September 21, 2018

ধর্মভিত্তিক সংবিধান চাই—তুর্কি স্পিকার

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  মুসলিম প্রধান তুরস্কের জন্য একটি ধর্মীয় সংবিধান প্রয়োজন এবং নতুন সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি বাদ দেয়া উচিত। এ মন্তব্য করেছেন তুর্কি পার্লামেন্টের স্পিকার ইসমাইল কাহরামান। গত সোমবার এক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

তুরস্কের নতুন সংবিধান প্রণয়নের বিষয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। নতুন মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির ক্ষমতাসীন একে পার্টি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে যাচ্ছে।

তুরস্কের বর্তমান সংবিধান প্রচলিত হয়েছে ১৯৮০ সালে। এক সামরিক অভ্যুত্থানের পর আধুনিক তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আতাতুর্ক দেশটির ক্ষমতা দখল করেন। তার প্রণীত সংবিধান তুরস্ককে কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতার বেড়াজালে আবদ্ধ করে। তিনি তুরস্কের প্রত্যেকটি ক্ষেত্র থেকে ইসলামের নাম-নিশানা মুছে ফেলেন। মসজিদগুলো বন্ধ করে দেয়া ছাড়াও উচ্চশব্দে আযানও নিষিদ্ধ করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগান ইতঃপূর্বে বর্তমান পার্লামেন্টারি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী ক্ষমতা দিয়ে সংবিধান প্রণয়নের কথা বলেছেন। তবে সরকার অঙ্গীকার করেছে নতুন সংবিধানে মানবাধিকারের ইউরোপীয় মান বজায় রাখা হবে।

তুর্কি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত সোমবারের ওই বক্তৃতায় স্পিকার বলেছেন, ‘নতুন সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকা উচিত নয়। সংবিধান ধর্মবহির্ভূত নয়, ধর্মভিত্তিক হওয়া দরকার।’

অবশ্য তিনি দেশটির বর্তমান সংবিধানকেও ধর্মীয় বলে অভিহিত করেছেন, কারণ বর্তমানে দেশে সরকারি ছুটির দিনগুলো ধর্মের ভিত্তিতেই নির্ধারিত। যদিও আল্লাহ শব্দটি একবারের জন্যও সংবিধানে উল্লেখ নেই।

স্পিকার হিসেবে ইসমাইল কাহরামান সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে কাজ করছেন। তবে তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টি সংবিধান থেকে সেক্যুলারিজম বাদ দেয়ার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে।

সংবিধান সংশোধনের মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই সরকারি দল একে পার্টির। পার্লামেন্টের ৫৫০টি আসনের মধ্যে অন্তত ৩৩০টি ভোট দরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য। একেপির বর্তমান আসন সংখ্যা ৩১৭টি।

তবে এই ইস্যুতে অন্যান্য দলের এমপিদের ভোট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এরদোগানের সরকার। যদিও বিরোধীদলীয় নেতাদের কথায় এর পক্ষে সমর্থন পাওয়া যায় না।

পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল ও সেকুলার সিএইচ পার্টির প্রধান কামাল কিলিদারও গলু সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় সেকুলারিজমের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। ন্যাটো জোটের সদস্য তুরস্ক তাদের পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দীর্ঘ দিন ধরেই মুসলিম প্রধান সেক্যুলার গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত।

সূত্র: রয়টার্স
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৭ এপ্রিল ২০১৬

Related posts