November 19, 2018

দু’শতাব্দির রূপসা জমিদার বাড়ি নষ্ট হওয়ার পথে


এ কে আজাদ,
চাঁদপুর থেকেঃ  চাঁদপুর শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরের পাশে রূপসা বাজারের পশ্চিম দক্ষিণ কোনে নজর দিলেই চোখে পড়বে জমিদার প্রাসাদ। পাশেই কারুকার্জ খচিত একটি মসজিদ।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে একটি বিশল কবরস্থান। এর প্রতিটি ফলকে লেখা রয়েছে চিরনিন্দ্রায় শায়িত ব্যক্তিদের সুকর্মের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। পথ ধরে সামনে এগুলেই চোখে পড়বে ঘাঁট বাঁধানো বিশল বড় এক দীঘি।

তবে আগের সেই দীঘি এখন আর নেই। এর সোন্দর্য নষ্ট হওয়ার পথে। নষ্ট হওয়ার পথে রয়েছে জমিদার বাড়ির পুরো পরিবেশই।

বাড়িটির সামনে তাকালে নজরে পড়বে জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য সেই নস্কা খচিত কাছারি ঘর। প্রায় দু’শতাব্দির সেই পূর্বের কথা। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে রূপসার জমিদারদের গোড়াপত্তন।

গ্রামের নাম রূপসা। যখন এ অঞ্চলের বেশীরভাগ জনপদগুলো উন্নত সভ্যতার আলো দেখেনি। তখন থেকেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সুর্দীর্ঘ ঐতিহ্যই এই রূপসার রূপের অহংকার।

চাঁদপুর জেলার সু-প্রাচীন জনপদ ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা গ্রাম তখনও সমৃদ্ধ ছিলো। সমৃদ্ধশালী এই গ্রামটির গৌরবময় ইতিহাসের সাথে অংগাঙ্গী ভাবে জড়িত আছে এ গ্রামরে ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি।

ঊনিষ শতকের প্রথম ভাগে মোহাম্মদ গাজী এই জমিদার বাড়ির পরিবারের মধ্যে পত্তন করেন। সাধারণ ভাবে জমিদার বলতে মানুষের মনে যে জমিদারের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে সেই রকম জমিদার ছিলেন না আহমেদ গাজী। তিনি সাধারন মানুষের পাশে সব সময় ন্যাস্ত ছিলেন।

জনকল্যাণকর কাজের জন্য তিনি কৃষকদের মাঝে জমি ওয়াকফ করে দিয়েছেন। এছাড়া শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান অনন্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি আমূল কাজ করেছেন।

তার মধ্যে রূপসা আহম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, রূপসা আহম্মদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, রূপসা স্কুল উল্লেখ্যযোগ্য। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মানুরাগী। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে তিনি অকৃপণভাবে অনুদান দিয়েছেন। রূপসার সু-প্রাচীন মসজিদ তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন যা এখনো মানুষের চোখে পরার মত। এ ছাড়াও জীবদ্দশায় তিনি আরো অনেকগুলি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।

জমিদারবাড়ির ভেতরের অংশ ঘুরে দেখা যায়, বাড়ির অভ্যন্তরে আজো বসবাস করছে ওইসময়ে জমিদারদের কর্মচারী হিসেবে থাকা পাইক- পেয়াদা, সৈনিকদের প্রায় ৪০টি পরিবার।

আবার তাদের অনেকেই সেখানে জায়গা কিনে বসতবাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। নানা কারণে জমিদার বাড়ির অনেক সম্পত্তির মালিকও এখন তাদের প্রজা ও কর্মচারীরা।

ঐতিহাসিক স্থান চাঁদপুরের রূপসা জমিদার বাড়িতে জমিদারদের খাজনা আদায়ে অত্যাচার নির্যাতনের কোনো ভয়ঙ্কর স্মৃতি চিহ্ন নেই । তাইতো আজও সাধারণ মানুষের কাছে অনেক স্মরণীয় আর ভালবাসার স্থান হয়েছে রূপসা জমিদার বাড়ি।

চাঁদপুর জেলার মেঘনা নদীর উত্তর পাড়ের ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদার বাড়ির কথা। জমিদারের জমিদারি না থাকলেও এতটুকু সম্মান আর শ্রদ্ধাভোদের কোনো ঘাটতি হয়নি প্রজা প্রিয় জমিদারদের প্রতি সাধারণ মানুষের।

তাইতো এ এলাকার সাধারণ মানুষ আজো জমিদারদের পূণ্যময় কাজগুলোর প্রশংসা করতে ভুলেন না। জমিদারি প্রথা থাকাকালীন প্রজাদের খাজনার টাকায় ভোগ বিলাস না করে শিক্ষা শিক্ষার প্রসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অনেক কিছুই স্থাপন করে গেছেন জমিদাররা।

জমিদার বলতেই যে ধারনা মানুষের মাঝে -অত্যাচার বেবিচার জুলুম রূপশার জমিদারদের ক্ষেত্রে সেটির বিন্দুমাত্র নেই। সাধারনের মাঝে এই জমিদার ছিলেন সাধারন মানুষের কল্যানের জমিদার। কৃষক,শ্রমিক,ধর্ম,শিক্ষার প্রশার ঘটানোই ছিল রূপশা জমিদারদের মূল লক্ষ।

এলাকার মানুষের দাবি সরকারী ভাবে এই জমিদার বাড়ীটি যদি রক্ষনা-বেক্ষন করা যেত তা হলে দূর দুরান্ত থেকে মানূষ জন এখানে এসে জমিদারদের পুরনো নিদর্শন গুলো দেখতো। হয়তো এর ফলে এই এলাকার আরো অনেক উন্নতি হতো।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৯ মে ২০১৬

Related posts