December 14, 2018

নর্থ সাউথ পড়ুয়া দুই সন্তানকে নিয়ে মা পাড়ি জমালেন সিরিয়ায়

ঢাকাঃ দেড় বছর আগের কথা। রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন কাঁঠালবাগানের ১১৫, ক্রিসেন্ট রোডের চার তলা বাড়ির বাসিন্দা এক মা তার দুই সন্তান ও এক পুত্রবধূসহ সিরিয়ায় গিয়েছেন। এরা হলেন পান্না শরীফ (৫৫) ও তার দুই সন্তান মহিউদ্দিন শরীফ (৩০) ও রেজোয়ান শরীফ (২৮) এবং মহিউদ্দিন শরীফের স্ত্রী তাসনুভা হায়দার। মহিউদ্দিন ও রেজোয়ান ধানমন্ডির স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে ও লেভেল এবং এ লেভেল পাস করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ থেকে উত্তীর্ণ হন।

সম্প্রতি হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্চবিত্ত ঘরের নিখোঁজ সন্তানের বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরই জের ধরে কাঁঠালবাগানের ওই পরিবারের বিষয়টি কয়েকজন এলাকাবাসীর নজরে আসে। তারা জানতেন যে, ক্রিসেন্ট রোডের ঐ বাড়ির পান্না শরীফ ও তার দুই সন্তান হয়তো বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য কোথাও থাকেন। বিষয়টি কলাবাগান থানা পুলিশকে জানান হলে, পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয় যে, তারা ইয়ামেন অথবা সিরিয়ায় গেছেন।

কলাবাগান থানা পুলিশ তদন্ত করে দেখতে পেয়েছে যে, ২০১০ সালে পান্না শরীফ, তার স্বামী ও দুই সন্তান ইয়েমেন গিয়েছিলেন আল-কায়েদা নেতা আনোয়ার আল আওলাকীর সঙ্গে দেখা করতে। সেখানে তারা আল-কায়েদার ওই নেতার সঙ্গে দেখা পেয়েছিলেন কিনা তা পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি। দুই মাস পর তারা দেশে ফিরেন। ২০১৩ সালে পান্না শরীফের স্বামী কাজী মোস্তাইন শরীফ (৬৮) মারা যান।

গতকাল কাঁঠালবাগানের ক্রিসেন্ট রোডের ওই বাড়িতে গেলে সেখানকার কোনো বাসিন্দাই এ ব্যাপারে তথ্য দিতে চাননি। পান্না শরীফের ফ্ল্যাটটিতে বর্তমানে খামার বাড়ীর কৃষি সার্ভিসের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ভাড়া থাকছেন। তিনি বলেন, তাদের বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

আবেদা মঞ্জিল নামে চারতলা ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় দুইটি ফ্ল্যাটের মালিক পান্না শরীফ। সপরিবারে সিরিয়া চলে যাওয়ার পর ফ্ল্যাট দুইটি দেখাশোনা করেন বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মিলন। তিনি জানান, বছর দেড়েক আগে তারা বিদেশে চলে গেছেন। যাওয়ার সময় তাদের মালিকানার দুইটি ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে গেছেন। ভাড়ার টাকা বাদল নামে এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হয়।

গতকাল বাদল জানান, দুইটি ফ্ল্যাটের ভাড়াবাবদ ৪২ হাজার টাকা ওঠে। এই টাকা থেকে গ্যাস, বিদ্যুত্ ও পানির বিল পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ২০ হাজার টাকা ধানমন্ডির ২৭ নম্বর রোডের ৫/বি নম্বর বাড়িতে বসবাসকারী রেজোয়ান শরীফের স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভরণ পোষণ বাবদ দেওয়া হয়। রেজোয়ানের সঙ্গে তার স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। শুনেছি, ধর্মীয় লাইনে রেজোয়ানের চলাফেরা সহ্য করতে না পেরে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার স্ত্রীর ভরণ পোষণ বাবদ ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মিলন জানান, বছর দেড়েক আগে তারা সিরিয়ায় চলে যান। যাওয়ার আগে তাকে বলে গিয়েছিল যে, আত্মীয়-স্বজনদের কেউ যদি খোঁজ করে তাহলে যেন বলেন, তারা সপরিবারে কুয়াকাটা ঘুরতে গিয়েছেন। আর অন্য কেউ খুঁজলে বলতে বলা হয়েছে যে, মিরপুরে তাদের আত্মীয়র বাসায় এখন বাস করছেন।

তিনি আরো বলেন, পান্না শরীফের স্বামী ছিলেন ধর্মীয় লাইনের একজন হুজুর প্রকৃতির মানুষ। তাদের দুই সন্তান মহিউদ্দিন ও রেজোয়ান শরীফ ছিলেন ধর্মীয় লাইনে মানুষ। তাদেরকে ইয়ামেনের আনোয়ার আল আওলাকী নামে একজন ধর্মীয় নেতার বই পড়তে দেখেছেন। তবে বাড়ি ভাড়ার কোনো টাকাই তাদের কাছে পাঠানো হয় না।

কলাবাগান থানার ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, ক্রিসেন্ট রোডের ওই বাড়ির একই পরিবারের চারজন নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা সপরিবারে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে চলে গিয়েছেন। তবে তাদের নিখোঁজের বিষয়ে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো জিডি করা হয়নি।ইত্তেফাক

Related posts