September 22, 2018

না’গঞ্জে সাত খুন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা অব্যাহত

রফিকুল ইসলাম রফিক: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরার তৃতীয় দিনে অবসরে পাঠানো চাকুরীচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও এম এম রানার জেরা সম্পন্ন করেছে তাঁর আইনজীবী। শুরু হয়েছে সাত খুন মামলার প্রধান আসামী নূর হোসেনের পক্ষে জেরা। পরবর্তি তারিখ ৩ অক্টোবর ধার্য্য।
বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টা হতে বিকেল পৌনে ৫টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নূর হোসেন, র‌্যাবের চাকুরীচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানা সহ ২৩ আসামীর উপস্থিতিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডলকে জেরা করা হয়। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথমবার ও ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দিনের জেরা হয়েছিল। তখন চাকুরীচ্যুত র‌্যাব কর্মকর্তা আরিফ হোসেনের পক্ষে জেরা হয়।
বৃহস্পতিবার অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, বাদী পক্ষে সাখাওয়াত হোসেন খান সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মন্ডল বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক হিসেবে রয়েছেন যিনি সাত খুনের মামলার চার্জশীট আদালতে জমা দেওয়ার সময়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে তারেক সাঈদের অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন তাঁর আইনজীবী শাহাবউদ্দিন। তিনি জেরাতে র‌্যাব-১১ এর কার্যালয়ে নূর হোসেন গিয়েছিল কীনা, নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম র‌্যাব কার্যালয়ে গেল কখন গিয়েছে সেগুলো তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জানতে চান। জেরার এক পর্যায়ে তাঁর অপর আইনজীবী সুলতানউজ্জামানও কিছু প্রশ্ন করেন। তবে একই প্রশ্ন বার বার হওয়ায় তখন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। ওই সময়ে বিচারক বলেন, ‘আপনারা যা ইচ্ছে প্রশ্ন করতে পারেন না।’
দুপুরে র‌্যাবের অপর চাকুরীচ্যুত কর্মকর্তা এম এম রানার পক্ষে জেরা শুরু ফরহাদ আব্বাস। দুপুরে বিরতির পর নূর হোসেনের পক্ষে জেরা শুরু করেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারী খোকন সাহা।
তিনি জেরাতে কাঁচপুরে ল্যান্ডিং স্টেশন কোথায় ছিল, সেখান থেকে লাশ ট্রলারে উঠানোর সময়ে ইজারাদার কিংবা আশেপাশের কাউকে সাক্ষী করেছেন কী না জানতে চান। তাছাড়া সাত খুনের ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির মামলার এজাহার ধরে প্রশ্ন করেন মামলার এজাহারে বলা হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে সিটি করপোরেশনের একটি রাস্তার কাজ নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রথমে হানাহানির কারণেই নূর হোসেন ক্ষোভে নজরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু ওই মামলাটি নিয়েও তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন কীনা, ঠিকাদারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কী না জানতে চাওয়া হয়। তখন তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুটা বিমর্ষ হয়ে পড়ে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন যেহেতু সেটা আলাদা মামলা সেহেতু তদন্ত করা হয়নি।
পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, বৃহস্পতিবার জেরা মুলতবি করা হয়েছে। আদালত আগামী ৩ অক্টোবর আবারও পরবর্তী জেরার দিন ধার্য্য করেছেন।
জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী নিহত আইনজী চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা বিজয় কুমার পাল ও অপর বাদী নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলো ১২৭জন করে। এখন পর্যন্ত সাত খুনের দুটি মামলায় অভিন্ন ১২৭ সাক্ষীর মধ্যে ১০৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন শেষে জেরা শুরু হয়েছে।

Related posts