September 21, 2018

নজরদারিতে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের এজেন্ট

ভাড়ায় খাটা কথিত মার্কিন সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের ঢাকায় বিশেষ এজেন্ট রয়েছে। এ চক্রের একজন সদস্যকে নজরদারির আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছেন গোয়েন্দারা। তার নাম শামীম কবির ওরফে তন্ময় ওরফে জিসান বলে জানা গেছে। তাকে নজরদারি করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। কথিত সাইটটির হয়ে কাজ করছেন তন্ময়। তিনি বাংলাদেশের ভেতরে ঘটে যাওয়া সব তথ্য পাঠান ওই গ্রুপের কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এই শিক্ষার্থীর খোঁজ করতে গিয়ে তার চক্রের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যায়। জেরুজালেম ও সিরিয়ার তাওহিদি জনতা নামে দুটি সংগঠনের ব্যানারে উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এই যুবক। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে তন্ময় চক্রের সদস্যরা শিগগির ধরা পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সাইটটির বিশেষ এজেন্ট তিন এলাকা রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া, মনিপুরীপাড়া ও ভাটারা এলাকায় আসা-যাওয়া করেন। তন্ময় চক্রের সদস্যরাও এসব এলাকায় বসবাস করেন। এই তিন এলাকা থেকে দেশের ভেতর ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো বিদেশে মেইল করে পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তন্ময়। তার দেয়া মেইলবার্তার পরপরই কথিত সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপে বাংলাদেশ নিয়ে তথ্য আপলোড করে আইএসের নামে অপপ্রচার চালানো হয়। আর তা নিয়ে দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন মহলে শুরু হয় হুলস্থূল অবস্থা। যদিও সরকার সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষের এই সাইটকে কোনোভাবেই পাত্তা দিচ্ছে না। কারণ এই সাইট সন্ত্রাসী সংগঠনের হয়ে ভাড়ায় কাজ করছে। এর সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীদের যোগসূত্র রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যে কোনো ঘটনা ঘটলেই কথিত এই সাইটে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আপলোড করা হয়। আর তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হল বাংলাদেশে আইএস আছে তা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু এ দেশে আইএসের কোনো অস্তিত্ব নেই।

তিনি জানান, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরই নিয়ন্ত্রিত এ সাইট। দেশে ও বিদেশে অবস্থান করে ষড়যন্ত্রকারী চক্রের সদস্যরা এই সাইটে তথ্য পাচার করে। এদের বিষয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এ চক্রের সদস্যদের বিষয়ে যে তথ্য-উপাত্ত পেয়েছেন, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, কোনো একটা ঘটনা ঘটলেই ৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকায় একটি বার্তা চলে যায়। তখন আমেরিকার সাইট নামক প্রতিষ্ঠান বলে এটা আইএস করেছে। আইএস নামে কোনো সংগঠন বাংলাদেশে নেই। তাদের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে নেই। আইএসের নাম দিয়ে আমাদের মধ্যে একটি বিভেদ সৃষ্টি করতে এবং বিভেদের সুযোগ নিয়ে আজকে আমাদের অকার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যের ঠিক কোন দেশ থেকে মেইল আমেরিকায় পাঠানো হয় তা জানা যায়নি। গোয়েন্দারা অনুসন্ধানের পর এ তথ্য কয়েকদিন আগে নিশ্চিত হন।

গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সব ঘটনা প্রথমে দুবাইতে মেইল করা হয়। তারপর দুবাই থেকে আমেরিকায় চলে যায়। সেখান থেকে কথিত সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপে আপলোড করা হয়ে থাকে। তিনি জানান, তদন্তানুসন্ধান করতে গিয়ে বিশ্বমানের প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। এই চক্র উন্নত বিশ্বের প্রযুক্তি ও অ্যাপসের ব্যবহার করে। যাতে করে তাদের সহজে শনাক্ত করা না যায়।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, কথিত সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের যে এজেন্টকে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে তার সঙ্গে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নাশকতায় জড়িতদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এই ব্যক্তি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পলিসিগত অনেক তথ্য পাচার করেছে। বিদেশে অবস্থান করা চক্রের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ, ফেসবুকে তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সাইটে তথ্য সরবরাহ করার উপযুক্ত প্রমাণও মিলেছে। আর এতে করে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গভীর ষড়যন্ত্রের বিষয়টিও অনেকটাই স্পষ্ট।

আইনশৃংখলা বাহিনীর সূত্র জানায়, দেশে খুন বা হামলার পরই বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে বিদেশে ভাড়া নেয়া ওই সাইটে অপপ্রচার করা হয়। হামলা বা খুনের ঘটনা কথিত আইএসের কাঁধে চাপিয়ে বাংলাদেশকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করে আন্তর্জাতিক চক্রটি।

গুলশানে ইতালির নাগরিক সিজারি তাভেল্লা, রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি, আশুলিয়ার চেকপোস্টে পুলিশের ওপর হামলা, বাহাই সম্প্রদায়ের নেতার ওপর হামলা ও পাদ্রি যাজকের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় আইএস অস্তিত্ব প্রমাণের চেষ্টা করে সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপটি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts