November 17, 2018

দুই বছরে ৩০ ভাগ কাজ করেছি : আনিসুল হক

hঢাকা::ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার পর গত দুই বছরে ৩০ ভাগ কাজ করেছি। আরো ৭০ ভাগ কাজ বাকি রয়েছে। এ বছর অনেক বাজেট পেয়েছি। এখন পরিকল্পনা করছি। সমস্যা ধরে ধরে সামনে আরো কাজ করা হবে।

‘ঢাকা উত্তর সিটি, প্রচেষ্টার দুই বছর’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় মেয়র আনিসুল হক এ কথা বলেন।

আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ডিএনসিসি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, নয়াদিগন্ত সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, বিএফইউজে সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, ইমদাদুল হক মিলন, পীর হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র আনিসুল হক দুই বছরের সফলতা তুলে ধরে বলেন, রাজধানীতে বিলবোর্ড ও ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণে অনেক মাস্তান ছিল, তাদের তাড়িয়েছি। যাদের কারণে আমাদের বিলবোর্ডে হাত দেয়া যেত না। ঢাকার সড়কে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর কারণে অনেক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এ পর্যন্ত ২০ হাজার বিলবোর্ড ও এক লাখ ৭৫ হাজার ব্যানার এবং ফেস্টুন অপসারণ করেছি।

মেয়র বলেন, আমরা দুই বছরে অনেক কাজ করেছি তা বলছি না, তবে একটা পরিকল্পনায় পৌঁছেছি। এই দুই বছরে আমি আমার পরিবার (ডিএনসিসি) চিনেছি, কাউন্সিলর-কর্মকর্তাদের চিনেছি। ঢাকা একটি ভিন্ন ধরনের শহর। বলা হয়, ঢাকা পৃথিবীর খারাপ শহরগুলোর মধ্যে প্রথম। নিচের দিক থেকে প্রথম। ঢাকা না কি বাসযোগ্য নয়। মেয়র হিসেবে আমি এতে একমত হতে পারি না।

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, ঢাকা শহর আসলে কত বড়? জাপানের টোকিওর আয়তন দুই হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার। যেখানে বাস করছেন এক কোটি ২২ হাজার মানুষ। ক্যানবোলার আয়তন ৮১৪ বর্গকিলোমিটার। বাস করছেন তিন লাখ ৫৬ হাজার মানুষ। মস্কোর আয়তন দুই হাজার ১৮৩ বর্গকিলোমিটার। লোক সংখ্যা এক কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার। সেখানে ঢাকা উত্তরের আয়তন মাত্র ৮৩ বর্গকিলোমিটার। এতে বাস করেন ৯০ লাখ মানুষ।

আনিসুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত মোট ৫৪টি স্থায়ী স্থাপনা, ৪৫০টি স্থায়ী অবকাঠামো, দুই হাজার ৭৬৭ অস্থায়ী অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে। জমি, ফুটপাত ও ভূমি উদ্ধার করা হয়েছে তিন লাখ ৩৪ হাজার বর্গফুট। আমরা বুঝে না বুঝেই কিছু সাহসী কাজ করে ফেলেছি। ১০টি স্থানে অবৈধ পার্কিং বন্ধ করেছি। বিভিন্ন দূতাবাসের দখলে থাকা ফুটপাত উদ্ধার করছি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমিতি আমাদের জন্য অসাধারণ কাজ করছে। কোনো কোনো স্থানে আমরা যা না করেছি, তারা তার চেয়ে বেশি করেছে। ডিএনসিসি এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

মেয়র আরো বলেন, আমরা ৫০টির মতো এসটিএস নির্মাণ করেছি। যাতে বড় ময়লাগুলো এখান থেকে ল্যান্ডফিলে নিয়ে যায়। কয়েকটি ওয়ার্ডে বেসরকারিভাবে দেয়া হয়েছে। তারা পরিষ্কার করছে। ভেহিকল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করেছি। ফলে একটি যানবাহন সিটি করপোরেশনের বাইরে গেলে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা সে সিস্টেম করে দিয়েছি। প্রশাসনিকভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছি।

ফুটপাত বেদখল বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, এ দেশে গরিব হকারদের পাশাপাশি বড়লোক হকারও আছেন। যারা বছরের পর বছর জনগণের জায়গা দখল করে রেখেছিলেন। আমরা অনেক জমি ও ফুটপাত উদ্ধার করেছি। আমরা ফাইভস্টার হোটেলের মতো ১২টি বাথরুম তৈরি করেছি।

ডিএনসিসির ‘নগর অ্যাপ’ প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, আমরা একটি নগর অ্যাপ করেছি। এখানে সব কিছু রয়েছে। আপনি চাইলে কোথায় কী আছে তা সহজেই জানতে পারবেন। এর সাথে পুলিশের একটা সংযোগ থাকবে। চাইলে ওয়াইফাইর মাধ্যমে আপনাকে ট্রাকিং করতে পারবে।

আনিসুল হক বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ১১টি ইউলুপ স্থাপন ও আরো এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩০০ রাস্তার উন্নয়ন কাজ করা হবে। এছাড়া রাজধানীতে চার হাজার আধুনিক বাস নামানো হবে। ঢাকায় ২৬৪টি ভেজালবিরোধী অভিযানে ৭৭ লাখ টাকা জরিমানা আদায়সহ এক হাজার সিসিটিভি লাগানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, মশার উৎপাত বেড়েছে। আগের বছরের চেয়ে এ বছর তিনগুণ বরাদ্দ বাড়িয়েছি। মশা মেয়রের বাড়িতেও আক্রমণ করে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের বাজাবে মেয়র বলেন, কোনো রাস্তা ছোট করা হয়নি বরং ফুটপাত বড় করা হয়েছে। ২৩টি খাল রয়েছে, যেগুলো আজ খুঁজে পাওয়া যায় না। খাল রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নয়। এটা ডিসি ও ওয়াসা করে। এরপরও আমরা তাদের সাথে বারবার বসেছি।

অনুষ্ঠানে আনিসুল হক বলেন, কারওয়ানবাজার ডিএনসিসির জন্য ৪০ থেকে ৫০ বছরের একটি বিষফোড়াঁ। গত ১৫ বছর ধরে ডিএনসিসির সাথে নেতাদের আলাপ-আলোচনা চলছে। কিন্তু বাজারটি সরাতে পারিনি। ইতোমধ্যে এর ২৩ বিঘা জমির মধ্যে পাঁচ বিঘা মুক্ত করেছি। বাকি ১৮ বিঘার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫ বিঘা জমি অল্প সময়ের মধ্যে খালি হয়ে যাবে। এরপর এ বছরের মধ্যেই এ বাজার সরিয়ে ফেলা হবে।

আনিসুল হক বলেন, আমার দুটি শক্তি। এক, আমি যেহেতু রাজনৈতিক ম্যান্ডেড নিয়ে নির্বাচিত হয়েছি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিয়ে চলতে হয় সেহেতু রাজনীতি আমার একটা শক্তি। অন্য শক্তি হচ্ছে, আমার জনগণ এবং আপনারা। আপনারাই আমার দ্বিতীয় শক্তি। এর বাইরে আমার কোনো শক্তি নেই।

Related posts