September 20, 2018

দিল্লিকে হারিয়ে প্লে অফে আরসিবি

স্পোর্টস ডেস্কঃ  অলৌকিক ফর্ম তার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর এই আইপিএল মিশনে অধিনায়ক বিরাট কোহলিই রাজা। শেষে যখন হারলেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়, তখন কোহলিতেই ভরসা আরসিবির। ঠাণ্ডা মাথার পরিশ্রমী এক ইনিংস খেললেন কোহলি। কোহলির ৪৫ বলে অপরাজিত ৫৪ রানে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসকে ৬ উইকেটে হারালো আরসিবি। তাতে দিল্লি ছিটকে পড়লো। চতুর্থ দল হিসেবে এবারের আইপিএলের প্লে অফ নিশ্চিত করলো আরসিবি। এই আসরে ১৪ ম্যাচে ৯১.৯০ গড়ে ৯১৯ রান এখন কোহলির! এদিনই ভেঙেছেন ৯০০ রানের মাইলফলক। শেষ ইনিংসটিতে কোহলি চার মেরেছেন ছয়টি। ছক্কা মারেননি একটিও। ম্যাচের সেরা তিনিই।

গ্রুপ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় আরসিবি। এক নম্বর দল গুজরাট লায়ন্সের সাথে ২৪ মে কোয়ালিফায়ার খেলবে আরসিবি। আর তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়া সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ২৫ মে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলবে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সাথে।

রবিবার রায়পুরের এই ম্যাচ জিতলে দিল্লি যেত প্লে অফে। আরসিবির সমান ১৪ পয়েন্ট ছিল তাদের। কিন্তু তারা ৮ উইকেটে করে ১৩৮ রান। চাপের দিনে এই রান তাড়া করতেও সময় লাগলো আরসিবি। ১৮.১ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৯ রান করে জিতেছে তারা।

কোহলি, ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, শেন ওয়াটসন। চার মূর্তীমান আতঙ্কের নাম। চারজনই আরসিবির। ১৩৯ রানের টার্গেট? এ আর এমন কি! কিন্তু ক্রিস মরিস ও দিল্লি অধিনায়ক জহীর খান মিলে ১৭ রানেই দুই উইকেট ফেলে দিলেন। গেইল ও ডি ভিলিয়ার্সের রানের যোগফল ৭! কিন্তু দরকার ছিল আসলে রান মেশিন কোহলির উইকেট। সেটা না পাওয়ার যন্ত্রণা হাড়ে হাড়ে টের পেলো দিল্লি।

৮৬৫ রান। ৫টি ফিফটি। ৪টি সেঞ্চুরি। এবারের আইপিএলে ১৩ ম্যাচে অর্জিত এই বিস্ময়কর পরিসংখ্যান নিয়ে কোহলির শুরু। হারলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। এমন অবস্থায় কোহলিকে হার মানলে চলে না। অধিনায়কের লড়াইয়ে যোগ দিয়ে লেকোশ রাহুলও চোখ কাড়লেন। শুরুতে রানে একবার অধিনায়ককেও টপকে গেলেন। মরিস তার হামলার শিকার হয়ে বিপর্যস্ত।

কোহলি শান্ত-সৌম্য। বিস্ফোরণ তোলেননি ব্যাটে। দেখেছেন ২৩ বলে কিভাবে তার চেয়ে বেশি আগ্রাসী খেলায় ৩৮ রান করে ফেললেন রাহুল।ব্যাট হয়ে বলটা আলস্যের সাথে যেভাবে বেল ফেললো তাকে রাহুল নিশ্চয়ই দুর্ভাগ্য মানবেন। ১০.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৩। ওয়াটসন ১৪ রান করে বিদায় নেওয়ার পর কোহলির ফিফটিটা হলো ৪০ বলে। দারুণ বিবেচক ফিফটি। শেষে স্টুয়ার্ট বিনি ১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে কোহলিকে সহায়তা করলেন। জয়সূচক রানটি নিয়ে বাতাসে উড়লেন কোহলি।  দেড় সপ্তাহ আগেও পয়েন্ট টেবিলের সাত নম্বরে ছিল আরসিবি। কোহলির ব্যাটের বীরত্বেই তারা গ্রুপ পর্ব শেষ করলো অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিতীয় স্থানে থেকে।

এর আগে দিল্লির ব্যাটিং দেখুন। এমন ম্যাচে ধারাবাহিক কুইন্টন ডি কক বাদে দিল্লির টপ ও মিডল অর্ডার ব্যর্থ। যেখানে ব্যাটসম্যানদের টিকে থেকে লড়ার কথা সেখানে সেই দৃঢ়তা দেখা গেল না। তরুণ রিশাব পান্ত দ্বিতীয় ওভারেই নেই। এরপরের উইকেটটা বোলার ইউভেন্দ্র চাহালের কাছ থেকে ফিল্ডার কোহলি দাবি করতেই পারেন! করুন নাইর (১১) বল তুলেছিলেন মিড অফে। স্প্রিন্টারের মতো দৌড়ে বলের ওপর পুরোটা সময় চোখ রেখে সেটিকে তালুবন্দী করেছেন কোহলি। অসাধারণ।

এরপর একটু বিরতি। কক একপ্রান্ত থেকে রান তুলছেন। সাঞ্জু স্যামসনের মাঝে টিকে থাকার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু লেগ স্পিনার চাহাল আইপিএলে স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্বল। স্যামসনকে ১৭ রান নিয়েই ফিরতে হয়। এরপর ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে অন্ধকারে দিল্লি। ৫২ বলে কক ৬০ রান করে ফিরে গেলে দিল্লির আর বড় কিছুর আশা থাকেনি। একই ওভারে দুটি উইকেট নিয়েছেন অফ স্পিনার গেইল। আট নম্বরে নেমে যাওয়া ক্রিস মরিস ক্যামেও ইনিংস খেলেছেন। ১৮ বলে তার অপরাজিত ২৭ রান না এলে দিল্লির সংগ্রহ যা দাঁড়িয়েছে তাও হয়না। ৩২ রানে ৩ উইকেট চাহালের। ১৯ উইকেট তার। আইপিএলে এখন সর্বোচ্চ উইকেট তার। বোলাররাই আসলে প্লে অফের পথ করে দেন আরসিবিকে। কোহলির ব্যাটে যা পায় পূর্ণতা।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৩ মে ২০১৬

Related posts