November 20, 2018

নতুন রূপে আসছে র‌্যাব-পুলিশ!

ডেস্ক রিপোর্টঃ  নতুন বছরে নতুন রূপে আসছে র‌্যাব-পুলিশ ইংরেজি নতুন বছরে নতুন রূপে দেখা যাবে পুলিশ ও র‌্যাবকে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে এই দুই বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই দুই আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশকিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮ জন জনবল রয়েছে। নতুন বছরে আরও ২০ হাজার জনবল যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ফলে নতুন বছরে পুলিশের মোট জনবল ১ লাখ ৯০ হাজার হতে পারে।

এছাড়া পুলিশ বাহিনীতে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট চালু হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ বাহিনীতে যুক্ত হবে আরও অত্যাধুনিক নিরাপত্তা সামগ্রী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। বাড়বে অন্যান্য লজিস্টিক সাপোর্ট। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নানা বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে আরও বেশি করে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঠিক একইভাবে র‌্যাব সদস্যদের দক্ষতা বাড়াতে এবং এই বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা আরও বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আমাদের কাছে জনগণের প্রধান প্রত্যাশা শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার সাথে জীবনযাপন। জনগণের এই প্রত্যাশাকে মাথায় রেখেই র‌্যাব-পুলিশকে আরও কীভাবে জনবান্ধব হিসেবে পরিচালিত করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া হবে। পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তাদের বিদ্যমান ভূমিকাকে আরও গতিশীল ও কঠোর করা হবে। সেবার মান ও পরিধিও বাড়ানো হবে।

নারায়ণগঞ্জে অপহরণোত্তর ৭ খুনের ঘটনার পর র‌্যাবের সার্বিক কার্যক্রম অনেকটাই থমকে দাঁড়ায়। ভাটা পড়ে অপারেশনাল কার্যক্রমে। পরবর্তীকালে ফেনীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় বড় ধরনের অভিযানের মধ্যদিয়ে র‌্যাব ফের ঘুরে দাঁড়ায়। নতুন বছরে নতুন রূপে র‌্যাবকে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অবস্থানকে কঠোর করা। এজন্য র‌্যাব সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বেশকিছু নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন।

র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। এর ফলে র‌্যাব জনগণের আস্থার বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। নতুন বছরে জনগণের এ প্রত্যাশা পূরণে আরও কঠোর এবং আরও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে ভূমিকা রাখবে র‌্যাব।

জানা গেছে, জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের বিষেশায়িত কোনো ইউনিট না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই এই বাহিনীর সদস্যরা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে নতুন বছরে পুলিশ বাহিনীতে ‘কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম’ ইউনিট চালু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৬শ জনবল নিয়ে এই ইউনিট চালু হচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের অধীনে। ইতোমধ্যে এই ইউনিটের জন্য পৃথক ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে মিন্টো রোড গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে। একজন ডিআইজি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৪ জন ডিসি, ১২ জন এডিসি এবং ২০ জন এএসপি এই ইউনিটে কাজ করবেন। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসপিবিএন, পিবি আই, নৌ-পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, এই ইউনিটের প্রধান কাজই হবে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের তৎপরতার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা। আন্তঃদেশীয় সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ, আন্তর্জাতিক মুদ্রা জালকারী, অস্ত্র চোরাকারবারি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, মানি লন্ডারিং, সাইবারকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ, জিম্মি, উদ্ধার, সাইবার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মানবপাচার প্রতিরোধ, ইন্টারনেট ব্যবহার করে উগ্রপন্থা প্রচার ঠেকাতে কাজ করবে নতুন এই ইউনিট। প্রতিনিয়ত সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধের গতি প্রকৃতি নিয়ে গবেষণাও করবে। মামলাও তদন্ত করবে। সারা দেশে এই ইউনিটের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, নতুন বছরে পুলিশ বাহিনীতে নতুন রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশের কার্যক্রম চালু করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর এবং গাজীপুর মহানগর পুলিশ। এছাড়া পুলিশের যেসব ইউনিটে জনবলের কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না। সেখানে নতুন পদ সৃষ্টি করে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts