November 20, 2018

নাইটরা সেরা চারে থাকতে পারে, তবে আমার বাজি মুম্বাই-আরসিবি

mk2

এ বার তিনি আইপিএল গ্রহে নেই। বাংলার রঞ্জি ক্যাপ্টেন মনোজ তিওয়ারি মাঠের বাইরে থেকেই উপভোগ করবেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের উত্তেজনা। কী ভাবছেন ৫৫ দিনের টুর্নামেন্ট নিয়ে?

প্রশ্ন: এ বার তো বাইরে থেকে আইপিএল দেখবেন! খুব হতাশ?

মনোজ: হয়তো আপনাদের মনে আছে, আইপিএল নিলামের সময় আমার চোট ছিল। সেই চোট নিয়েই তখন আমি বাংলার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলি। সে জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হয়তো আমার ফিটনেস নিয়ে মনে প্রশ্ন ছিল। হয়তো ওরা ভেবেছিল আমাকে নেওয়া ঝুঁকি হয়ে যাবে। এটাই বাস্তব। আমি কিন্তু আইপিএল খেলতে চেয়েছিলাম। সুযোগ যখন পেলাম না, তখন একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবেই টুর্নামেন্টটা উপভোগ করব।

প্র: কোন দলকে এ বার সবচেয়ে ব্যালান্সড মনে হচ্ছে?

মনোজ: দুটো দলের কথা বলব। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আরসিবি। মুম্বইয়ের দু’-তিনজন ভাল অলরাউন্ডার আছে। কায়রন পোলার্ড, হার্দিক পান্ড্য, কর্নাটকের অলরাউন্ডার শ্রেয়াস গোপাল। মালিঙ্গা, ম্যাকক্লেনাঘনের মতো স্ট্রাইক বোলার আছে। ব্যাটিংয়ে সিমন্স, রোহিত, রায়াডু ছাড়াও হরভজনের অভিজ্ঞতা আছে। অন্যান্য দলের তুলনায় ওদের ম্যাচ উইনারের সংখ্যা বেশি। গত বছর ওরা যে ভাবে কামব্যাক করল, রাজস্থানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে যে ভাবে কোয়ালিফাই করল, আমি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এ ভাবে যারা জিততে পারে, তাদের শক্তির প্রশংসা করতেই হবে।

প্র: বেঙ্গালুরুর কথাও বলছিলেন যে?

মনোজ: হ্যাঁ, আরসিবির এ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ওরাও মুম্বইয়ের মতোই ব্যালান্সড। ওদেরও একা ম্যাচ জেতানোর মতো একাধিক প্লেয়ার আছে। গেইল, বিরাট, ডে’ভিলিয়ার্স। শেন ওয়াটসনের মতো অভিজ্ঞ আর ফর্মে থাকা অলরাউন্ডার। ওরাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়বে। যে দলে যত বেশি ম্যাচ উইনার থাকবে, তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তবে যাই বলুন, এই কথাগুলো বলার পরেও বলব, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এমন ফর্ম্যাট, যাতে যখন যা খুশি হতে পারে।

প্র: আপনার গত বছরের দল দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের ব্যাপারে কী বলবেন?

মনোজ: আমার কাছে দিল্লি এ বার ডার্ক হর্স। কারণ, রাহুল দ্রাবিড় দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বার উনি যে কোচিং অ্যাসাইনমেন্টগুলো করেছেন, প্রত্যেকটায় ভাল রেজাল্ট দিয়েছেন। ইন্ডিয়া ‘এ’ বলুন, অনূর্ধ্ব-১৯ ভারত বলুন। দ্রাবিড়ের মধ্যে একটা এক্স ফ্যাক্টর আছে। আর আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাও তো কম নয়। আর ক্যাপ্টেন্সিতে জাহির ইজ দ্য বেস্ট ব্রেন। আমার মনে আছে, গত বছর পরের দিকে দিল্লি ভাল খেলতে শুরু করল। জাহির ভাই চোট সারিয়ে ফিরে এসে যখন খেলতে শুরু করল, ইনপুট দিতে শুরু করল, তখন থেকেই টিম ভাল খেলতে শুরু করল। কিন্তু তার আগের পারফরম্যান্সের জন্য সব মিলিয়ে ভাল রেজাল্ট হয়নি শেষমেশ।

প্র: আর আপনার শহরের দল কেকেআর?

মনোজ: ওরা কী ধরনের উইকেটে খেলবে ইডেনে, সেটা একটা বড় ব্যাপার। নাইটরা বরাবর হোম অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগিয়ে এসেছে। টিমটা সুনীলের নারিনের উপর যথেষ্ট নির্ভর করে। নারিন চার ওভারে যা বল করে তাতেই অনেকটা কাজ হয়। আর ও তো ৯৫ পার্সেন্ট ম্যাচেই ভাল বল করে। আমি বলি, বেস্ট বোলার ইন টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাট। সবচেয়ে বড় কথা ব্যাটসম্যানরা ওকে ‘রিড’ করতে পারে না। নারিন না থাকা মানে ওদের শক্তি অর্ধেক। শরীরে একটা হাত কেটে যাওয়ার মতো। ও-ই তো বেশির ভাগ ম্যাচ জেতায়। যখন উইকেট দরকার হয়, রান আটকানোর দরকার হয়, ও-ই করে দেয়।

প্র: জাক কালিস এ বার গৌতম গম্ভীরদের কোচ। এই ব্যাপারটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মনোজ: কালিস কোনও দিন কোচিং করেননি। কয়েকটা ম্যাচ গেলে বোঝা যাবে এই নতুন ভূমিকায় উনি কী রকম। খেলোয়াড় জীবনে হাজারো ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কোন পরিস্থিতি কী ভাবে সামলাতে হয়, এই বুদ্ধিটা কালিসের মতো পোড়খাওয়া ক্রিকেটারের অবশ্যই আছে। তা ছাড়া একজন বিশ্বমানের বোলিং কোচ রয়েছে ওদের। ওয়াসিম আক্রম। যিনি কোচের থেকে প্লেয়ারদের কাছে বেশি বন্ধু। আর উনি বন্ধু হয়ে যখন বোলারদের শেখান, তখন সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনে।

প্র: কেকেআরকে প্রথম চারে রাখছেন?

মনোজ: হ্যাঁ, রাখব না কেন? ওরা প্রথম চারে থাকবে হয়তো। কিন্তু মুম্বই, বেঙ্গালুরুই আমার সেরা বাজি।

প্র: টি-টোয়েন্টি তো বিগ হিটারদের। তা এ বার কোন বিগ হিটারদের নজরে রাখা উচিত?

মনোজ: পোলার্ড, রাসেল, এবি, গেইল থাকতে আর কাদের উপর নজর রাখব বলুন? আমার মনে হয়, গেইল, এবির কাছ থেকে বড় ইনিংস পাব। কারণ, বেঙ্গালুরুতে তো শট খেলার জন্য ভাল উইকেট হয়। মুম্বইতেও ভাল উইকেট। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে ভাল রান পেতে পারি। যেমন লেন্ডল সিমন্স দু’-একটা বড় ইনিংস খেলে দেবে। রোহিত-পোলার্ডরাও খেলতে পারে।

তবে সব সময় যে বিগ হিটাররাই খেলবে, তা নয়। বিরাট কোহালি তো অর্থোডক্স শট খেলেই বড় রান করে। সেটা দেখতে বেশি ভাল লাগে। ওর দিকেও আপনাকে নজর রাখতে হবে।

তবে আমি আরও একজনকে ফলো করব। ব্রেথওয়েট। ও নিশ্চয়ই ভাল খেলবে। কারণ, দিল্লির মাঠ ছোট, আর ও বিগহিটার। ও কিন্তু আইপিএলেও জ্বলে উঠবে।

প্র: আইপিএলের সময় তা হলে কী করছেন?

মনোজ: ক্লাব ম্যাচ আছে। এখন সিএবির টুর্নামেন্টে নিজের ক্লাবকে সার্ভিস দেব। আইপিএলের ম্যাচ তো দেখবই। উপভোগ করব। এখন তো আমার কাছে দুটোই রাস্তা— হয় হতাশ হয়ে বসে থাকো, না হলে হার্ডওয়ার্ক চালিয়ে যাও।

প্র: আপনি কোন রাস্তাটা বেছে নিচ্ছেন?

মনোজ: দেখুন, আইপিএল এখন একটা বড় মঞ্চ ঠিকই, কিন্তু আমি বরাবরই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আর টেস্ট ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দিই। শুধু আইপিএল খেলার জন্য মাইন্ড সেট নিয়ে খেলি না। আমার প্রধান লক্ষ্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা। সেই মানসিকতা নিয়েই খেলি। এখনও।

সুত্রঃ আনন্দবাজার

Related posts