September 21, 2018

ধর্মের কারণেই সম্মান বেশি পাই

স্পোর্টস ডেস্কঃ  দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে। অস্ট্রেলিয়া ও স্বাগতিক দলের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫ সদস্যের দলে এবার ৫ জন মুসলিম। হাশিম আমলা, ইমরান তাহিরের সঙ্গে আছেন ফারহান বেহার্দ্দিন, ওয়েইন পারনেল (ওয়ালিদ) ও তাবরিজ শামসি। হাশিম আমলা ও ইমরান তাহির দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ঢোকার পরও তাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি নিয়মিত মেনে চলেন। নওমুসলিম পারনেলও তাদের সঙ্গে নিয়মিত নামাজ-কালাম পড়েন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মুসলিমদের সিয়াম সাধনার মাস রমজান। মুসলিমদের জন্য এ মাসে রোজা রাখা ফরজ বা অবশ্য পালনীয়। রমজান মাসজুড়েই চলবে এ ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট। অনেকের প্রশ্ন এ মাসে তারা কি করবেন। ইমরান তাহির জানান, তারা রোজা রেখেই মাঠে নামবেন। আর সম্ভব না হলে রোজা ভাঙতে পারেন। তবে সেটা পরে আদায় করবেন বলে জানালেন। ইসলামী নিয়মে সফরে থাকলে রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। পরে সুযোগ বুঝে সেটা আদায় করা যায়। সংবাদ সংস্থা ‘এএফপি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তাহির রমজান মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের জার্সির স্পন্সর ‘ক্যাসল লেগার’-এর লোগো পরবেন না বলে জানান।

কোম্পানির কাছ থেকে এই অনুমতিও নিয়েছেন। ‘ক্যাসল লেগার’ একটি বিয়ার কোম্পানি। ইসলাম ধর্মে মাদক বা অ্যালকোহল পান ও প্রচার করা হারাম বা নিষিদ্ধ। দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম খেলোয়াড়রা মাদক পান করেন না। আর হাশিম আমলা অনেক আগে থেকে নিজের জার্সিতে বিয়ার কোম্পানির লোগো ব্যবহার করেন না। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ও ওই কোম্পানির সঙ্গে কথা বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইমরান তাহিরও আমলার মতো করতে চান। কিন্তু এখনও তার এই বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এতে তার জার্সিতে এখনও বিয়ার কোম্পানির লোগো আছে। তবে আপাতত রমজান মাসে তিনি এই লোগো ব্যাবহার থেকে বিরত থাকতে চান। ধর্মীয় রীতি এবং খেলাধুলা একসঙ্গে চালিয়ে নেয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘নিজের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন এবং পেশাদার খেলাধুলা একসঙ্গে পালন করা অসম্ভব কিছু নয়। আপনি যদি সঠিক পথের ওপর থাকেন তাহলে এটা একেবারেই সোজা।’ দক্ষিণ আফ্রিকার এক তরুণীকে বিয়ে করে দেশটির নাগরিকত্ব পান তাহির। এরপর ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে শত ম্যাচের বেশি খেলেছেন।

রজমান মাসে রোজা রাখা ও মাঠে নামা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি রমজান মাসের একটি রোজাও না ভাঙার। রোজা রেখেই মাঠে নামার চেষ্টা করে থাকি। তবে ক্রিকেটের কারণে যদি কোনোটি মিস করি তাহলে পরে সেটা আদায় করি।’ পাকিস্তানের লাহোরে জন্ম নেয়া ইমরান তাহির নিজের ধর্ম পালন নিয়ে আরো বলেন, ‘আমি দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত এক সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি। আমার পথ ঠিক রেখে ধর্মীয় রীতি পালন করা মোটেও কঠিন মনে হয় না। দলের কোচ এবং খেলোয়াড়রাও এ ব্যাপারে আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেন। এ কারণে আমি বরং বেশি সম্মান পাই। অনেকেই নিজেদের রুমে আমার নামাজের জায়গা করে দেন।’

Related posts