September 25, 2018

নদী দিয়ে ভেসে এলো ভারতীয় হাতি

ঢাকা:  যমুনা নদীর স্রোতে ভারত থেকে ভেসে বাংলাদেশে এসেছে একটি হাতি। প্রায় দুশো কিলোমিটার স্রোতে ভেসে হাতিটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার চরে এসে উঠেছে। ভারতীয় কর্মকর্তারা এক ইমেইল বার্তায় বাংলাদেশের বন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের আসাম রাজ্যের বনভূমি থেকে একটি হাতি যমুনা নদী দিয়ে ভাসতে ভাসতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতের বন কর্মকর্তাদের কাছ থেকেই তারা প্রথমে এ খবরটি পেয়েছেন।

শীঘ্রই ভারতীয় বন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। তাদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করা হবে যে কিভাবে এটিকে ভারতে ফেরত পাঠানো যায়। বর্তমানে বন বিভাগের একটি টিম এই হাতিটির ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে হাতি আসার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও আরো দু’বার এরকম হাতি আসার ঘটনা ঘটেছে।

প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী জানান, গত মাসের শেষের দিকে ভারত থেকে পাওয়া এক ইমেইলের মাধ্যমে তারা এই হাতিটির কথা প্রথমে জানতে পারেন। তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী সাঁতরে হাতিটি এখন যমুনার চরে চরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হাতিটি এক চরে কিছুদিন থাকার পর আরেকটি চরে চলে যায় বলে জানান ইউনুস আলী। প্রত্যেকটি চরেই সে বেশ কিছু ঘরবাড়ির ওপর আক্রমণ করে। তবে হাতিটি বড় রকমের কোন পাগলামি করেনি।

হাতিটি প্রথমে ছিলো গাইবান্ধার একটি চরে। তারপর জামালপুরে এবং বর্তমানে আছে বগুড়ার সারিয়াকান্দির একটি চরে।

ইউনুস আলী বলেন, এই মওসুমে চরাঞ্চলে হাতির জন্যে পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যায়। যমুনার চরে প্রচুর ঘাস, কলা গাছ, বাঁশ আছে। ফলে তার খাবারের কোন অভাব হচ্ছে না।

হাতিটি কিভাবে ভারতে পাঠানো হবে সে বিষয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, এবিষয়ে ভারত থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি একটি বিশেষজ্ঞ দলকে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে সমস্যা হলো হাতির মতো প্রাণীর চেতনা নাশ করে দু’ঘণ্টার বেশি রাখা যায় না।

তিনি জানান, হাতিটিকে আপাতত উজানে না নিয়ে ভাটিতে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

Related posts