September 25, 2018

ধর্মীয় অবমাননার গুজবে যেভাবে লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষক

রফিকুল ইসলাম রফিক, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় এক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্মের প্রতি কটুক্তি করার অভিযোগ এনে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত ও স্থানীয় সংসদ সদস্য তাকে কান ধরে ওঠবস করানোর মতো শাস্থি প্রদান করায় ব্যাপক চা ল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসলামের অবমাননার বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটিসহ স্থানীয় বিচারক এবং স্কুলের অন্য কোন শিক্ষকেরই জানানেই বলে জানান। এ ব্যাপারে ওই প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য ম্যানেজিং কমিটির ষড়যন্ত্রের স্বিকার সে , তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের বন্দর কল্যানদি এলাকার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩ মে শুক্রবার ছিল স্কুল কমিটির নিয়মিত সভা। সভার অ্যাজেন্ডা ছিল উন্নয়ন মূলক বিষয়ক। সভার এক পর্যায়ে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ রিফাতকে ৮ মে শ্রেণীকক্ষে মারধর করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এক পর্যায়ে স্কুলের সামনের একটি মসজিদ থেকে হঠাৎ করেই মাইকে ঘোষনা করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইসলামের বিরুদ্ধে কটুক্তি করেছে। এবং সেখান থেকে এলাকাবাসিকে স্কুল মাঠে জড়ো হওয়ার ঘোষনা দেয়া হয়। পরে এলাকাবাসি স্কুলে প্রবেশ করে প্রধান শিক্ষককে মারধর করে এবং তাকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে সেখানে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতী নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যার্থ হলে ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে ডাকা হয়। সেলিম ওসমান উপস্থিত হয়ে জনপ্রকাশ্যে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। পরে তাকে পুলিশের হেফাজতে স্কুল থেকে বের করা হয়। পুলিশ তাকে চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ তিনশ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

১০ম শ্রেণীর ছাত্র রিফাত ও তার মা জানান ক্লাশে অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা হৈ চৈ করছিল। কিন্তু সে অভিযোগে রিফাতকে বেধরক মারধর করা হয়। পরে তারা বিষয়টি স্কুল কমিটিকে জানান।

শ্রেণী শিক্ষক জানান তার ক্লাশে হৈ চৈ চলছিল এ সময় প্রধান শিক্ষক ক্লাশে প্রবেশ করেন এবং রিফাতকে মারধর করেন। তবে ইসলামের বিরুদ্ধে কোন কটুক্তি নিজে শোনেননি তাকে ছাত্ররা জানিয়েছেন । স্কুলের ইসলাম ধরের শিক্ষক জানান ওই ছাত্রকে মারধর করে প্রধন শিক্ষক অনুতপ্ত হয়ে ছাত্রের বাসায় যান। তখনও কেউ ধর্মীয় ব্যাপারে কটুক্তির ব্যাপরটি জানায়নি।
ভক্সপপ: ঘটনার সময় উপস্থিত শ্রেণী শিক্ষক উত্তম সাহা ও ইসলাম ধর্মের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মাওলানা বোরহান উদ্দিন।

তারা জানান হঠাৎ করেই মাইকে ঘোষনা হয় ধর্মীয় অবমাননার ব্যাপারটি। আগে থেকে কেউই এ ব্যাপারটি জানতেন না।

তিনিও জানান একই কথা আগে কখনো এমস কথা শোনেননি। শুক্রবার জুম্মার দিন হিসেবে মসজিদে খোলাই ছিল। বাহির থেকে কয়েকজন এসে মাইকে ধর্মীয় অবমাননার ব্যাপারটি ঘোষনা করেন। তাদের কাউকে তিনি চেনন না বলে জানান।

তিনি জানান ঘটনার পর তারা খবর পেয়ে এসেছেন। ঘটনার পর তিন সদস্যের একটি কমিটি হয়েছে। তবে তিনি ঘটনার পর ঘটনাস্থলে এসেছেন জানালেও প্রধান শিক্ষককে হেনেস্থা করার সময় উপস্থিত রয়েছেন এমন একটি ভিডিও রয়েছে।

বন্দর থানার ওসি জানান প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ রয়েছে এমন খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তশ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কোন ব্যাপারেই কোন পক্ষ আগে থেকে থানায় কোন অভিযোগ করে নি।

তিনি জানান পুরো ঘটনাটিই সাজানো। ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে দ্বন্দের জের ধরে ওই ছাত্রকে দিয়ে বলিয়ে তার ওপর মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন ধরণেরে কটাক্ষ করেননি। সংখ্যালঘু একজন শিক্ষক দির্ঘদিন ধরে স্কুলটি পরিচালনা করছি । তাই আমাকে উচ্ছেদ করতেই কমিটির লোকজন ষড়যন্ত্র করে তাকে হেনেস্থা করে।

তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি টিভি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ফোনে তিনি জানিয়েছেন জনরোষ থেকে রক্ষা করতেই শিক্ষককে আমি শাস্থি দিয়েছি।

সচেতন মহলের দাবি শিক্ষককে অপসারন করতে বিশেষ মহল পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। হঠাৎ করে মাইকিং,সঙ্গে সঙ্গে লোকজন জড়ো,স্থানীয় সংসদ সদস্য সহ বিশেষ লোকজনদের উপস্থিতী,স্থানীয় সাংবাদিকদের না জানিয়ে বিদেশি মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ তাই প্রমান করে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৬ মে ২০১৬

Related posts