November 15, 2018

ধানের বাম্পার ফলন হলেও মুল্য সংকটে কৃষক!


মোঃ মেহেদী হাসান উজ্জল, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চলতি ইরি-বোরো মওসুমে ধান কাঁটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ধানের শীষের সোনালী রংয়ের বর্ণিল ছোঁটার সমারোহ। যতদুর চোখ যায় শুধু সোনালী রঙের চোখ ধাঁধাঁনো দৃশ্য। মাঠ জুড়ে সোনালী রং বলে দিচ্ছে গ্রাম বাংলার কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ইরি-বোরো ধান চাষের সফলতা আসন্ন। চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের বুকভরা আশা করছে এই এলাকার কৃষককুল। গত ইরি-বোরো মৌসুমের প্রাকৃতিক ধকল কেটে কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল ধান চাষ করায় এবং কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ এখন পর্যন্ত হানা না দেয়ায় এই উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বলে জানান উপজেলা কৃষি বিভাগ ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়,চলতি বছর উপজেলার ১৩হাজার৩শ’৭০হেক্টর(৩৩০২৩একর)জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩হাজার ৫শ’৭০ হেক্টর(৩৩৫১৮একর) জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২শ’ হেক্টর বেশী। এদিকে কৃষি বিভাগের সূত্রমতে,একর প্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৩৯মণ নির্ধারণ করা হলেও কৃষকরা প্রতি একরে ৬০মণ ধান উৎপাদন করছেন বলে জানা যায়। কিন্তু এতেও কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছেনা বলে জানিয়েছেন চিন্তামণ গ্রামের কৃষক এজাজুল ইসলাম ও একই গ্রামের কৃষক সুলতান বারী।

তারা বলেন,৬০মণ ধানের বর্তমান বাজার মূল্য ১৮হাজার টাকা,কিন্তু ধান উৎপাদনে সার,বীজ,সেচ,নিড়ানী,চাষসহ কৃষকের সর্বসাকুল্যে খরচ,একর প্রতি ২৪হাজার ৩শ’ টাকা। এক্ষেত্রে কৃষকরা প্রতি একরে ৬হাজার ৩শ’ টাকা লোকসান গুনছেন। আবার বর্গাচাষী কৃষক জমি মালিকদের ইজারার টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে দ্বিগুণ লোকসানের শিকার হচ্ছেন। এতকিছুর পরেও কৃষিজীবি মানুষের মাঝে এখন ধান-কাটা মাড়ায়ের উৎসব শুরু হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হামিম আশরাফ জানান,পরিবেশের ভারসম্য রক্ষায় রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করে বোরো ক্ষেতে কি  ও গাছের ডাল পুঁতে বিকল্প উপায়ে পোকা-মাকড় নিধনে কৃষকদের উৎসাহ প্রদান,সময়মত পোকা দমনের প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ে ব্লক সুপারভাইজারদের সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে উপজেলায় ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন,কিছু কিছু এলাকায় হাইব্রিড জাতের ধান কাঁটা-মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে,সকল জাতের ধান কৃষকের ঘরে উঠতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। এ সময় পর্যন্তু কোন প্রকার প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এই এলাকার কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের কাংঙ্খিত ফলন পাবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/৩ মে ২০১৬

Related posts