November 17, 2018

দেশে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা এখনও চলছেঃ তাসমিমা হোসেন

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ   নিউইয়র্ক সফররত দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ‘অনন্যা’ সম্পাদক ও প্রকাশ তাসমিমা হোসেন বলেছেন, দেশে বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। পচাত্তরের পণেরই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশ স্বৈরশাসক দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

ওয়ান-ইলাভেনের নায়করা দেশে বিরাজনীতিকরণ প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিল। জনগণ তা হতে দেয়নি। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকি সেন্টার প্রেসক্লাব আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ সব কথা বলেন তাসমিমা হোসেন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দর্পণ কবীরের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় নিউইয়র্কে কর্মরত বাংলাদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় তাসমিমা হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো আমলারা নিয়ন্ত্রণ করেন। তাই রাজনীতিবিদরা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেন না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিচক্ষণ ও তাঁর নেতৃত্ব বলিষ্ঠ ও আপোসহীন অভিহিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনায় দারুণভাবে সফল। তবে তাঁর চারপাশে ‘মোশতাক’ বেড়ে যাচ্ছে।

দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাসমিমা হোসেন বলেন, সকলে স্বাধীনভাবেই কাজ করছেন। আমি ইত্তেফাক পত্রিকা চালাচ্ছি। আমি কখনো কোনো সংবাদ নিয়ে কারো কাছ থেকে ফোন পাইনি। যারা টক শো’তে কথা বলছেন তারা কতটুকু যোগ্য বা কতটুকু নিরপেক্ষ? নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে মত দিতে পারেন এমন মানুষ আমাদের তৈরি করতে হবে। তিনি আরো বলেন-বর্তমান সরকারের সমালোচনা করতে গেলে অতীতের সরকারগুলোর কথাও বিবেচনা করতে হবে। তারা কী করেছিলেন-তা স্মরণ করতে হবে।

তিনি বিগত জাতীয় নির্বাচনকে সঠিক ও অপরিহার্য বলে উল্লেখ করে বলেন, বিএনপির উচিত ছিল নির্বাচনে আসা। তারা নির্বাচনে না এলে সংবিধান রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।

বাংলাদেশের মিডিয়ায় কালো টাকা ও ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির কথা উল্লেখ করে তাসমিমা হোসেন বলেন, সংবাদ পরিবেশনে সাংবাদিকদের সততা ও নৈতিকতা কঠোরভাবে বজায় রাখা উচিত। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা দেখি না। আমি নিজেও অপসাংবাকিতার শিকার হয়েছি।

কথা বলেছিলাম শব্দ দূষণ নিয়ে। কিন্তু আমার কথাকে রঙ চড়িয়ে একটি পত্রিকায় ছাপানো হয়েছিল।

তাসমিমা হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা যেই দলই করুন, তাদের আঁতুর ঘর হচ্ছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল বলে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশ হয়েছে বলে ভিন্ন মত ওপথের রাজনীতি করা যাচ্ছে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৩ মে ২০১৬

Related posts