November 20, 2018

নতুন রণতরী ও সেনা ইউনিট বানাচ্ছে চীন

আন্তর্জতিক ডেস্কঃ  দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর অধিকার নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে চীনের বিরোধ এবং নিজেদের পানি সীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে চীন তাদের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী তৈরি শুরু করেছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া চীন তার সামরিক বাহিনী, অস্ত্রশস্ত্র ও এর কমান্ড কাঠামোর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন তিনটি সামরিক ইউনিট গঠন করেছে।

বিমানবাহী রণতরী নির্মাণের ব্যাপারে প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াং ইউজুন বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এই রণতরী নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। প্রথম বিমানবাহী রণতরী লিওনিংয়ের কাছ থেকে পাওয়া প্রশিক্ষণ ও গবেষণার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় রণতরীর পরিকল্পনা ও তৈরির কাজ চলছে’।

কয়েক মাস ধরেই সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কথায় রণতরী নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসছিল। তবে বৃহস্পতিবারই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়। পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর অধিকার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও ফিলিপাইনের সাথে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে চীনের। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরোটাতেই নিজের বলে দাবি করছে তারা। এ ছাড়া সাগরে চীনের কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যার ফলে সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছে কেউ কেউ।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ও বিমান মাঝেমধ্যে চীনের পানিসীমায় টহল দিয়ে এ অঞ্চলে উসকানি দিয়ে চলেছে। শুধু তাই নয়, এমন টহল মাঝেমধ্যে তারা দেবে সে ব্যাপারে জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুমোদন করে এমন সব জায়গায় মাঝেমধ্যে আমাদের সেনাবাহিনী টহল দেবে। দক্ষিণ চীন সাগরও তার ব্যতিক্রম নয়’।

সাম্প্রতিক সময়ে চীন তাদের নৌবাহিনীকে শক্তিশালী করার কাজে মনোযোগী হওয়ায় দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী তৈরি করছে। পরমাণু শক্তিতে চালিত রণতরীতে চীনের তৈরি জে-১৫ বিমানের পাশাপাশি অন্যান্য বিমানও থাকবে বলে জানিয়েছেন ইয়াং ইউজুন।
৩টি নতুন সামরিক ইউনিট।

বেইজিং থেকে রয়টার্স জানায়, চীন তার সামরিক বাহিনী, অস্ত্রশস্ত্র ও এর কমান্ড কাঠামোর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নতুন তিনটি সামরিক ইউনিট গঠন করেছে। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ঘোষিত সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গতকাল চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ খবর জানায়।

পূর্ব চীন সাগর নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো এবং আমেরিকার সাথে চীনের বিরোধ বাড়ার মধ্যে শি সামরিক বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। চীনের নৌবাহিনী সাবমেরিন ও বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণে এবং বিমানবাহিনী স্টিলথ জঙ্গি বিমান নির্মাণের প্রতি বিশেষ মনোযোগ প্রদান করেছে।

গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে শি সেনাবাহিনীর একটি নতুন জেনারেল কমান্ড ইউনিট ও গণমুক্তিফৌজের কৌশলগত সহায়কবাহিনী উদ্বোধন করেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts