December 11, 2018

দুই বাংলার অংশগ্রহণে দেবব্রত বিশ্বাসের একশো পাঁচতম জন্মদিন

ঢাকাঃ দেবব্রত বিশ্বাসের একশো পাঁচতম জন্মদিনের প্রাক্কালে দুই বাংলার অংশগ্রহণে গত ১৭ আগস্ট অন্যরকম এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কলকাতার শিশির মঞ্চে। দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটির আয়োজনে একদিকে সামগ্রিক বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রবীন্দ্র চেতনার ছোঁয়া চিরচেনা দেবব্রত বিশ্বাসের সুরে আবারও একটু নতুন করে ছড়িয়ে দেয়া সকলের মনে। অন্যদিকে গানে ও কবিতায় বর্ষাকে বিদায় জানানো – এই ছিল অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটির সহ-সভাপতি ড. দেবব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর স্বাগত বক্তব্যে জর্জ দাকে প্রণাম জানিয়ে বলেন, শতবর্ষের সময় থেকে দেবব্রত বিশ্বাস স্মরণ কমিটি অনেকগুলি কাজ হাতে নিয়ে, এক এক করে আমরা সেগুলি সম্পাদন করে চলেছি – এর মূল প্রেরণা আপনারা (উপস্থিত সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন)। সবাই জানেন জর্জ বিশ্বাস সর্বজনীন; তিনি রবীন্দ্রনাথের গানকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সে অর্থে আমরা এখনো আমাদের কর্মকাণ্ডকে বিশ্বজনীন করে তুলতে পারি নি। আমরা চেষ্টা করে চলেছি – এজন্য সকলের সাহায্য চাই বলেও তিনি এ সময় উল্লেখ করেন। এরপর খ্যাতিমান সাহিত্যিক দেবেশ রায় তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেবব্রত বিশ্বাস সম্পর্কে বলেন, তিনি এখনো শিল্পি, এখনও প্রাসঙ্গিক।

তারপর পর বর্ষা নিয়ে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ স্বনামধন্য কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মহাদের সাহা ও নির্মলেন্দু গুণের কবিতা আবৃত্তি করেন বাংলাদেশের বাচিক শিল্পী বিধান চন্দ্র পাল ও ডালিয়া দাস।

উপস্থিত সকলকে দেবব্রত অনুরাগী এবং সেই সূত্রে একই পরিবারভূক্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে কর্ণাটক সরকারের প্রাক্তন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অধীপ চৌধুরী দেবব্রত বিশ্বাস স্মারক বক্তৃতা প্রদান করতে গিয়ে অনেকগুলি ঘটনা ও কাহিনী তুলে ধরেন। যেগুলির বেশিরভাগেরই তিনি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন অথবা তাঁর বাবা নবেন্দু চৌধুরীর কাছে থেকে শোনা। ‍তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেবব্রত বিশ্বাস তাঁর জীবনে গাওয়া সব গান, বই-চিরকুট, কাগজের বা কোন কিছুর সাহায্য নিয়ে গাননি; গানের জগতে এটা একটা বিরল ব্যতিক্রম।

অনুষ্ঠানে দেবব্রত বিশ্বাসের অপ্রকাশিত গানের একটি সিডিও প্রকাশিত হয়। ‘সব শেষ সঞ্চয়’ নামে প্রকাশিত এ সিডির মোড়ক উন্মোচন করেন শিল্পী পূরবী মুখোপাধ্যায়, বাংলাদেশের শিল্পী হামিদা হক এবং অধীপ চৌধুরী। প্রকাশিত এ সিডিতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ও আধুনিকসহ ৩৫টি গান। এগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল – ১৯৫৭ সালে কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া দ্বৈত সংগীত। এছাড়াও রয়েছে থামাও রিমিকি ঝিমিকি বরিষণ হে শ্রাবণ, তোমাদের দান যশের ডালায়, হারীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের লেখা হিন্দি চিনি ভাই ভাই, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কথা ও সুরে মাউন্টব্যাটেন মঙ্গল কাব্য এবং দেবব্রত বিশ্বাসের সহকর্মী নবেন্দু চৌধুরীর লেখায় ও দেবব্রত বিশ্বাসের সুরে চরণে তোমার দাও মোর ঠাঁই।

মোড়ক উন্মোচন করতে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হামিদা হক বলেন, কখন কীভাবে তাঁর (দেবব্রত বিশ্বাসের) কাছের মানুষ হয়ে গিয়েছিলাম বুঝতেও পারি নি। শিল্পী পূরবী মুখোপাধ্যায় অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, মানুষ তাঁকে এতো ভালোবাসে সেটা তিনি (দেবব্রত বিশ্বাস অর্থাৎ পূরবী মুখোপাধ্যায়ের জর্জ মামা) দেখে যেতে পারেন নি, এটাই আমার দুঃখ। উনার গান শেখানোর পদ্ধতি ছিল একেবারেই অন্যরকম উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথকে ও গানকে ভালোবাসতে শিখিয়েছেন তিনিই।

অপর আরেকটি সিডি ‘কি অমৃত তুমি’ পূজা পর্যায়ের গানের সংকলন আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রকাশ পাবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। যে এ্যালবামে ৪৬টি গানের মধ্যে পূরবী মুখোপাধ্যায় ও বনানী ঘোষের সঙ্গে দেবব্রত বিশ্বাসের গাওয়া দ্বৈত রবীন্দ্রসংগীত উল্লেখযোগ্য। এছাড়া একক সংগীতের মধ্যে শোনা যাবে সর্ব খর্ব তারে দহে, আমার এ ঘরে আপনার করে।

অনুষ্ঠানে ‘থামাও রিমিকি ঝিমিকি’ শিরোণামে রবীন্দ্রনাথের বর্ষা বিদায়ের গান পরিবেশন করেন স্বনামধন্য শিল্পী পূবালী দেবনাথ, রেখা চক্রবর্ত্তী, শ্রেয়া গুহ ঠাকুরতা ও শৌনক চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া দেবব্রত বিশ্বাসের গান শেখানোর ধারা বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে শিবাজী পাল বলেন, আমি দেবব্রত বিশ্বাসকে ফলো না করে কোন গান করি না।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তাপস চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ‘চিরপথের সঙ্গী’ নামে এপার বাংলা ও ওপার বাংলার লেখকদের লেখার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সুভেনিরও প্রকাশিত হয়।

Related posts