September 21, 2018

‘দেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানো হয়েছে’

অমিত কুমার,
ঢাকা থেকেঃ
গোটা দেশে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) মঙ্গলবার দুপুরে ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ এর এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৩৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘জাতির সামনে আজ বহু সমস্যা। জাতিকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা হয়েছে। জাতিকে এমন অবস্থায় নেওয়া হয়েছে-জঙ্গী উত্থান হচ্ছে। বিদেশিরা হত্যা হচ্ছে। হিন্দু পুরোহিতরা মন্দিরে, বৌদ্ধ ভিক্ষু-খ্রিস্টান পাদ্রিরা গির্জায় এবং মুসলমানদের ইমামরা মসজিদে হত্যার শিকার হচ্ছেন। এ রকম পরিস্থিতি কোনোদিনই আসেনি। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প গোটা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা‘র সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপি চেয়ারম্যান ডঃ ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ডিএল সাধারন সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বিএমএল মহাসচিব এডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সাধারন সম্পাদক হুমায়ূন কবির বেপারী, জাতীয় দল মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, মনছুর আহমেদ প্রমুখ।

মাহবুবুর রহমান বলেছেন, দেশে একনায়কতন্ত্রের শাসন চলছে। দেশে একের পর এক হত্যা হচ্ছে আর সরকার চেয়ে চেয়ে সেটার তামাশা দেখছে। আমরা এখন অন্ধকার ঘরে আবদ্ধ। জাতি আজ দিশেহারা। এই জাতিকে পথ দেখাতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বলেন, মানুষ আজ খেতে পারছে না। দু-মুঠো ভাতের জন্য মানুষ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। আর দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা লুপাট করা হচ্ছে। আর সরকার বলে তারা মানুষের উন্নয়নে কাজ করছে। অসহায় নীরিহ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করে যারা মহোৎসব করছেন তাদের মুখে উন্নয়নের কথা শোভা পায় না। তিনি আরো বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দলকে আজ নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্র চলছে। তবে এই ষড়যন্ত্র তাদের সফল হবে না।

জাতীয় পার্টি মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহীদ জিয়া আজীবন অনুপ্রেরনার উৎস। শহীদ জিয়াউর রহমান আছেন এবং থাকবেন। কেউ তাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। যতদিন গণতন্ত্র সংকটে থাকবে ততদিন শহীদ জিয়া বার বার আমাদের সামনে থাকবেন।

জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান বলেন, শহীদ জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে টার্নিংপয়েন্ট। জীবিত জিয়ার চেয়ে আজ শহীদ জিয়া অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি বলেন, একজন মানুষ হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জন্ম গ্রহন করলেন আবার মারাও গেলেন। নিজের সাহসীকতা দিয়ে বাংলাদেশের জনগনের কাছে অমর হয়ে রইলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের মাঝে অমর হয়ে রইলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের মহানায়ক হিসাবে।

বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, মওলানা ভাসানী, জিয়াউর রহমানসহ দেশপ্রেমিক নায়ককে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি বলেছেন, তিনি বলেছেন, ১৯৮১ সালের ৩০মে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল কিন্তু, তিনি পরাজিত হননি। আজ বাংলাদেশে শহীদ জিয়াকে পরাজিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। শাসকগোষ্টি যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতন্ত্র হত্যা করে আবারো একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করছে তখন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রয়োজনীয়তা জাতি মর্মে মর্মে উবলব্ধি করছে।

খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বলেছেন, সরকারের ভুল রাজনীতি রাষ্ট্রকে গভীর সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে।  সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। জনগণ গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন পরিত্যাগ করে অগণতান্ত্রিক শক্তির আগমনে ভীত হয়ে পড়ছে।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, সরকারের ভুল রাজনীতি চলতে থাকলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনীতি অপসারিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অগণতান্ত্রিক রাজনীতির উত্থান ঘটতে পারে, যা হতে পারে ভয়ঙ্কর। তিনি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতিকে পদপ্রদর্শন করেছেন। স্বল্প সময়ে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রে পরিনত করার চেষ্টা করেছেন। আজ তার চরিত্র হননের যে অপচেষ্টা চলছে তা সত্যই নিন্দনিয়।

সভাপতির বক্তব্যে এডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, মানুষকে একবার ব্যালটের মাধ্যমে মতামত প্রকাশের সুযোগ দিলে দেশের মানুষ বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী ব্যালটের মাধ্যমে ইতিহাসের আস্তা কুঁড়ে আওয়ামী লীগকে নিক্ষেপ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লুটের ঘটনায় ড. ফরাস উদ্দিনের  দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে- এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারকে এ অর্থ লোপাটের দায়িত্ব বহন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে বিদেশে ৭০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। সরকারের ষড়যন্ত্র ছাড়া এ টাকা পাচার হতে পারে না।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৩১ মে ২০১৬

Related posts