November 17, 2018

দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বিএনপি!

দ্বিমুখী চাপে পড়েছে বিএনপি। মামলা-গ্রেফতারে দলের সমর্থিত প্রার্থীসহ অনেক নেতাকর্মীই চলে যাচ্ছেন আড়ালে। প্রচার শুরু হলে তারা স্বাভাবিকভাবে তা করতে পারবেন কী না, তা নিয়েও শঙ্কা থাকছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ নেয় সেদিকেই তাকিয়ে আছে দল। পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের বশে আনতে কেন্দ্র থেকে অব্যাহভতাবে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

দেশের ২৩৫ পৌরসভায় ৩০ ডিসেম্বর ভোটকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষ হয়েছে রোববার। বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৩ ডিসেম্বর।

এই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে। এক্ষেত্রে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের সুযোগ রাখা হলেও কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্রভাবে আগের নিয়মে হবে। পৌর নির্বাচনে বিএনপি এরই মধ্যে ২৩৫ পৌরসভায় ধানের শীষ প্রতীকে তাদের একক প্রার্থীর মনোনয়ন নিশ্চিত করে সেগুলো নির্বাচন কমিশনে জমাও দিয়েছে।

পৌর নির্বাচনে সমন্বয় কমিটির দায়িত্বে থাকা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় তা একাধিকও রয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারে এখনো এক সপ্তাহ সময় আছে। এর মধ্যেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বশে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন দলের দায়িত্বশীলরা।

সরে দাড়ালে ভবিষ্যতে তাদের দলে ভালো অবস্থান দেওয়া হবে-এমন প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসনও যে কোনো উপায়ে প্রতিটি পৌরসভায় বিএনপির একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী রাতদিন কাজ করছেন দলের সমন্বয় কমিটি নেতারা।

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত, জেলা বিএনপির মতামত, দলের স্থানীয় প্রাক্তন মন্ত্রী-এমপির সুপারিশ, দায়িতপ্রাপ্ত নেতাদের পর্যবেক্ষণ ছাড়াও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গোপন জরিপের ফলের ভিত্তিতে মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেজন্য অনেক এলাকার প্রভাবশালী নেতার সুপারিশও বাস্তবায়ন হয়নি।

এরপরও বিভিন্ন জায়গায় বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে দলটি। প্রার্থীরা হয়রানি হওয়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন পৌরসভায় দেওয়া ডামি প্রার্থীরাই এখন বিএনপির গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। এরাই এখন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে গেছে।

এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটের প্রচারের আগেই পুলিশি ‘হয়রানি’তে চাপে পড়েছে বিএনপি। দলটির অভিযোগ, পৌর ভোটের আগে বিএনপি জোটের ‘সম্ভাব্য বিজয়ী’ প্রার্থীদের মিথ্যে মামলায় হয়রানি করে তাদের নির্বাচন কার্যক্রম থেকে দুরে রাখা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক প্রার্থী আত্মগোপনে রয়েছেন।

যেমনটি বলছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা-গ্রেফতার বেড়ে গেছে। এর মাধ্যমে একটি প্রহসনের নির্বাচন মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে।

হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির কিছুই করার নেই, মাথা ঘামানোরও প্রয়োজন নেই। যা কিছু করার পুলিশ বাহিনী আর মাস্তানরাই (সন্ত্রাসী) করবে। আওয়ামী লীগেরও মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই। পুলিশ বাহিনী তো আছেই। পুলিশ বাহিনী না পারলে নির্বাচন কমিশন আছেই।’

বিএনপির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার শুধু জামালপুর জেলার সাত উপজেলা থেকে ৮৫জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে এলাকায় নির্বাচনের পরিবর্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া একই দিনে নীলফামারীতে ৪৭, সাতক্ষীরায় ৩৫ ও চট্টগ্রামে ৬৩জনকে গ্রফতার করা হয়েছে বলে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্নস্থানে এভাবে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রিপন বলেন, ‘আশা করি, যতটুকু ব্যর্থতা আছে, তা স্বত্ত্বেও নির্বাচন প্রতিযোগিতামুলক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী যাতে নির্ভয়ে প্রচার চালাতে পারেন এবং কর্মীদের যাতে আর গ্রেফতার করা না হয়। ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পারেন।’

তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ না নেওয়া এবং মৌন আচরণে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কী না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করেন রিপন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts