September 26, 2018

দেশবাসী আবারও কবে এমন একটি নির্বাচন দেখতে পাবে?

Bangladesh Election

কানাডার কেন্দ্রীয়, ভারতের বিহার রাজ্যসভা ও মিয়ানমারের জাতীয় এ তিনটি সাম্প্রতিক নির্বাচন আমাদেরকে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন এবং তার মাধ্যমে কী অর্জন করা যায় তা দেখিয়েছে। এ তিনটি নির্বাচনের প্রতিটিরই বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তার মধ্যে বিহার ও সর্বশেষ অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের নির্বাচনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য রয়েছে। এই নির্বাচনগুলো স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমাদের দেশেও এমন আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কবে দেশবাসী আবারও এমন সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে পাবে?

কানাডার অতীত ইতিহাস ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এটি ইঙ্গিত দেয় যে এখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অপ্রত্যাশিত নয়। তাই এক নাগাড়ে দশ বছর ক্ষমতায় থাকা একটি দলের নির্বাচনে পরাজিত হওয়া কোন অস্বাভাবিক বিষয় নয়। নির্বাচনে লিবারেল পার্টির বিপুল বিজয় তাই কৌতূহল উদ্দীপক ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ৩৩৮ টি আসনের মধ্যে জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বে দলটি ১৮৪ আসনে জয় লাভ করে। কিন্তু এটিই শুধু মূল ঘটনা নয়। মজার বিষয় হচ্ছে, গত ২০১১ সালের নির্বাচনে এ দলটি মাত্র ৩৪ টি আসন লাভ করে যা সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৮৪ টি আসনে উন্নীত হয়। এককভাবে কোন দলের ১৫০টি আসনে জয়লাভ কানাডার ইতিহাসে প্রথম ঘটনা এবং ক্ষমতাসীন দলের তৃতীয় স্থানে অবস্থানও প্রথম।

বিহারের নির্বাচনটি আমাদের নিকট প্রতিবেশী দেশে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচন যার তাৎপর্য সবদিক থেকে ভিন্ন। এটা ছিল সকল পক্ষের মুখোমুখি প্রতিদন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন। ব্যক্তি, দল ও নির্বাচনি ইস্যু সব মিলিয়ে নির্বাচনটি ছিলো কঠিন ও তিক্ততাপূর্ণ। নির্বাচন যত নিকটবর্তী হয়েছে ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়ি ততো বেড়েছে। চির বৈরী নিতীশ কুমার, লালু প্রসাদ যাদব ও কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ঐক্যবদ্ধ হয়ে সম্মোহনী নেতা নরেদ্র মোদির বিজেপি জোটকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। টাইমস্ অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের বর্তমান অবস্থাকে স্থিতিস্থাপকতার নীতির শেষ সীমা বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলাদেশের নির্বাচনে সাম্প্রদায়িকতার অপব্যবহারের মত সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের রাজনীতিতেও সাম্প্রদায়িকতা ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। মুসলমান সম্প্রদায়ের গুরুর মাংস খাওয়া নিয়ে বিতর্ক ও তাকে ঘিরে সৃষ্ট উৎজনা এবং কয়েকটি স্থানে উগ্র হিন্দুদের আক্রমণে মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিহত হওয়ার সংবাদ যথেষ্ট ভীতিকর পরিস্থিতির তৈরী করেছে।

মিয়ানমারে ১৯৯১ সালে নোবেল বিজয়ী গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী অং সাং সুচির দল ইউএলডি বিজয়ী হলেও জান্তা সরকার তাকে ক্ষমতা হস্তান্তার না করে উল্টো গৃহবন্দী করে রাখে। কিন্তু এ নির্বাচনে সে দেশের জনগণ নিরঙ্কুশ রায়ের মাধ্যমে তার জবাব দেয়। বাংলাদেশ সৃষ্টির সময়ে অর্থাৎ ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর পাকিস্তানীগোষ্ঠী ক্ষমতা না দিয়ে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যার ফলে অনিবার্য হয়ে পড়ে আমাদের স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক এই তিনটি নির্বাচনের মত আমাদের দেশবাসীও কবে দেখতে পাবে এমন একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ আনন্দমুখর নির্বাচন যেখানে পরাজিত দল ভীতিকর অবস্থায় বসবাস করবে না?

ডেইলি স্টার থেকে ভাষান্তর: মুহম্মদ ইমাম হোসেন

গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts