September 24, 2018

নিষিদ্ধ হলে নতুন নামে জামাতঃ নির্বাহী কমিটিতে থাকছে যারা

jamt

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলে তার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াই চালাবে দলটি। সে প্রক্রিয়ায় টিকতে না পারলে তখনই কেবল নতুন দল গঠনের মতো বিকল্প চিন্তা করবে। নতুন সংগঠনের কোনো নাম এখনো ঠিক হয়নি। তবে দল নিষিদ্ধ হলেও ছলেবলে কৌশলে যে কোনো ব্যানারে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। দলের নাম জামায়াতই থাকুক কিংবা নতুন দলই গঠন করা হোক না কেন, গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে যুগোপযোগী করা হবে সংগঠনকে। যুদ্ধাপরাধের ন্যূনতম গন্ধ আছে এমন নেতাদের দলে আর রাখা হবে না। সাবেক শিবির নেতাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হবে।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান, তাদের দল নিষিদ্ধ করা হতে পারে— এমনটা ধরে নিয়েই যাবতীয় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন দল গঠন করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিভিন্ন নামেরও প্রস্তাব আসছে। মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন সাংগঠনিক ইউনিটেও পাঠানো হচ্ছে এসব নামের বিষয়টি। কিন্তু কোনোটাই চূড়ান্ত করা হয়নি। আদালতের মাধ্যমে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। সে লড়াইয়ে জিততে না পারলে অবশেষে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিবেন। আর সেক্ষেত্রে নাম যা-ই হোক না কেন জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোই ঠিক রাখা হবে।

ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ থাকা অবস্থায় নতুন দলের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও সেক্ষেত্রে তিনিই হবেন সেই দলের চেয়ারম্যান। আর মহাসচিবের তালিকায় আলোচনায় রয়েছেন মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদসহ আরও দুজনের নাম। জানা গেছে, সংশোধিত গঠনতন্ত্রে শীর্ষ পদসহ অন্যান্য পদসমূহে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিএনপির মতোই বয়সের কোনো বাধা থাকবে না এবং দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হবে গঠনতন্ত্রের বিধিমালা। তবে যুদ্ধাপরাধের গন্ধ আছে এমন নেতাদের নতুন বা পুরাতন কোনো দলের কোনো পদেই আর রাখা হবে না। বরং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এমন সাবেক ইসলামী ছাত্রশিবির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এ ছাড়াও বয়সের ভারে বেশি ন্যুব্জ হয়ে পড়া ও শারীরিকভাবে অক্ষম নেতারা কোনো পদে না থেকে দলের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন বলে দলটির অপর একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল জানান। প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত তিনবার নিষিদ্ধ হয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে ১৯৫৯ ও ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে এবং ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান প্রতিষ্ঠার পর অন্য সব ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে জামায়াতও নিষিদ্ধ হয়। এর সাত বছর পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৭৯ সালের ২৫ মে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতও আবার প্রকাশ্য রাজনীতির সুযোগ পায়।

Related posts