September 24, 2018

ধর্মমন্ত্রীর ঘোষণা

ঢাকাঃ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিপর্যয়ের অবসানের ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বেশ কয়েকটি হজ ফ্লাইট বাতিল হলেও হজযাত্রী পরিবহনে জটিলতা হবে না। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি এয়ারলাইন্স আশানুরূপ হজযাত্রী পরিবহন করলেও বাংলাদেশ বিমানকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১৩টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। তবে সৌদি সরকার নতুন করে ১৫টি স্লটের অনুমতি দিয়েছে। নতুন এসব স্লট পাওয়ায় হজযাত্রী পরিবহনে আর কোনো জটিলতা থাকবে না। ১৩টি ফ্লাইট বাতিল হলেও বিমানের ৩৫টি ফ্লাইটের প্রতিটির ধারণ ক্ষমতা ৩০০ থেকে বাড়িয়ে ৪১৯ জনে উন্নীত করার মাধ্যমে বাতিল ফ্লাইটের যাত্রীদের সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি দূতাবাস থেকে এ পর্যন্ত ৯২ হাজার ৫৬৮ জন হজযাত্রীর ভিসা হয়েছে এবং বাকি ভিসাও অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে।

হজযাত্রী পরিবহন নিয়ে সংকটে তার নীরবতার কারণ জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সংকটে নিশ্চুপ ছিলাম না, আলাপ-আলোচনা করেছি। কোনটা করলে সুবিধা হবে সেদিকে এগিয়েছি। হজ কার্যক্রমে নিজের সহকারী একান্ত সচিবসহ (এপিএস) অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারলে তাদের তাৎক্ষণিক ‘ডিসমিস’ করা হবে বলে জানান ধর্মমন্ত্রী। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি কোনো পয়সা খাই না। কিছু হজ এজেন্সি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করছে। এ রকম কিছু হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে পিছপা হব না। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর হজ হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে এবার এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন হজে যাবেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন শনিবার থেকে ফ্লাইট বিপর্যয়ের অবসানের কথা বলেছিলেন।

এদিকে অতিরিক্ত কোটায় এই মুহূর্তে কতজন হজযাত্রী হজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে তা জানতে এজেন্সিগুলোর কাছে তালিকা চেয়েছে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন্স অব বাংলাদেশ (হাব)। সোমবার তালিকা প্রদানের জন্য এজেন্সিগুলোর ক্ষুদে বার্তা এবং ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। হাব নেতারা জানিয়েছেন, দুয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত কোটার অনুমোদনের পত্র হাতে আসতে পারে। তার আগে কি পরিমাণ কোটা এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দরকার তা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হাব সৌদি সরকারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে হাব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি সংগঠনের ব্যানারে যারা আলাদাভাবে দাবি দাওয়া পেশ করছে এবং হাব নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে এমনকি হাবে প্রশাসক বসানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছে, তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হাব নেতারা বলেন, প্রয়োজনে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের হাব থেকে বহিষ্কার করা হবে। হাবের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন কয়েকজনের নেতৃতে দুটি সংগঠনের ব্যানারে হাবে প্রশাসক বসানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়।মানবজমিন

Related posts