September 22, 2018

ধ্বংসের ধারপ্রান্তে হাছন রাজার বাড়ী

hason-rajar-bare-1

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ প্রতিনিধি :: ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে কান্দে হাছন রাজার মন মইনারে’ অমর কালজয়ী এই গানের স্রষ্টা মরমী কবি হাছন রাজা। এই গানের মতই হাছন রাজার সিলেটের বিশ্বনাথের রামপাশার পৈত্রিক বাড়ী এখন অযত্নে অবহেলায় মাটির সাথে মিতালী করে নিরবেই কান্দে।

ক্রমে ক্রমে ধংস হয়ে যাচ্ছে রাজার তৈরী পুরনো ঘর। স্মৃতি ধরে রাখতে উদ্যোগে নিচ্ছেনা কেউ। দিনের পর দিন এভাবেই অবহেলা আর অযতেœ পড়ে আছে বিশাল বাড়িটি। যে বাড়ির দিকে থাকিয়ে খাকেন হাছন রাজার অসংখ্য ভক্ত আশেকান। আগ্রহ নিয়ে হাছন রাজার বাড়ি দেখতে এসে অনেকেই হতাশ হন। যে হতাশা মানুষের মধ্যে কষ্টের পাহাড় জমে থাকে। অথচ এই হাছন রাজাই বিশ্বনাথের রামপাশা গ্রামেই জীবন-যৌবন কাটিয়েছেন। বাংলার মরমী সাহিত্যে হাছন রাজার নাম বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য।

হাসন রাজার পরিবারের বিশাল ভু-সম্পত্তি এখনো বিশ্বনাথের রামপাশায় রয়েছে। বিশেষ করে রামপাশার বাড়ীটি এখন অযতœ-অবহেলায় থাকায় ধ্বংসের ধারপ্রান্তে এসেছে। তবুও শতশত সাহিত্য প্রেমী মানুষ এখন এক নজর দেখার জন্য দুর দুরান্ত থেকে রামপাশায় যান। গিয়ে দেখেন একটি জরাজীর্ণ ভঙ্গুর পাকা বাড়ী কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ীর সামনের বিশাল দীঘিসহ এই জমিতে হাছন রাজার স্মৃতির নিদর্শন সরুপ অনেক কিছুই করা যেতে পারে। পরিকল্পিতভাবে এই জায়গাকে কাজে লাগিয়ে দেশি বিদেশী পর্যটকদের জন্য করা যেতে পারে সাংস্কৃতিক স্পট। করা যেতে পারে সাহিত্য সাংস্কৃতির মিলন কেন্দ্র।

এ ব্যাপারে হাছন রাজা পরিবারের সদস্য দেওয়ান তালেবুর রাজা চৌধুরীর পুত্র ‘হাছন রাজা সমগ্র’ গ্রন্থের সম্পাদক দেওয়ান তাছাওয়ার রাজা সাংবাদিকদের জানান, শীঘ্রই রামপাশায় সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য একটি বিশাল কমপে¬ক্স তৈরী করা হবে। যাতে থাকবে লোক সাহিত্য ইন্সিটিউট, পাঠাগার, যাদুঘর, সেমিনার হল, আর্ট গ্যালারী ইত্যাদি।

শুধু হাছন রাজার পরিবারই নয় সরকারেরও উচিত বাংলা মরমী সাহিত্যের এই কৃতিমান পুরুষের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য এখানে একটি সাংস্কৃতিক কলেজ কিংবা মরমী সাহিত্য যাদুঘর প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা। বর্তমানে হাছন রাজার বাড়ীটি রামপাশার যে জায়গায় আছে সেখান থেকে সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য একদিকে বিশ্বনাথ হয়ে সিলেট, অন্যদিকে গোবিন্ধগঞ্জ হয়ে সুনামগঞ্জের সাহিত্যপ্রেমীদের সাথে যোগাযোগ রাখা সম্ভব। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপুর্ন এই জায়গায় অচিরেই যদি কোন কিছু করা না হয় তাহলে অদুর ভবিষ্যতে জায়গার দামের বিবেচনা কোন কিছু করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, রাজার বাড়িতে অনেক কিছু করার চিন্তা আছে। রাজা পরিবার যদি লিখিতভাবে সরকারকে দেন তাহলে মরমী কবি হাছন রাজার পিতৃভূমিতে বিনোদনের স্থায়ী ব্যবস্থা, একটি অডোটেরিয়াম, শিশুদের বিনোদনের জন্য একটি শিশুপার্কসহ অনেক কিছু করা যাবে। তিনি এ ব্যাপারে রাজা পরিবারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Related posts