June 22, 2018

দ্বিতীয় স্ত্রীর প্ররোচনায় বাবা আমার মাকে খুন করেন : ডা. পুষ্প

Oএ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ গল্লাক আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও মহিলা আওয়ামী লীগ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহিন সুলতানা ফেন্সি খুনের ঘটনায় পিতাকে অভিযুক্ত করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিহতের বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্ম ও ছোট মেয়ে ডাঃ ফাতিমা শাহিন পুষ্প। রোববার (১০ জুন) দুপুরে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে নিহতের পরিবারের সদস্যরা। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছোট কন্যা ডাঃ ফাতিমা শাহিন পুষ্প।

লিখিত বক্তব্যে পুষ্প বলেন, নিহত শাহিন সুলতানা ফেন্সি (তার মা) ও অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (পিতা) দীর্ঘ ৩২ বছর দাম্পত্য জীবন কাটান। তারা ৩ বোন বড় বোন বিবাহিত স্বামীসহ থাকেন ইটালি, দ্বিতীয় বোন বিবাহিত তিনি স্বামীসহ থাকেন জার্মানিতে এবং তিনি একজন চিকিৎসক। তার পিতা অ্যাড. জহিরুল ইসলাম গত ৪ বছর পূর্বে জুলেখা বেগম নামে এক বিবাহিতা এবং স্বামী পরিত্যাক্ত ২ সন্তানের জননী এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত তিনি সকলের অগোচরে ওই মহিলাকে বিয়ে করেন। শুনেছেন ওই মহিলার গর্ভে তখন একটি কন্যা সন্তান ছিলো। আমার বাবার এই অনৈতিক সম্পর্ক ও পরবর্তীতে বিবাহ করা আমরা বোনেরা এবং আমার মা কখনই মেনে নেয়নি। যা নিয়ে আমার মায়ের সাথে আমার বাবার প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো, আমার বাবা আমার মাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। আমার বাবা প্রকাশ্যেই আমার মাকে জীবন নাশের হুমকি দিতো এবং দ্বিতীয় স্ত্রীও মোবাইলে আমার মাকে হত্যার হুমকি দিতেন। যা আমরা বোনেরা বহুবার দেখেছি এবং শুনেছি।

পুষ্প আরো বলেন, মাকে হত্যার হুমকি শুনে সতর্ক করি এবং বিদেশে বড় বোনের কাছে চলে যাওয়ার জন্য বলি। কিন্তু মা বাবাকে একা ফেলে আমার বোনদের সাথে যাননি। যার কারণে ঘটনার দিন গত ৪ জুন সন্ধ্যা ৭.৩০ মি: পর রাতের কোন এক সময় আমার বাবা পুর্ব পরিকল্পনা মতে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর সহযোগিতা ও প্ররোচনায় আমার মাকে খুন করেন। পরববর্তীতে আমার পিতার ছোট ভাই নয়ন ও বোন রানুর সহযোগিতায় খুনের আলামত গুলো নষ্ট করে খুনকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।

নিহত ফেন্সির বড় মেয়ে ফারজানা শাহীন পদ্ম বলেন, মা জীবদ্দশায় আমাদের বলতেন আমার যদি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তাহলে তোমরা তোমার পিতাকে ছাড় দিওনা। আমার বাবাই যে খুনি এটি তার প্রমাণ। সুতরাং পাহাড় পরিমাণ কষ্ট নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অনুরোধ আপনারা অন্যায়ের সাথে আপোষ না করে সত্যটা তুলে ধরবেন। কারণ অ্যাড. জহিরুল ইসলাম চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তাঁর কাছেই যেহেত আমার মায়ের মত গুনি মানুষটি নিরাপদ ছিলেন না। তাহলে আপনাদের কারো মা, বোন, মেয়েই বর্তমানে নিরাপদে নেই।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত অধ্যক্ষ ফেন্সি খুনের ঘটনায় মামলার বাদী ছোট ভাই ফোরকান উদ্দিন খান, বড় ভাই নঈম উদ্দিন খান দাবী করেন কোন ভাবেই যাতে প্রকৃত খুনি আড়াল না হয়ে যায়। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মধ্যে প্রশ্ন করেন এবং বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক মির্জা জাকির, সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সহ-সভাপতি সোহেল রুশদী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলম পলাশ, প্রচার সম্পাদক এ.এইচ.এম. আহসান উল্যাহ ও সাংবাদিক রিয়াদ ফেরদৌস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নিহতের বড় ভাই নাছির উদ্দিন খান, জামাতা মো. আরিফ খান, চাচাত ভাই মো. মানিক খান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী খাদিজা আক্তার বেবী, বড় ভাইয়ের স্ত্রী শামসুন্নাহার আক্তার, ছোট ভাইয়ের ছেলে খান মশিউর রহমান, বড় ভাইয়ের ছেলে ইফতেখার আহমেদ, বড় ভাইয়ের মেয়ে রোমেনা সুলতানা।

তারিখ: ১০.০৬.২০১৮খ্রি.

Related posts