজ শক্তিতে অনেকটা লড়াই করেই ভোলাবোতে আলমগীর হোসেন টিটু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তবে নানা সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি মামলায় আসামীও হয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৮ এপ্রিল ২০

Related posts