September 23, 2018

দু’দলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে জামায়াত!

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভায় দুই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জয়ী হন। এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির তিন মেয়র প্রার্থী। তবে মূল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের ও বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলমের মধ্যে। এখানে জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। এরপরও নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী না দেয়ায় এক্ষেত্রে দুই প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণে জামায়াত ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ নানা ক্ষেত্রেই পিছিয়ে থাকা সাতকানিয়া পৌর এলাকার ভোটারদের প্রত্যাশা বুঝে প্রার্থীরাও সব ধরনের উন্নয়ন করে এলাকাকে ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তরের ঘোষণা দিচ্ছেন। তবে প্রার্থীদের এসব কথায় চেয়ে দলীয় প্রতীকই নির্বাচনে ভোটারদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। জয়-পরাজয়ের বিষয়টি প্রার্থীর চেয়ে দলের মান-সম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এ বিষয়ে ভোটাররা সচেতন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র নির্বাচনী তর্কে মশগুল সবাই। অন্যদিকে শীতল হাওয়া ও কুয়াশা উপেক্ষা করে প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি সর্বশেষ অনুষ্ঠিত সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার ছিল ২৭ হাজার ৮৩০। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৯২৯ পুরুষ আর মহিলা হচ্ছে ১৩ হাজার ৯০১। সে সময়ে বিএনপির প্রার্থী হাজী মোহাম্মদুর রহমান ৯ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের পান ৬ হাজার ৮৪ ভোট ও জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক জাফর সাদেক পান ৪ হাজার ৭০০ ভোট। এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৭০ জন।

এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি দুইবারের নির্বাচিত মেয়র হাজী মোহাম্মদুর রহমান। কয়েক মাস আগে তিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এছাড়া গতবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জোবায়ের এবার ফের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। অন্যদিকে দুইবার জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও এবার দলটি কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ কারণে ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে জামায়াত। বিষয়টি বুঝে জামায়াতকে টার্গেট করেই প্রচারণায় নেমেছেন দুই দলের প্রার্থী। এছাড়া দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও রয়েছে পৌর এলাকায়। ব্যক্তি ইমেজকে কাজে লাগিয়ে জামায়াতের ভোটে ভাগ বসাতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে হামলা-মামলায় বিপর্যস্ত জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সব ভোট বিএনপির ঘরে যাবে বলে প্রত্যাশা বিএনপির। এছাড়া ব্যক্তি ইমেজ থাকলেও শুধু দলীয় কোন্দলের কারণে কিছু ভোট হারাতে পারেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী।

এ বিষয়ে বিএনপি প্রার্থী হাজী রফিকুল আলম বলেন, জামায়াত আমাদের জোটের দল। সরকারের জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়া সব মানুষ আমাকে ভোট দেবে। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমার লোকজনকে হুমকি-ধমকি ও ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। এর ফলে ভোটাররা আতঙ্কে আছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষ রয়েছে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারলে নিশ্চিতভাবে আমি নির্বাচিত হবো।

জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ইউছুপ চৌধুরী বলেন, রাজনীতি আমি জন্মসূত্রে পেয়েছি। ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করছি। এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে হচ্ছে না। আমার পোস্টার সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনকে আরও নিরপেক্ষ হতে হবে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, সাতকানিয়ার রাস্তাঘাটের অবস্থা অবর্ণনীয়। সরু রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে পৌরসভাকে উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো পৌরসভার চিত্র পাল্টে দেব।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts