November 16, 2018

দিনে ক্ষতি পঞ্চাশলক্ষাধিক টাকা ! সিন্ডিকেট চক্রে আন্তর্জাতিক কল

আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে সাত আইজিডব্লিউ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে)। এই সাত অপারেটরের কারণে প্রতিদিন অন্তত অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর ক্ষতি হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট দেড় সেন্ট থেকে বাড়িয়ে দুই সেন্ট করায় বৈধপথে কল আসা কমে যাওয়ায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে সরকারের। কারণ, অবৈধপথে কল এলে হিসাবের বাইরে থাকায় সরকার তা থেকে রাজস্বও আদায় করতে পারছে না।

এই সিন্ডিকেটের কারণে মোবাইল অপারেটরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে নিয়োজিত অন্য অপারেটরগুলো ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ইউনিক ইনফোওয়ে, ডিজিকন টেলিকমিউনিকেশন্স, রুটস কমিউনিকেশন্স, গ্লোবাল ভয়েস, মীর টেলিকম, বাংলা ট্র্যাক ও নভো টেলিকম- এই সাত আইজিডব্লিউ অপারেটর বর্তমানে আন্তর্জাতিক কল পরিচালনা করছে।

‘টায়ার-২’তে থাকা এই অপারেটরগুলো অন্য আইজিডব্লিউ প্রতিষ্ঠানের কল ভাগাভাগি ও রাজস্ব আদায় করছে।

২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট থেকে এক টাকা ১৭ পয়সা (এক সেন্ট) থেকে বাড়িয়ে এক টাকা ৫৬ পয়সা (দুই সেন্ট) কার্যকর করে ওই সাত আইজিডব্লিউ অপারেটর।

কলরেট বাড়লেও সাত অপারেটরের সংগঠন আইজিডব্লিউ অপারেটর ফোরাম (আইওএফ) অতিরিক্ত আয় থেকে সরকারকে কোনো রাজস্ব দিচ্ছে না। এতে সরকার দিনে রাজস্ব হারাচ্ছে অর্ধ কোটি টাকারও বেশি।

পাশাপাশি বৈধ কল কমে যাওয়ায় বেড়েছে অবৈধ কলের পরিমাণ ও সংখ্যা। বর্তমানে দিনে প্রায় ৮ কোটি মিনিট ইনকামিং কল আসছে, যা আগে ছিলো ১২ কোটি মিনিট।

বিদেশ থেকে প্রতিটি কল আইজিডব্লিউ’র মাধ্যমে প্রবেশ করে। এরপর আইসিএক্সের (ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ) মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট অপারেটর বা এএনএসে যায়। অপারেটরগুলো গ্রাহকের ফোনে কল-সংযোগ দেয়।

বিটিআরসি’র কর্মকর্তারা বাংলানিউজকে জানান, প্রতি মিনিট কল থেকে যে আয় হয় তার ৪০ শতাংশ বিটিআরসি, ১৭.৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২.৫ শতাংশ মোবাইল অপারেটর এবং বাকী ২০ শতাংশ পায় আইজিডব্লিউ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা আরো বলেন, সরকার যেহেতু কলরেট বাড়ায়নি, সেহেতু সরকার রাজস্ব ভাগাভাগির টাকা আগের দেড় সেন্ট থেকেই প্রাপ্য হচ্ছেন। আধা সেন্টের অর্থ পুরোটাই পায় সাতটি আইজিডব্লিউ অপারেটর।

এই রাজস্ব হারানো এবং ক্ষতি কাটাতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন টেলিযোগাযোগ সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এই চক্র ভাঙতে সরকারের উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি বেসরকারি মোবাইল অপারেটরের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর।

আর বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মামুদ বাংলানিউজকে বলেন, আমরা চাই রাজস্ব যোগ হোক, এজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts