September 26, 2018

ধানসিঁড়ির দু’তীরে সবুজের সমারোহ!

1

রহিম রেজা,ঝালকাঠি থেকেঃ  ঝালকাঠির রাজাপুরের ধানসিঁড়ি নদী খননকৃত উর্বর পলি মাটিতে নদীর দু’তীরে নয়নাবিরাম সবুজের সমারোহ। উর্বর পলি মাটিতে বিভিন্ন জাতের সবুজ ফসল বিপ্লবের হাতছানি দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছপালার মধ্যে বিভিন্ন পাখির কলতানে মুখরিত নদীটির দুই তীর। রাতের দৃশ্য আরও নয়ন ও মনকারার মত। ডুমুর গাছে জোঁনাকি পোকার আলোতে ধানসিঁড়ি নদীর দুই তীর জলজল আলোতে আলোকিত হয়ে যায়। যেকোন মানুষের চোখ আটকে যাবে জোঁনাকির পোকার আলোর টিপটাপ তালে তালে। উপজেলার একমাত্র পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে হাতছাতি নিয়ে ডাকছে প্রকৃতি প্রেমিকদের। সংশ্লিষ্টদের একটু নজরে এলেই দেশের অন্যতম পর্যটক কেন্দ্র হতে পারে রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতার নদী “ধানসিঁড়ি”।

কারন নদী, পানির কুলকুল শব্দ, সবুজ, পাখপাখালির কলোতান ও বাহারী সবুজ রংয়ের বিভিন্ন ফসল কার না ভাল লাগে। স্থানীয় গাছিরা নদীর দু’তীরের খেজুর গাছ রস সংগ্রহের জন্য পরিষ্কার করে কেটে খিল লাগিয়ে হাড়ি জুলিয়ে দিয়ছেন। সেই বাঁশের কন্সির খিলে বসে পাখিদের খেজুর গাছের রস খাওয়ার দৃশ্য আরও আকর্ষনীয়। পাখির কিচিরমিচির সুরেলা ডাকে মন হারিয়ে যায় আচেনা মনপুরির দেশে। নদীটির ১২ কিলোমিটর দু’তীরেজুড়ে ঝালকাঠি সদর ও রাজাপুর উপজেলা বন বিভাগ সারিবদ্ধভাবে রোপন করেছেন রেন্ট্রি গাছ, মেহগনি, আকাশমনি, শিশু, জারুল, বকাইন, কাঁঠ বাদাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমলকি বহেরা, অর্জুন ও অরহর ভাবলা (ডুমুর) সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।

তাছাড়ও স্থানীয় কৃষকরা নদীটির দুই তীরে বিভিন্ন শীতকালিন সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদে ইতোমেধ্য পুরোধমে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। উর্বর পলি মাটিতে যাহাই চাষ করা হয়, তাহাই লাফিয়ে লাফিয়ে ফলছে। কৃষকরাও জাদুকরী এ উর্বর মাটির জাদুতে মনের আনন্দে ফসলের চাষ করছেন। দীর্ঘ প্রায় চার কিলোমিটার নদীতীরে উপজেলা বন বিভাগ ও স্থানীয় কৃষকরা বিভিন্ন সবুজ গাছপালা ও ফসলের চাষ করায় পুরো নদীই সবুজের আবর্তে ডুবে আছে। চারিদিকে সবুজ গাছপালা ঘেরা এ নদীতীরে প্রবেশ করলে মনে হয় সবুজ সুরঙ্গে প্রবেশ করছি। কোথাও মানুষের দেখা না মিললেও ক্ষেত্রের মধ্যে কৃষকের কথার শব্দ শোনা যায়। অনেক সময় ভয়ও লাগে এ সবুজ গাছগাছালির মধ্যে। কিন্তু কোথাও কোন ভয়ানক প্রানী বা জীব জন্তুর দেখা নেই।
2
যে সব সবুজ প্রকৃতি প্রেমিরা সবুজকে ভালবাসেন তারা এখনই নিজের চোখে দেখে যান চির সবুজের দেশের আসর সবুজ। যেভাবে যাবেন ধানসিঁড়ি নদীর সবুজ তীরে: পর্যটকদের জন্য সব চাইতে সহজ কয়েকটি পথ হলো- রাজাপুর উপজেলার বারৈই বাড়ি থেকে পূর্বের রাস্তাটি দিয়ে সহজেই নদীতীরে পৌঁছে যাওয়া যায়। এ রাস্তায় সম্মূখে রয়েছে নদী খননের ভিত্তিপ্রস্তুর। এ ছাড়াও পিংরি স্কুল এলাকা থেকে নদীতীরে যাওয়ার দুটি পথ রয়েছে। মাত্র কয়েক কদম হাটলেই পৌঁছে যাবেন নদীতীরে। তাছাড়াও উত্তর বাগড়ি, বাশতলাসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ধানসিঁড়ি নদী তীরে যাওয়া যায়। সকাল-বিকেল যখন খুশি ঘুরে আসুন প্রকৃতির লিলাভূমি ধানসিঁড়ি নদীর সবুজ তীর। স্থানীয় কৃষকরা নদীর দু’তীরের উর্বর মাটিতে আর্থিক মুনাফা লাভের আশায় চাষ করেছেন আলু, সরিষা, টমেটো, ছিম, লাউ, কুমড়া, মুগডাল, লাল শাক ও মূলা সুস্বাদু খিরাই ইত্যাদি। ফসল ফলিয়ে গেল বছর অনেক কৃষক হয়েছেন লাখপতি।

তাদের সফলতা দেখে এ বছর স্থানীয় সব কৃষকরা চাষ করেছেন বিভিন্ন ধরনের ফসলের। ইতোমধ্যে ফসলগুলো বেশ ফলেছে। বাম্পার ফলন হবে এবারও। কৃষকরা ভাল ফলনে বেশখুশি তাই প্রতিদিন বিকেলে কৃষকরা আসেন ফসলের পরিচর্যা করতে। স্থানীয় কৃষক সোহাগ সিকদার জানান, তারা স্থানীয় পেশাদার ৮ থেকে ১০ জনসহ বেশ কয়েক জন মৌসুমী কৃষক মিলে নদীর তীর বিভিন্ন ফসলের চাষ করেছে। স্থানীয় অপর কৃষক পান্নু লষ্কর জানান, তিনি নদীর তীরের উর্বর মাটিসহ তীরবর্তী মাঠে ৭/৮ কুড়া জমিতে বিভিন্ন সবজির চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কুড়ায় সরিষা, ১০ কাঠায় মুসরি ডাল, ২ কুড়ায় মুগডাল, ৮ কাঠায় ভাঙ্গি, ৫ কাঠায় মূলা, ৩ কাঠায় বাদাম, ৪ কাঠায় মরিচ, ৫ কাঠায় মিষ্টি আলু, ১০ কাঠায় বুডের ডাল,  লাল শাক ও হলুদসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফসলের চাষ করেছেন। বেশ ভাল ফলন হয়েছে।

গেল বছর বেশ লাভবান হয়ে এ বছর অধিক জমিতে ফসলের আবাদ করেছেন। তিনি কৃষি বিভাগের সহযোগীতা পেলে আরও ভাল ও বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবেন। রাজাপুর উপজেলা অফিস সূত্র জানান,  উর্বর পলি মাটি হওয়ায় যেকোন ফসল লাগালেই দ্রুত বর্ধিত হয়। বর্তমানে স্থানীয় কৃষকরা শীতকালিন বিভিন্ন ফসল আবাদ করেছেন। বেশ ভাল ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগীতায় এ ফসল চাষ করে বেশ মুনাফা অর্জন করবে কৃষকরা। আরও বেশি ও ভাল ফসল ফলানোর বিষয়ে কৃষি বিভাগ সব ধরনের সহযোগীতা করবে কৃষকদের।
3
রাজাপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ আলমগীর হোসেন খান জানান, বন বিভাগের দারিদ্র বিমোচন প্রকল্পের আওতায় ২০১১-১২ অর্থ বছরে সীড রিং ৫ কিলোমিটার নদীটির দু’তীরেজুড়ে সারিবদ্ধভাবে রেন্ট্রি গাছ, মেহগনি, আকাশমনি, শিশু, জারুল, বকাইন, কাঁঠ বাদাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমলকি বহেরা, অর্জুন ও অরহর ভাবলা (ডুমুর) সহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়েছে। তাছাড়ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার আওতার ৭ কিলোমিটারেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন করা হয়েছে। বর্তমানে গাছগুলো বেশ বড় হয়ে উঠেছে। ফলে দুই তীরজুড়ে নয়নাবিরাম সবুজের সমারোহ বিরাজ করছে। রাজাপুর ও ঝালকাঠির আওতার ১২ তিলোমিটার ছাড়াও নদী তীরের অনেক জমি রয়েছে যাহাতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা রোপন করা যাবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts