December 10, 2018

দেউলিয়া হবার পথে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন !

সাইয়েদ কাজল, বরিশাল প্রতিনিধিঃ বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বরিশালের বিদ্যুৎ বিভাগ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ দিকে টাকার অভাবে এখন দেউলিয়া হবার পথে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন । এক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে এ কর্পোরেশনকে । অপর দিকে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ও বেতন ভাতা গত ৫ মাস পর্যšত বন্ধ রয়েছে টাকার অভাবে ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাছে( বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিষ্টান )ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর বরিশাল সার্কেলের ২ দুটি দপ্তরের পাওনা ২৭ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ টাকা। এ বকেয়া থাকার কারনে এ দপ্তর দুটি এবার রাজস্ব আদায় থেকে বি ত হবার আশংকা প্রকাশ করেছে খোদ সংশ্লিষ্ঠ বিভাগই । এ দিকে নগরীর রুপাতলী¯হ সিটি কর্পোরেশনের ২ টি পাম্প হাউজে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ওজোপাডিকোর বরিশাল সার্কেলের বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ-১ দপ্তর টি ঔ ২ টি পাম্প হাউজের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় গত ৩ রা নভেম্বর ফলে ঐ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরে। উভয় দপ্তর ভোগান্তির কথা স্বীকার করে একে অপরকে দায়ী করেছে ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওজোপাডিকোর এক কর্মকর্তা জানান সিটি কর্পোরেশনের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ২০০৫ সালের পূর্ব থেকে বর্তমান বছরের সেপ্টেম্বর! ১৬ পর্য্যন্ত বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর নব গঠিত কোম্পানী ওয়েষ্টজোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোং লিঃ এর বরিশাল সার্কেলের বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ -১ এবং বিক্রয় বিতরণ বিভাগ-২ দপ্তরের পাওনা প্রায় ২৭ কোটি ১১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ টাকা । যার মধ্যে বিক্রয় ও বিতরন বিভাগের  পাওনা ১৫কোটি ৪২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৩ টাকা এবং বিক্রয় ও বিতরন বিভাগ ২ এর পাওনা ১১ কোটি ২৮লাখ ৯৯ হাজার ২৭০ টাকা ।এ বকেয়া আদায়ের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে বার বার তাগিদা দেওয়া সত্বে ও তারা বিল পেিরশধে গড়িমসি করছে বার বার ।

ওজোপাডিকোর বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত্য রুপাতলী এলাকার লালা দিঘির পারে অব¯িহত সিটি কর্পোরেশনের পাম্প হাউজের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ঔ এলাকার টিয়াখালী এলাকার অপর পাম্প হাউজের বকেয়া প্রায় ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ফলে উর্ধ্ধতন কর্তপক্ষের নির্দেশে ঔ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় ।

এ দিকে সিটি কর্পোরেশনের পানি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান বিদ্যুৎ বিভাগ মিটার না দেখে ভৌতিক বিল করে আসছে । যা তাদের কে সংশোধনের জন্য তাদের দপ্তরে ঔ বিল প্রেরন করা হয়েছে। কিন্তু বিল সংশোধন না করেই তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরে বিষয় টি সমাধোনে জন্য সিটি কপোরেশনের এবং ওজোপাডিকোর মধ্যে বৈঠক হলে ও কোন সমঝোতা ছাড়া ই ঐ বৈঠক সমাপ্ত হয়েছে বলে সিটি করর্পেরেশন সূত্রে জানা গেছে ।

এ দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্নকৃত এলাকার পানির গ্রাহকরা জানান যে তাদের এলাকায় গ্রাহকের কোন পানির বিল বকেয়া না থাকা স্বত্বে ও এবং নিয়মিত সিটি ট্যাক্্য পরিশোধ করা স্বত্বে ও পাম্প হাউজের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার বিষয় টি রহস্যজনক ।
অপর দিকে সিটি কর্পোরেশনের হিসাবরংক্ষন কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান রাজস্ব আদায়ের উপর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন হয়ে থাকে । এবছর এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূর্ন না হওয়ায় কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা ৪ মাস যাবত বন্দ্ব রয়েছে । প্রতিমাসে সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের এবং অনিয়মিত কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় প্রায় আড়াই কোটি টাকার মত। সেখানে সিটি কর্পোরেশনের কোন মাসে আয় হয় এক থেকে দেড় কোটি টাকা আবার কোন মাসে তারও কম । ফলে বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করা সম্ভব হয় না ।

এ দিকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু জানান সিটি কর্পেরেশনের অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে । রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে । এ ছাড়া পূর্বের প্রায়ত শওকত হোসেন হিরনের অসু¯হতার সময়ের তিন মাস বেতন বকেয়া ছিলো । তা ছাড়া সরকারের দেয়া পে-স্কেলের বর্ধিত বেতন পরিশোধ হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের কোষাগার প্রায় শুণ্যের কোটায় ।

একটি সুত্র থেকে জানা গেছে রাজস্ব আদায়ের টাকা দিয়ে ¯হানীয় ঠিকাদারদের ঠিকাদারী কাজের বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকে । এ কারনে ও বেতন ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয় না ।

Related posts