November 17, 2018

নরসিংদী জেলা আ’লীগের পদ বঞ্চিত গ্রুপটি জেলা প্রশাসক পদও হারাচ্ছে

এম লুৎফর রহমান
নরসিংদী প্রতিনিধিঃ
ডিসেম্বরে জেলা পরিষদ নির্বাচন। চেয়ারম্যন ও ২০ সদস্যসহ ২১টি পদেই জনগনের নয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত হবেন। এতে নির্বাচকমন্ডলী (ভোটার) হিসাবে থাকবেন স্থানীয় সরকারের অধিনে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যগণ। তবে নির্বাচকমন্ডলীতে সংসদ সদস্যরা নেই। গত ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০১৬ এর খসড়া নীতিগত ও চুড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

দিন ক্ষণ উল্লেখ না থাকলেও ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এ নিয়ে নরসিংদীতে এরইমধ্যেই নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগের নেতারা মানুষিক ভাবে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বর্তমান জেলা পরিষদ প্রশাসক এডভোকেট আসাদুজ্জামান ও জেলা আওয়ামীলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ভূঁইয়ার নাম বেশ আলোচিত হচ্ছে। অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধারা মনে করেন জেলা পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নরসিংদী জেলা আ’লীগের পদ বি ত গ্রুপটি যজ্ঞের ধনের মত আগলে রাখা জেলা পরিষদ প্রশাসক পদটিও হারাবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের পদ বি ত গ্রুপটির এক নেতা জানান, আমরা যারা আওয়ামীলীগের দুর্দিনে সামনে থেকে নেতুত্ব দিয়েছি তারাই আজ দলের মধ্যে পদবঞ্চিত।

গতবছর অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে আমাদেরকে পদবি ত করা হয়েছে। বর্তমানে পদে থাকা নেতারা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেনকে হাত করে ঠিক যেভাবে জেলা আওয়ামীলীগের পদসহ সকল কমিটির পদ হাতিয়ে নিয়েছে ঠিক সেই ভাবেই এবার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদটি হাতিয়ে নিবেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হবে জনপ্রতিনিধিদের ভোটে নির্বাচিত, তাই এই পদটি কিভাবে হাতিয়ে নিবেন অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই নেতা বলেন, ‘ভুলে যাচ্ছেন কেন? সম্প্রতি হওয়া স্থানীয় সরকারের সকল দপ্তরের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ভার ছিল তাদের উপরই।

অতএব তাদের মনোনীত ব্যাক্তিরা তো তাদেরকেই ভোট দিবে। রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়া নরসিংদীর একজন প্রবীণ রাজনৈতিক বলেন, এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে সকল দলের অংশিদারিত্ব থাকবেনা। কেননা স্থানীয় সরকারের সকল দপ্তরের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অধিকাংশই বর্তমান ক্ষমতাশীন দলের। দুই একটি পদে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলেও তা খুবই নগন্য। সেই ক্ষেত্রে বিএনপি কিংবা অন্য কোন দলের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী থাকবে কিনা এ বিষয়ে নরসিংদী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লা বলেন,‘ জনগণের ভোটের নির্বাচনেই আওয়ামীলীগ যেভাবে ভোট ডাকাতি করে তাদের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছেন, সেই সকল জনপ্রতিনিধিদের ভোটে বিএনপির প্রার্থীর জয়লাভ করার কোন প্রশ্নই উঠেনা। আমরা এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন চিন্তা-ভাবনা করিনি।

তবে দলীয় হাই কমান্ড যদি চায় কোন নির্বাচনেই আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় জয়লাভ করতে দিবেনা। সেই ক্ষেত্রে আমরা প্রার্থী দিতে পারি। নরসিংদী জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এড. আসাদুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে প্রার্থী হবো, বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করে, মনোনয়ন দিলে আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবো। নির্বাচনে অংশগ্রহন করার জন্য আমি মানুষিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আওয়ামীলীগের অপর সম্ভাব্য প্রার্থী আব্দুল মতিন ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ক্ষমতাশীন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২৭ জুলাই জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা শেষে স্থানীয় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জেলা পরিষদ নির্বাচনের ঘোষনা দেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হবে। প্রতিটি জেলা পরিষদের অধিক্ষেত্রে সৃষ্টি করা হবে ১৫টি ইউনিট। এই ইউনিট সৃষ্টির, সীমানা পুন: নির্ধারণ করার জন্য স্থানীয় মন্ত্রনালয় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক নরসিংদী জেলাকে ১৫টি ইউনিটে বিভক্ত করে ১৫ টি সাধারণ ওয়ার্ড ৫ টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড গঠন করে তা বহুল প্রচারের জন্য বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

Related posts