November 21, 2018

নওগাঁর শতশত বিঘা ধান চিটা, দিশেহার কৃষক!


একেএম কামাল উদ্দিন টগর,নওগাঃ  কোন কিটনাশক দিয়েও খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাইয়ে শতশত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দিশেহার হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অধিকাংশ কৃষকরা তাদের খরচের টাকাও ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তাই দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, ধানের চিটা দেখা দেয়ারপর কৃষি কর্মকর্তাদের কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা এই ক্ষতি সম্মূখীন হয়েছেন।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১৯ হাজার একশ’ হেক্টর জমিতে ও আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর অধিকাংশ ধানই জিরাশাইল। গত বছরের চেয়ে এ বার মাঠের ধান অনেক ভালো হয়েছে। ধান পাকতে শুরু করেছে। কিন্তু হঠাৎ করে দেড় সপ্তাহ আগে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা উপনিয়নে বড়গাছা, আকনা, বাঁশবাড়ীয়া, দেউলিয়া, খাসগড়, নলদিঘী, গোনা ইউনিয়নের গোনা, বহলা, পিরপাড়া, আত্রাই উপজেলার মনোয়ারি ইউনিয়নের নওদুল, বাঁকা, নইদিঘী, ভোঁপাড়ার ইউনিয়নের জামগ্রাম, তিলাবাদুড়ী, জালুপোঁয়াতা, শাহাগোলা ইউনিয়নের কয়সা, চাপড়া, লহিপুরসহ আরো ১০/১২টি গ্রামের মাঠে ধানের শীশের গোড়ায় কাল দাগ দেয়া দেয়।

এ ঘটনায় কৃষকরা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কিটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে জমিতে কিটনাশক স্প্রে করেও ধান রক্ষা করতে পারেনি। এরপর কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে কোন সহযোগিতা পাননি কৃষকরা। এতে শতশত বিঘা জমির ধান চিটা হয়ে গেছে।

বড়গাছা গ্রামের বিশ্বজিত কুমার প্রাং জানান, তাদের ৫০ বিঘার মধ্যে প্রথমে হঠাৎ করে সপ্তাহ খানে আগে ৪/৫ বিঘা জমিতে ধান গাছের শীশের গোড়ায় কাল দাগ দেয়া দেয়। এরপর বাজার থেকে বিভিন্ন কিটনাশক দেয়া হলেও কোন লাভ হয়নি। এরপর কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা মাঠে এসে কৃষকদের কোন পরামর্শ দেননি। এতে দ্রুত এই রোগ ছড়িয়ে যায়। বর্তমানে তাদের ১৫/১৬ বিঘা জমির অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

আকনা গ্রামের সাজেদুর রহমান জানান, সাড়ে ৫ বিঘা ধান চাষ করা হয়। এর মধ্যে ৫ বিঘার ধানই চিটা হয়ে গেছে। এতে তাদের ধরচের কোন টাকা ঘরে উঠবে না। আগামিতে পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তাই আছেন তিনি।

জামগ্রাম গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের গ্রামের মাঠেও ধানের জমিতে ব্যাপক চিটা দেখা দিয়েছে। অজপাড়া গ্রাম হওয়ায় কোন কৃষি কর্মকর্তাগণ আসেন না এলাকায়।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম জানান, গত বন্যা বছর বন্যা হওয়ায় মাটিতে পলি পরে মাটি উর্বর ছিল। এরপর যে কৃষকরা জমিতে বেশি সার দিয়েছেন তাদের জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি জানারপর কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসে এ ঘটনায় কোন রিপোর্ট করেছেন কিনা এমন প্রশ্নে কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এই কৃষিবিদ।

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন জানান, গত দেড় সপ্তাহ আগে এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আত্রাই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে মনোয়ারি এলাকায় ২শ’ হেক্টর জমিতে ধানের চিটা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ব্যাপক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। এতে তেমন কোন ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন।

মনোয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ধান চিটা হওয়ায় তাদের এলাকায় অধিকাংশ কৃষক তাদের ধান ও খরচের টাকা ঘরে তুলতে পারবে না। কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না পাওয়ায় এই ক্ষতি সম্মূখীন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সত্যব্রত সাহা জানান, খাদ্যে উদ্বেৃত্ত নওগাঁর প্রধান ফসল ধান। ধান চাষে কৃষকদের কোন ক্ষতি না হয় সে জন্যে উপজেলা কৃষি বিভাগকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে। এ ব্যাপারে ওই দুই উপজেলার কৃষি অফিস বিষয়টি তাকে জানাননি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৬ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts