November 21, 2018

না’গঞ্জে মসজিদে ভারত বিদ্বেষী বক্তব্য


রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জ:   নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি বৃহৎ মসজিদে ভারতের একটি স্লোগানকে ইস্যু করে কড়া বক্তব্য রাখা হয়েছে। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে উপস্থিত মুসল্লীদের দুই হাত উচু করে ওই শপথ করানো হয়। তখন কয়েকজন মুসল্লী হাত উচু না করায় তাদের ভর্ৎসনা করা হয়। এ নিয়ে ওই সময়ে মুসল্লীদের মধ্যে কিছু কানাঘুষা শুরু হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি ভারতে ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান সবাইকে দেওয়ার আহবান জানানো হয়। ওই স্লোগান হিন্দু ও মুসলমান সবাইকেই পাঠ ও ধারণের কথা বলেন সে দেশের ক্ষমতাসীন বিজেপি। ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে ভারতের প্রখ্যাত ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দেয়া মুসলিমদের জন্য জায়েজ নয়। দারুল উলুমে করা এ সংক্রান্ত প্রশ্নকে কেন্দ্র করে ‘দারুল ইফতা’র ৮ সদস্যের মুফতির সমন্বিত একটি বে  এ নিয়ে আলোচনায় বসে। এরপরে রেফারেন্স নম্বর ৫৪৫(বি)তে মুফতিরা বলেন, ‘কয়েক বছর আগে ‘বন্দেমাতরম’ ইস্যু উঠেছিল। স্কুলে একে হিন্দু-মুসলিম সবার জন্য পড়া আবশ্যক করা হয়েছিল, এবার ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান মুসলিমদের জন্য আবশ্যক করা হচ্ছে।

এই দুটি বিষয় একই।’ দারুল উলুমের মুফতিরা বলেন, ‘বন্দেমাতরম’ বিষয়ে এখানে বলা হয়েছে ভারত আমাদের দেশ। আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা এখানে জন্মেছি। এটা আমাদের মাতৃভূমি। আমরা একে ভালোবাসি কিন্তু এই দেশকে আমরা মা’বুদ (উপাস্য) বলে মনে করি না। মুসলিমরা এক খোদায় বিশ্বাস রাখে। এজন্য তারা খোদা ছাড়া অন্য কাউকে উপাসনা করতে পারে না। এখন ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আসলে একাংশের বিশ্বাস অনুযায়ী ভারত মাতা একজন ‘দেবী’, যাকে তারা পুজো করে। ভারত মাতা দেবীকে এসব লোকেরা ভারতের মালিক এবং মুখতার বলে মনে করে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জামে মসজিদে জুমআর নামাজে কয়েক হাজার মুসল্লীদের উপস্থিতি ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল আউয়াল জুমআর নামাজের খতিব। শুক্রবার জুমআর নামাজের সময়ে খুতবার বয়ানের শেষের দিকে এসে আবদুল আউয়াল ভারতের ওই জয় মাতা কী স্লোগানের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, ‘একজন মুসলমান শুধু ভারত বর্ষের না। সারা বিশ্বের মুসলমানদের বিরোধীতা করা প্রয়োজন। এটাই হতে পারে জেহাদের কোন পূর্ব প্রস্তুতি। এ জিহাদে নারায়ণগঞ্জের সব মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জিহাদের মনোবাসনা নিয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সবাইকে শহীদের মাতম নিয়ে জেহাদে যেতে হবে।’

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts